মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

শব্দ, মাটি ও দ্রোহের সমীকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
শব্দ, মাটি ও দ্রোহের সমীকরণ

মোঃ রুহুল আমিন
সাহিত্যের ব্যাকরণ ও নতুন ধারার অভ্যুদয়
সাহিত্যের ইতিহাস কোনো স্থির নদী নয়; তা মূলত মানুষের সমাজ-সংগ্রাম, রাষ্ট্রীয় ভাঙাগড়া এবং সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এক গতিশীল ধারা। একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাহিত্যিক আভিজাত্য যখন মেকি ভদ্রতা ও শব্দবিলাসের বৃত্তে বন্দী হয়ে পড়ে, তখনই কোনো এক কালজয়ী স্রষ্টার হাত ধরে জন্ম নেয় নতুন প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লব। সমসাময়িক বাংলা কবিতার আকাশে রেশম লতা ঠিক তেমনই এক আপসহীন, দূরদর্শী এবং ‘নতুন ধারা’র অগ্রণী ও বিপ্লবী কণ্ঠস্বর। প্রথাগত কাব্যের তথাকথিত শুদ্ধ বা মার্জিত ভাষার দেয়াল ধসিয়ে দিয়ে তিনি যেভাবে মাটির কাছাকাছি কথ্য ও আঞ্চলিক ভাষাকে প্রতিবাদের সর্বাধুনিক রাজনৈতিক হাতিয়ার করে তুলেছেন, তা সমকালের সাহিত্যে এক যুগান্তকারী ঘটনা। তাঁর জীবন ও তাঁর কবিতা—উভয়ই মূলত একই মোহনায় এসে মিশেছে, যার এক প্রান্তে রয়েছে গভীর অ্যাকাডেমিক মননশীলতা এবং অন্য প্রান্তে রয়েছে গণমানুষের প্রতি তীব্র সামাজিক দায়বদ্ধতা।
শিকড় থেকে গবেষক সত্তার প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরণ। রেশম লতার জীবন আলেখ্যের দিকে গভীরভাবে নজর দিলে দেখা যায়, তাঁর সাহিত্যিক চেতনার মজবুত ভিত্তিটি তৈরি হয়েছে বাংলার লোকজ মাটি ও প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার এক অনন্য মেলবন্ধনে।
জন্ম, পরিবার ও শৈশবের আবহ: রেশম লতার জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বুধি গ্রামে। নেত্রকোণার উর্বর লোকজ ঐতিহ্য, বাউল সাধনা এবং মৈমনসিংহ গীতিকার আবহ তাঁর শৈশবেই মনের অবচেতনে সাহিত্যের গভীর বীজ রোপণ করেছিল। তাঁর পিতা আছকর আলী এবং মাতা আসমা বেগম। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। একটি বৃহৎ ও একান্নবর্তী পারিবারিক আবহে বড় হওয়ার কারণে মানুষের মনস্তত্ত্ব, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক বৈষম্যকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর।
তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন অত্যন্ত গৌরবময় ও নিয়মতান্ত্রিক। তিনি ২০১৩ সালে পূর্বধলা উচ্চ বিদ্যালয় হতে সফলতার সাথে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার তাগিদে তিনি ঢাকা সংলগ্ন অঞ্চলে চলে আসেন এবং ২০১৯ সালে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান/অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২০ সালে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ হতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি লাভ করার পরও তাঁর সাহিত্যের তৃষ্ণা নিভে যায়নি। ফলশ্রুতিতে তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হতে পুনরায় একই বিষয়ে (বাংলা) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বোচ্চ শিখর ছোঁয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধীনে একজন এম.ফিল গবেষক হিসেবে অধ্যয়নরত আছেন।
কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে বেছে নেন। প্রথমে গাজীপুর অগ্রণী মডেল কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক এবং পরবর্তীতে গাজীপুর সাইফুদ্দিন মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এই শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কর্মজীবন তাঁকে তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরকার ক্ষয়িষ্ণু রূপ এবং সমাজ কাঠামোর অবক্ষয়কে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ ও ব্যবচ্ছেদ করার সুযোগ করে দেয়।
একজন মননশীল গবেষক হিসেবে তাঁর ভূমিকা সম্বলিত প্রকাশিত দুটি কালজয়ী গ্রন্থ হলো—কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস ‘অহিংসা’ এবং বাংলা লোক-সাহিত্যের অমূল্য আকর ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’। এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় তাঁর রচিত শতাধিক সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ, নিখুঁত অনুবাদ, কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে।
চার কবিতার নিবিড় ও দীর্ঘ ভাব বিশ্লেষণ।
রেশম লতার কবিতা কেবল সুন্দরের আরাধনা কিংবা বায়বীয় কল্পনাবিলাসের বৃত্তে বন্দী নয়, বরং তা সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক জ্বলন্ত প্রতিরোধ। তাঁর চারটি বহুল আলোচিত কবিতার ব্যবচ্ছেদ করলে তাঁর বৈপ্লবিক দর্শনের গভীরতা ও রূপকের বহুমাত্রিক ব্যবহার স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
কণ্ঠরোধের রাজনীতি ও শোষণের উপহাস
‘নেয়ামত’ কবিতায় কবি অত্যন্ত তীব্র ও ধারালো শ্লেষের (ঝধঃরৎব) সাহায্যে স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর নগ্ন ও বীভৎস রূপ উন্মোচন করেছেন। কবিতার শুরুতেই আঞ্চলিক ভাষায় চরম বিরাগ ও হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়—“দেশ হান্দায়া গেছে / যাক। তোরা বাঁইচ্চা থাক।” এটি মূলত দেশের সংকটে সাধারণ মানুষের এক ধরনের অসহায় আত্মসমর্পণ।
কবি দেখিয়েছেন কীভাবে শাসক শ্রেণী সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করে তাকে তোষামোদের সংস্কৃতি গেলাতে চায়:
“নতুন বাবা আইছে তার পায়ে চুমা দিবা তিনখান / মাইকে বয়ান, ‘চুপ থাকা সবচেয়ে বড় নেয়ামত।’”
এখানে ‘নেয়ামত’ শব্দটি চরম ব্যঙ্গাত্মক ও পরিহাসমূলক। যখন রাষ্ট্র বা সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয় এবং সেই আপসহীন নীরবতাকেই ‘শান্তি বা পরম নেয়ামত’ বলে প্রচার করে, কবি তখন তাঁর কলমকে চাবুক বানিয়ে তোলেন। “নুনেরচে এহন খুনের দাম কম”—লাইনটির মাধ্যমে তিনি বিচারহীনতার এক ভয়াবহ, সস্তা এবং অমানবিক বাস্তবতাকে আমাদের সামনে নগ্নভাবে দাঁড় করিয়ে দেন।
জাতীয় সংকট ও সান্ত¡নার তোষামোদ
‘একগাট্টি মুলা’ কবিতাটি গণমানুষের হাহাকার এবং বিপরীতে শাসকগোষ্ঠীর চরম উদাসীনতার এক জীবন্ত রাজনৈতিক দলিল। যখন পুরো দেশ কোনো এক জাতীয় মহাসংকটে বা আন্দোলনে পুড়ছে (‘আমার সোনার দেশ পুইড়া কেমুন অঙ্গার হইতাছে’), তখন রাষ্ট্রযন্ত্র ও একশ্রেণীর মেরুদ-হীন চাটুকার গণমাধ্যম ব্যস্ত থাকে উৎসব ও প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতায় (‘সারাদেশে একযোগে জুলাই সনদ স্বাক্ষর উপলক্ষে অনুষ্ঠান’)।
কবি সাধারণ মানুষের ঈশ্বরমুখী অসহায়ত্ব দেখানোর পাশাপাশি নেতার চূড়ান্ত স্তরের দায়িত্বহীনতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে:
“চুপ কর শালারা আমার লেতা এহন নাকে তেল দিয়া ঘুমাইব ; কাইল তার বিদেশ সফরথথ / এয়ারপোর্টে হাত বান্ধিস একগাট্টি মুলা দিমুনে-”
এখানে ‘একগাট্টি মুলা’ একটি অভাবনীয় ও শক্তিশালী রূপক। এর অর্থ হলো, শোষিত ও অধিকারবঞ্চিত জনগণকে তাদের রাষ্ট্রীয় ও মানবিক ন্যায্য পাওনা না দিয়ে সান্ত¡না পুরস্কার হিসেবে সস্তা উপহাস বা অন্তসারশূন্য মিথ্যা আশ্বাস ছুঁড়ে দেওয়া হয়, যা জনগণের সাথে এক ধরনের পরিহাস।
ফ্যাসিবাদের আগ্রাসন ও মনস্তাত্ত্বিক অবদমন-এই কবিতাটিতে রেশম লতা গ্রামীণ ঐতিহ্য, স্মৃতিকাতরতা এবং সমকালীন ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনকে এক সুতোয় বেঁধেছেন। অতীতে যেখানে ‘মিনাফুফির জিরনখালে খাজনার বাঁশি’ বাজতো, অর্থাৎ গ্রামীণ জীবন যেখানে মুখরিত, স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীন ছিল, আজ ফ্যাসিবাদের (কবিতার ভাষায়: নাৎসিত্ব) ছোঁয়ায় তা ‘হাঞ্জারমাঠ’ বা উষর প্রান্তরে পরিণত হয়েছে।
সমাজে যখন অন্যায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এক প্রকার ভয়ের সংস্কৃতিতে (ঈঁষঃঁৎব ড়ভ ঋবধৎ) শামিল হয়। কবি এই মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব ও ভীরুতাকে চিহ্নিত করেছেন নিখুঁতভাবে:
“আমরা অতিথি সাইজে দেহি আর হাততালি দেই / য্যামনে হাতুড়ি পেটা কইরা আমার কইলজা ভাঙছে / তয় কই না কিছুই, পাপের ভারে ঠোঁট চাইপে থাহে”
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলার যে গোপন অপরাধবোধ ও মানসিক যন্ত্রণা, তা গ্রাস করছে পুরো সমাজকে। কবি আক্ষেপ করে বলেছেন, যদি মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে কলম ধরতো, তবে হয়তো এক নতুন ইতিহাস তৈরি হতো। কিন্তু মানুষের সেই অক্ষমতাকে বালিশের কাছে গোপন কান্নার সাথে তুলনা করা হয়েছে (‘বালিশ যদি নালিশ করে গোপন অত্যাচারে’)।
সাংস্কৃতিক দাসত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের ইশতেহার এই কবিতায় রেশম লতা সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসযজ্ঞের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছেন। যখন কোনো সমাজে ‘বাংলা, ইতিহাস, দর্শন’ এর মতো মননশীল চর্চাকে বন্ধ করে দিয়ে ‘দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ’ এর মতো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তখন সমাজটি একটি মেকি উন্নতমানের শিক্ষা কর্মশালায় পরিণত হয়।
কবি এখানে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর ভিনদেশী অপসংস্কৃতির (যেমন: ‘বঙ্গের হিন্দি নাইচ’) আগ্রাসনকে তীব্র উপহাস করেছেন। চাটুকার ‘উল্লুকের দল’ যখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ঘুমিয়ে থাকে, কবি তখন তাদের জাগিয়ে তোলার জন্য ডাক দেন:
“ওরে উল্লুকের দল আয়, আন্দা হইয়া না ঘুমাইয়া / ল এক্কান কপতে লিখি।”
এখানে ‘কপতে’ বা কবিতা লেখা কেবল কোনো ছন্দ মেলানোর খেলা নয়; এটি হলো চেতনার ঘুম ভাঙানোর এবং কলমের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এক বৈপ্লবিক ইশতেহার।
রেশম লতাকে বাংলা সাহিত্যে কেন ‘নতুন ধারা’র প্রবক্তা বলা হয়, তা তাঁর কাব্যশৈলী বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়।
কথ্য ও আঞ্চলিক ভাষার বৈপ্লবিক উপযোগিতা: বাংলা কবিতায় আঞ্চলিক ভাষা এর আগে মূলত হাস্যরস কিংবা গ্রামীণ আবহ তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু রেশম লতা ‘হান্দায়া’, ‘পিন্দায়া’, ‘বেত্তমিজ’, ‘এক্কান’, ‘কপতে’, ‘লাহান’ এর মতো খাঁটি লোকজ শব্দগুলোকে প্রতিবাদের এক একটি ধারালো বুলেটে রূপান্তরিত করেছেন
পাবলিক স্যাটায়ার বা সামাজিক শ্লেষ: তিনি সরাসরি শ্লোগান না দিয়ে কবিতার ভেতর রূপক, উপহাস ও শ্লেষের এমন এক জাল বোনেন, যা পাঠকের মগজে গিয়ে সরাসরি আঘাত করে। তাঁর ব্যঙ্গ এতটাই ধারালো যে তা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভন্ডামিকে এক নিমেষে নগ্ন করে দেয়।
অ্যাকাডেমিক মনন ও দ্রোহের সমীকরণ: একজন এম.ফিল গবেষক এবং বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক হওয়ার কারণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা মৈমনসিংহ গীতিকার সমাজবাস্তবতা ও লোকায়ত জীবনের দর্শন তিনি ধারণ করেছেন। আর সেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞাকেই তিনি তাঁর কবিতায় বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, রেশম লতা কেবল একজন নিছক কবি বা গবেষক নন, তিনি তাঁর সময়ের এক সাহসী ঐতিহাসিক দলিল লেখক তাঁর জীবন ও সৃষ্টি একে অপরের পরিপূরক। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গভীর আলোয় আলোকিত হয়েও তিনি ভুলে যাননি তাঁর শেকড়ের মাটিকে, ভুলে যাননি শোষিত মানুষের ভাষাকে। ‘নেয়ামত’ থেকে ‘ল এক্কান কপতে লিখি’—প্রতিটি সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় যে নতুন ধারা ও বিপ্লবী ভাবনার জন্ম দিয়েছেন, তা সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে এক অনন্য, অপরিহার্য ও দীর্ঘস্থায়ী আসন দান করেছে।

Ads small one

আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাজরা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে কাপসন্ডা বাজারে উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন বুলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. ইউনুছ আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, খাজরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর সাত্তার গাজী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবাদুল গাজী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান প্রমুখ। কর্মসূচিতে এসময় বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অহিদুল মোল্লা অংশগ্রহণ করেন। তারা দাবী করেন, উক্ত অহিদুল মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একাধিক মামলার আসামী।

 

বক্তারা আরো বলেন, বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতা তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাকে দলে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে এভাবে চিহ্নিত কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির মঞ্চে গ্রহণ করাকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কিছুতেই মেনে নেবে না। বক্তারা এসময় বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল মোল্লার গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি যাতে কোনোভাবেই বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: সাক্ষরতা অর্জন করি, উন্নত জীবন গড়ি”—এমন প্রত্যয়কে সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় এনে দক্ষ ও সচেতন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা সন্তোষস্বর সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাক্ষরতার গুরুত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ বছর মেয়াদী অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট ইন ফাইন আর্টস, কম্পিউটার টেকনোলজি ও ফিজিক্যাল এডুকেশন কোর্সের জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশনের প্রথম পর্ব ও ভেটেরিনারি জুলায়-জুন ২০২৫-২০২৬ সেশনে দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি শুরু হয়। এ কেন্দ্রে মোট ৩৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

কেন্দ্র সচিব ফেরদাউস আরেফিন জানান, সকাল থেকেই সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার সকল কার্যক্রম বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ক্রিয়েটিভ ট্রেনিং এন্ড ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমার সব শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আশা করছি তারা ভালো ফলাফল করবে।