সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা, এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা, এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও থানায় হেনস্তার অভিযোগে চট্টগ্রামের খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে ক্রিকেটার নাঈমকে আটক করে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। প্রত্যাহার করা তিন পুলিশ হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবল।

ক্রিকেটার নাঈম হাসান রাতে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তার। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামার সংকেত দেন।

নাঈম হাসান বলেন, গাড়ি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই, পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু আমাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে আমাকে পেটান।

মারধরের সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায় জানিয়ে জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল—তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। মারধরের একপর্যায়ে তাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয়। ওসির কক্ষেও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে। ওসিকে তিনি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলেন তখন ওসি বারবার বলেন, চোখ নামিয়ে কথা বল। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।’

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’

খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখপ্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে।

Ads small one

টিআরএম বাস্তবায়নে সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী যুব ক্যাম্পেইন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
টিআরএম বাস্তবায়নে সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী যুব ক্যাম্পেইন শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচাতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে শুরু হওয়া বিশেষ জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি আজ দ্বিতীয় দিনে পদার্পণ করেছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে ক্যাম্পেইনের টিমটি সদর উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধতা প্রবণ ও নদী তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

‘সাস্টেইনেবল রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট (এসআরএম): অ্যাডাপ্টিং ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন দ্য সাউথওয়েস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় জনমানুষের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রচারণার আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক চত্বরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ এবং ‘সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব পানি কমিটি’র যৌথ উদ্যোগে এই মাঠপর্যায়ের ক্যাম্পেইনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ বাবু, দপ্তর সম্পাদক মহুয়া মঞ্জুয়ারা, সদস্য আব্দুল জব্বার মাস্টার, উত্তরণের প্রজেক্ট অফিসার দিলীপ কুমার সাহা, মনিটরিং অফিসার আল-আমীন মোল্যা, ফিল্ড অফিসার গোলাম হোসেন, যুব পানি কমিটির সহসভাপতি হাফিজা আফরোজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিমন নেছা শান্তা, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররম বিল্লাহ ইমনসহ পানি কমিটি ও যুব পানি কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আজ দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে যুব পানি কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন গ্রাম ও নদী অববাহিকা ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন। তারা তুলে ধরছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সনাতনী পদ্ধতিতে নদী বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সংকটের মূল কারণ নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, যা একমাত্র টিআরএম বা জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব।

আর এই টিআরএম আন্দোলনকে সফল করতে হলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। লিফলেট বিতরণ ও পথসভার মাধ্যমে টিআরএম-এর বৈজ্ঞানিক ও স্থানীয় সুফল সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী বলেন, উপকূলের নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে টিআরএম বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এই বার্তাটিই আমরা তরুণদের হাত ধরে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। স্থানীয় জনগণ যখন টিআরএম-এর সুফল পুরোপুরি বুঝতে পারবেন, তখন এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

উত্তরণ ও যুব পানি কমিটির যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক প্রচারণা ও গণসংযোগ কর্মসূচিটি আগামীকাল মঙ্গলবার সমাপনীর মাধ্যমে শেষ হবে।

 

 

কলারোয়ায় আড়াই বছরের ভোগান্তির অবসান: পশুহাট মোড়ের রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আড়াই বছরের ভোগান্তির অবসান: পশুহাট মোড়ের রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু

oppo_0

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে এগিয়ে এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। তাঁরই উদ্যোগে কলারোয়া পশুহাট মোড়ের দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির সংস্কার কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া পশুহাট মোড়ের এই রাস্তাটি বিগত প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে যেত, যার ফলে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল।

 

দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। ভোগান্তির বিষয়টি গত শনিবার দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এবং ইউএনও’র তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে দীর্ঘদিনের এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হতে চলায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জনদুর্ভোগ লাঘব করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ পথচারীরা।

 

স্থানীয় জনসাধারণ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কলারোয়ায় এমন একজন মানবিক ও কর্মতৎপর ইউএনও থাকলে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ সরকারের সব ধরনের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমুখী কার্যক্রম আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

 

 

পাইকগাছার সবচেয়ে লম্বা মানুষ কলিম শেখ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার সবচেয়ে লম্বা মানুষ কলিম শেখ

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছার সবচেয়ে লম্বা মানুষের সন্ধান মিলেছে। তিনি হলেন কলিম শেখ। তার উচ্চতা ৬ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা। উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়ানে তার বাড়ী। তিনি শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু অধিক লম্বা হওয়ায় তিনি পড়েছে বিড়াম্বানায়। অধিক লম্বা হওয়ায় তাকে কেউ কোন কাজে নিতে চায় না। একারণে স্ত্রী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কলিম শেখ জানান, অধিক লম্বা হওয়ায় তাকে কেউ কাজে নেয় না। মাটির কাজে জোড় না মেলায় বা মাথা সমান না হওয়ায় তার কাজ মেলে না। অধিক লম্বার কারণে হাট বাজারে দরজা বা বাঁশের আড়ায় আঘাত খেতে হয়। বিবিন্ন স্থানে টাঙ্গানো রশি গলায় বেধে যায়। কাজ না পওয়ায় তাকে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।