মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জনসমাগমকে সামনে রেখে বাসিজ মিলিশিয়াকে মোতায়েন এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পর দাফনের প্রস্তুতিকে ঘিরে খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত দ্রুত দাফনের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হয়।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ নয়, বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই প্রায় নিশ্চিত। কারণ ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।

তিনি বলেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় ছাড় পাওয়াও সহজ।

তার ভাষ্য, ইরানের ফরেনসিক মর্গে অনেক সময় কয়েক মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চার মাস ধরে হিমায়িত অবস্থায় রাখা অস্বাভাবিক নয়। এটাই ‘ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ড’ অনুসরণের অংশ।

ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, জনসমক্ষে প্রদর্শনের মতো মরদেহের খুব বেশি অংশ নাও থাকতে পারে। বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনি নিহত হন। তার সঙ্গে নিহত অন্যদের কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

তার মতে, অক্ষত মরদেহ থাকলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল, দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তন বা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিত না করার প্রয়োজন পড়ত না। এটি মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও প্রদর্শনের উপযোগী না থাকার ইঙ্গিত দেয়।

উল্লেখ্য অপারেশন এপিক ফিউরির অংশ হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নিহত হন খামেনি। তিনি ৩৬ বছর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।

এদিকে, শনিবার ও রবিবার তেহরানে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৬ জুলাই শেষ বিদায় শোভাযাত্রায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। পরদিন শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র শহর কুমে আরেকটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, তেহরানে দুই কোটি, দেশজুড়ে সাড়ে তিন কোটি শোকাহত মানুষের উপস্থিতি, ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ১৪ হাজার সাংবাদিকের স্বীকৃতি এসব কেবল আয়োজনের বিষয় নয়, বরং একটি বার্তা।

সূত্র: ফক্স নিউজ

Ads small one

সুন্দরবন থেকে পাচারের সময় ২৩০ মেট্রিক টন কয়লাসহ ৯ জন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন থেকে পাচারের সময় ২৩০ মেট্রিক টন কয়লাসহ ৯ জন আটক

পত্রদূত ডেস্ক: অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ভোলা নদী থেকে ২৩০ টন কয়লা বোঝাই কার্গোসহ ৯ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ। হাসান ভান্ডারী নামের ওই কার্গোটি মোংলার জয়মনি থেকে কয়লা নিয়ে সুন্দরবন হয়ে পাথরঘাটায় যাচ্ছিল।

 

বনবিভাগের টহলকালে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কার্গোটিকে আটক করা হয়। শ্রমিক কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী কার্গোটি পাথরঘাটা আমুয়া এলাকায় যাচ্ছিল। কয়লা ক্রয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মোঃ তরিকুল ইসলাম (৩৪), দুলাল হাওলাদার (৩৪), মোঃ সুমন তালুকদার (২১), মোঃ নূর নবী হোসেন (৪২), মোঃ এনায়েত করিম (৪০), মোঃ ওবায়দুল (২২), মোঃ মামুন (২২), মোঃ লায়েক মিয়া (৫০) ও মোঃ কবির হোসেন (৪৫)। এদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা, মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

জব্দকৃত কয়লার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে মোংলার জয়মনি এলাকায় নোঙর করা মাদার ভ্যাসেল থেকে অবৈধভাবে এই কয়লা খালাস করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি বন বিভাগ। এঘটনায় শরণখোলা থানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান আইনে প্রথক দুটি মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ।

জব্দ কয়লা ও আটককৃতদের শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সরকারি বন সংরক্ষক মোঃ শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা শ্যামা প্রশাদ রায় বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। জব্দ কয়লা ও আটককৃতদের শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শ্যামনগরে প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন সোহাগের

সংবাদদাতা: শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো স্বপ্নের পথ রুদ্ধ করতে পারে না-তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সোহাগ হোসেন। জন্মগত প্রতিবন্ধকতা ও চলাচলের তীব্র অসুবিধা সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্যের অনুকম্পার মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে এই তরুণ।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হালদারের ছেলে সোহাগ হোসেন। জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পায়ে শক্তি পান না বললেই চলে; চলাফেরার একমাত্র সম্বল একজোড়া লাঠি। তবে জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার মানেননি তিনি।

অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অজুহাত বানিয়ে সহজ পথ বেছে নিলেও সোহাগ হেঁটেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। বর্তমানে তিনি নূরনগর বাজারের সর্বজনীন দুর্গামন্ডপসংলগ্ন সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। সেখানে তিনি বিক্রি করছেন নিজ বাড়িতে তৈরি হরেক রকমের সুস্বাদু কেক। সোহাগ জানান, ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়াও পাচ্ছেন।

পরিবারকে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বাড়িতে সম্পূর্ণ নিজস্ব উপায়ে মানসম্মত কেক তৈরিতে আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছেন আমার বড় বোন শারমিন সুলতানা এবং বাবা-মা। তাঁদের নিরলস সমর্থন না থাকলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না।”

সোহাগের আকুল আবেদন, সরকার বা কোনো সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে যদি তাঁকে এককালীন আর্থিক সহায়তা কিংবা কম্পিউটার বিষয়ের ওপর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, তবে তিনি আরও বড় পরিসরে নিজের আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারতেন এবং সমাজে আরও উন্নত জীবনযাপন করতে পারতেন।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই অনন্য প্রয়াস স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সুশীল সমাজের মতে, সোহাগের মতো আত্মপ্রত্যয়ী তরুণদের পাশে যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দাঁড়ায়, তবে তাঁরা সমাজের বোঝা না হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারেন।

 

যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন

বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ (মঙ্গলবার) সকালে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে যশোরের আরবপুর ইউনিয়নের আদিবাসী সর্বজনীন পূজাম-প, দেয়াড়া চান্দুটিয়া পূজামন্ডপ, চুড়ামনকাটি দাসপাড়া মন্দির, কাশিমপুর বিজয়নগর কুন্ডুপাড়া মন্দির, নওয়াপাড়া বাহাদুরপুর সর্বজনীন পূজাম-পসহ বিভিন্ন পূজাম-প পরির্দশন ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবমূখর পরিবেশে এবারের দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে। দেশের সকল স্তরের মানুষ নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানের উন্নয়নের পাশাপাশি সরকার মন্দির ও শ্মশানঘাটগুলোর উন্নয়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে হবে। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সন্তানদের সতর্ক করে দিবেন। মাদক সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে। তাদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গুরুত্বসহকারে জানাতে হবে। খেলাধুলার মান উন্নয়নে যশোর জেলা স্টেডিয়াম নতুনভাবে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ হাসপাতালে দ্রুত করোনারী চিকিৎসা সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এখানে হৃদরোগের চিকিৎসা হবে, আপনাদের আর বিদেশে যেতে হবে না। তিনি নতুনভাবে যশোরকে গড়তে ও সাজাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে তিনি চাঁচড়া ইউনিয়নের বর্মনপাড়া মন্দির, রামনগর বাজুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন মন্দির, নরেন্দ্রপুরের রূপদিয়া বাজার কালী মন্দির, কচুয়া রায়মানিক পূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেন।

বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল ১৯ অক্টোবর রাতে যশোর চৌরাস্তা পূজাম-প, সুধীর ঘোষ পূজাম-প, বেজপাড়া সার্বজনীন পূজাম-প, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম পূজাম-পসহ বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তথ্যবিবরণী