শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জনসমাগমকে সামনে রেখে বাসিজ মিলিশিয়াকে মোতায়েন এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পর দাফনের প্রস্তুতিকে ঘিরে খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত দ্রুত দাফনের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হয়।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ নয়, বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই প্রায় নিশ্চিত। কারণ ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।

তিনি বলেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ছাড় পাওয়াও সহজ।

তার ভাষ্য, ইরানের ফরেনসিক মর্গে অনেক সময় কয়েক মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চার মাস ধরে হিমায়িত অবস্থায় রাখা অস্বাভাবিক নয়। এটাই ‘ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ড’ অনুসরণের অংশ।

ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, জনসমক্ষে প্রদর্শনের মতো মরদেহের খুব বেশি অংশ নাও থাকতে পারে। বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনি নিহত হন। তার সঙ্গে নিহত অন্যদের কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

তার মতে, অক্ষত মরদেহ থাকলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল, দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তন বা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিত না করার প্রয়োজন পড়ত না। এটি মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও প্রদর্শনের উপযোগী না থাকার ইঙ্গিত দেয়।

উল্লেখ্য অপারেশন এপিক ফিউরির অংশ হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নিহত হন খামেনি। তিনি ৩৬ বছর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।

এদিকে, শনিবার ও রবিবার তেহরানে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৬ জুলাই শেষ বিদায় শোভাযাত্রায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। পরদিন শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র শহর কুমে আরেকটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, তেহরানে দুই কোটি, দেশজুড়ে সাড়ে তিন কোটি শোকাহত মানুষের উপস্থিতি, ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ১৪ হাজার সাংবাদিকের স্বীকৃতি এসব কেবল আয়োজনের বিষয় নয়, বরং একটি বার্তা।

সূত্র: ফক্স নিউজ

Ads small one

নিঃশব্দ বিদ্রোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
নিঃশব্দ বিদ্রোহ

 

জহুরুল হক জুলু
যারা ভেবেছিল
মানুষের কণ্ঠ চেপে রাখলেই
নদীর স্রোত থেমে যাবে,
তারা বোঝেনি-
জমে থাকা নীরবতাও একদিন
বজ্রের ভাষা শিখে নেয়।

এই নগরের বাতাসে আজ
অদ্ভুত এক ধাতব গন্ধ।
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অবিশ্বাসের কালো ছায়া।

চোখে চোখ পড়লেই
মানুষ এখন হিসেব কষে
কে বন্ধু, কে ছদ্মবেশী শত্রু।

একসময় বিকেলের মাঠে
শিশুরা দৌড়ে বেড়াতো পাখির মতো,
এখন সন্ধ্যা নামলেই
দরজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যায়।

মায়েরা জানালার ফাঁক দিয়ে
ফিরে আসা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে,
যেন প্রতিটি পদধ্বনি
ভয়ের কোনো সংবাদ বহন করে।

রাত গভীর হলে
অনেক ঘরে চুলা জ্বলে না,
তবু ক্ষুধার শব্দ
দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসে।

একজন বাবা অন্ধকারে বসে
নিজের হাত দুটো দেখেন—
কেন এত অসহায় লাগে আজ!
চারদিকে এত উচ্চারণ,
তবু সত্যের জন্য কোথাও জায়গা নেই।

মানুষের দীর্ঘশ্বাসগুলো
ধোঁয়ার মতো জমে আছে আকাশে।
যে মুখগুলো একদিন
স্বপ্নে দীপ্ত ছিল,
আজ সেখানে কেবল
ক্লান্ত সময়ের দাগ।

তোমরা শুনতে পাও না?
ভেঙে পড়া মানুষের বুকের ভেতর
কেমন প্রচ- শব্দ ওঠে!
সেটা কোনো ঝড় নয়,
কোনো সমুদ্রের গর্জনও নয়
সেটা বেঁচে থাকার শেষ আর্তি।

 

শুভ স্নান যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শুভ স্নান যাত্রা

 

 

বাপী নাগ
জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে পবিত্র
স্নানযাত্রা শুভ ক্ষণ।
স্নান যাত্রা’য় জাগে যে ভক্তের
অটল এ অনুরণন।
একশো আট’টি পবিত্র ঘড়ায়
মহাস্নান হয় আজ।
জগন্নাথ বলভদ্র ও সুভদ্রাকে
ভক্তি সোনার সাজ।

স্নানের পবিত্র ছোঁয়ায় দূর হয়
এই মনের ক্লান্তি।
প্রভুর চরণে নত হয়ে’ই মেলে
আজ চিরশান্তি।

বলভদ্র সুভদ্রা সনে মহা প্রভু
শ্রী জগন্নাথ মহান।
করুণা ধারায় ভাসিয়ে করেন
সুখ ও শান্তি দান।

নীলাচলের এই মহালীলা চির
পবিত্রতার এ জয়।
প্রভুর কৃপায় খুশি ভরে উঠুক
সবার জীবনময়।

পবিত্র মন ও ভক্তি নিয়ে করি
শ্রী’জগন্নাথে’র ধ্যান।
জয় শ্রী জগন্নাথ ধ্বনিতে ভরে
উঠুক এই মন প্রাণ।

শোধ নেবো বলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
শোধ নেবো বলে

মুকুল ম্রিয়মাণ
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি,
রাগের, ক্রোধের- উদ্ধত ফণাগুলো অবদমন হয়ে গেছে সেই কবে,
এখন কোনো অপার্থিব ইশারায় অগ্নিচুল্লিতে চুপচাপ ফুটছে সব নির্ঘুম শান্ত্রিক ফুল।
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি আজ অব্দি,
ডুবে গেছে সব সংক্ষুব্ধ আবেগ, উবে গেছে সব ক্রুদ্ধস্বর আর প্রতিশোধের প্রতিচিন্তা।
অনুরাগের বিপ্রতীপ আনাগোনায়
অবশ্যম্ভাবী ভাবেই থেমে গেছে সব প্রতিপাক্ষিক দুঃখ বিলাপ;
কার বিরুদ্ধে শোধ নেবো?কার বিরুদ্ধেইবা ছুঁড়বো বিষমাখা তীর?
শোধ নেবো বলে বলে আর শোধ নেয়া হয়নি-
রক্তকণা থেকে মুছে গেছে সব ঘৃণা ও ধ্বংসের কার্তুজ,
তার ছুঁড়ে দেওয়া ব্যথা ও পাপ প্রণোদনা তাই আজ হয়েছে এক সুবিশাল প্রেমের স্মারক।