বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ক্রিকেটার নাঈমকে একা থাকতে নিষেধ, চলে গেলেন ঢাকায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটার নাঈমকে একা থাকতে নিষেধ, চলে গেলেন ঢাকায়

পিটিয়ে থানায় নেওয়া এবং থানায় হেনস্তার ঘটনার পর থেকে বিষণ্নতায় ভুগছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুই চিকিৎসক নাঈমকে দেখতে যান তার বাড়িতে। তারা নাঈমের সঙ্গে কথা বলেন। বিষণ্নতা কাটাতে নাঈমকে একা না রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রবিবার (১৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। বিকালে নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কামরুল আলম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে নাঈম হাসান বিষণ্নতায় ভুগছেন। তার বিষণ্নতা কাটাতে পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজন চেষ্টা করেছেন। বিসিবির চিকিৎসক তাকে একা রাখতে নিষেধ করেছেন। একা থাকলে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনে পড়বে। তখন মানসিক যন্ত্রণায় ভোগবেন। এ কারণে একা থাকতে মানা করেছেন চিকিৎসক।’

তিনি আরও জানান, নাঈম আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় বিমানে ঢাকায় চলে গেছেন। সেখানে অন্যান্য খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকলে বিষণ্নতা কেটে যাবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কামরুল আলম আরও বলেন, ‘আমার পরিবারের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে শুনেছি। শুধু প্রত্যাহার করলে হবে না। এ ঘটনায় ওসির সম্পৃক্ততা থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।’

নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও হেনস্তা করা হয়েছে। পরে বিসিবির কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। শনিবার রাতে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সিএমপি।

Ads small one

কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই আইসক্রিম তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) বেলা ১২:৩০টার দিকে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা মোড়ে অবস্থিত একটি আইসক্রিম কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান তানভীর এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা আদায় করেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসূত্রে জানা যায়, হেলাতলা মোড় এলাকায় আমানুল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে কোনোপ্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের উপাদান দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বেলা ১২:৩০টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবসায়ী আমানুল রহমানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার জন্য তাকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ)-র একটি চৌকস দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান তানভীর জানান, জনস্বার্থে ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

মাধক বিক্রেতাসহ সকল অপরাধীকে আইনের সোপর্দ করুন: ওসি শামীম আহমদ খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
মাধক বিক্রেতাসহ সকল অপরাধীকে আইনের সোপর্দ করুন: ওসি শামীম আহমদ খান

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাপ্তাহিক প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সকালে আশাশুনি থানা চত্বরে আয়োজিত প্যারেডে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

 

প্যারেডে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান। তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ হচ্ছে পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী বাহিনী। গ্রামের প্রতিটি এলাকায় তাদের উপস্থিতি থাকায় যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার সুযোগ থাকে। তাই প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, জুয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে জানাতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দেবেন এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হবে। এসময় নবাগত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার দাস, সেকেন্ড অফিসার এসআই রশিদুজ্জামান সহ থানার অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

শ্যামমগরের নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট থেকে ট্রাক ও চালকসহ ৭০ বস্তা ঝিনুক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামমগরের নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট থেকে ট্রাক ও চালকসহ ৭০ বস্তা ঝিনুক আটক

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): বন বিভাগের অভিযানে শ্যামনগর উপজেলার নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট এলাকা থেকে ৭০ বস্তা অবৈধ ঝিনুকবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালককে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের সদস্যরা নওয়াঁবেকি ফেরিঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৭০ বস্তা অবৈধ ঝিনুক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঝিনুক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি হলেন খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মৌজে শেখের ছেলে রিপন শেখ (৩০)।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে পরিবহন করা ৭০ বস্তা ঝিনুক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ঝিনুক ও জব্দকৃত ট্রাক বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের করে আসামি কে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে বনজ ও জলজ সম্পদ আহরণ, পরিবহন ও পাচারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়রা বন বিভাগের এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ ঝিনুক আহরণ ও পাচারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।