মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

গাজায় যুদ্ধ শুরুর তিন বছর পরও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। কেউ ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় নিজ এলাকা বা আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, কেউ ত্রাণের সন্ধানে বেরিয়ে, বাড়িঘরের খোঁজ নিতে গিয়ে কিংবা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি যাওয়ার পর আর ফেরেননি।
নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় এসব পরিবার এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাঁরা জানেন না, স্বজনেরা বেঁচে আছেন কি না, আটক হয়েছেন কি না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কি না, নাকি অজ্ঞাত মরদেহের মধ্যে রয়েছেন।

স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

নিখোঁজ এসব মানুষের পরিণতি এখনো অজানা। গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে গাজায় ফেরত দেওয়া প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি।

স্বজন হারানো এসব পরিবারের জন্য অপেক্ষার প্রতিটি দিনই হয়ে উঠেছে নতুন এক যন্ত্রণা। প্রিয়জন জীবিত না মৃত, আটক না নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের নিচে নাকি অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায়—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে জানতে পারছেন না তাঁরা। ফলে শোক করবেন, নাকি ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করবেন, সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এমন তিনটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের স্বজন যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়েছেন।

তিন বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায়
মধ্য গাজা শহরের আল-নাফাক সড়কের একটি ছোট তাঁবুতে বসে মোবাইল ফোনে ছেলের ছবি দেখেন নিদাল আল-ওয়াহিদির মা-বাবা। বাড়িতে বোমা হামলায় তাঁদের ঘরবাড়ি ও ছেলের জিনিসপত্র ধ্বংস হওয়ার পর এসব ছবিই এখন তাঁদের কাছে নিদালের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।

নিদালের বাবা ৬২ বছর বয়সী সুহাইল আল-ওয়াহিদি বলেন, ‘আমাদের করার মতো কিছু নেই। শুধু ছেলের ছবি দেখি আর অপেক্ষা করি। তিন বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষা করেছি এবং ছেলের কোনো খবর পাওয়ার আশা করেছি।’

নিদাল ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তর গাজার এরেজ ক্রসিং এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। ওই এলাকায় হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল সব সময় আমাদের চিন্তায় থাকে। আমরা আশাবাদী থাকার চেষ্টা করি এবং তার কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি।’

ছেলের সন্ধানে রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান তিনি।

‘আমরা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে বহুবার আবেদন করেছি। কোনো আবেদনই আমাদের সাহায্য করেনি। এই যুদ্ধে দুঃখজনকভাবে মানবাধিকারের কোনো সম্মান নেই,’ বলেন তিনি।

তবে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিই শুধু তাঁকে কষ্ট দেয় না। প্রতিদিনের কঠিন সময়ে যে মানুষটির ওপর তিনি নির্ভর করতেন, সেই মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার শূন্যতাও তাঁকে কষ্ট দেয়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল শুধু আমাদের ছেলে ছিল না। সে ছিল আমাদের বন্ধু, পরিবারের অবলম্বন এবং আমার ডান হাত। এখন তাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমি প্রায়ই ভাবি, সে যদি এখানে থাকত, এই কঠিন দিনগুলো কতটা সহজ হতো।’

বাবা ও ভাইয়ের অপেক্ষায় পরিবার
৫৯ বছর বয়সী সাঈদ হাজ্জাজ এবং তাঁর ছেলে কাসেম হাজ্জাজ (নিখোঁজ হওয়ার সময় বয়স ১৭) ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

মধ্য গাজা শহরের ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন সাঈদের স্ত্রী ৫২ বছর বয়সী মোনা হাজ্জাজ। রাতে ঘুমানোর আগে হৃদ্‌রোগের ওষুধ খাওয়ার পর দুই মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও ছেলের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তাঁদের মেয়ে ৩৫ বছর বয়সী নিসরিন হাজ্জাজ বলেন, ‘আমার বাবা ও ছোট ভাইকে হারানোর কষ্টে আমরা সব সময় শোকের মধ্যে আছি। আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মিষ্টিও খাইনি।’

তিনি জানান, স্বামী ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মায়ের হৃদ্‌রোগের সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিন-রাত কান্নার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় উত্তর গাজা শহরের শেখ রাদওয়ানে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল পরিবারটি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশপাশের বাড়িঘর ধ্বংস করার পর হাজ্জাজ পরিবারের বাড়িতেও প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

নারীদের দক্ষিণ গাজায় চলে যেতে বাধ্য করা হয় এবং পুরুষদের আটক করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিসরিন বলেন, ‘আমরা শেষবার বাবা ও ভাইকে দেখেছিলাম নগ্ন, হাতকড়া পরানো, নির্যাতিত ও অপমানিত অবস্থায়। এরপর থেকে তাঁদের বিষয়ে আমরা আর কিছুই জানি না। তাঁরা কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন, কিছুই জানি না।’

তথ্য জানতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এই অনিশ্চয়তা পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তকে প্রভাবিত করেছে।

নিসরিন বলেন, ‘তাঁরা এখনো আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু আমরা জানি না, তাঁদের জন্য শোক করব, নাকি তাঁদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের ওপর আমরা নির্ভর করতাম, তাঁদের ছাড়াই আমাদের চলতে হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে সহায়তা সংস্থাগুলোও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না, কারণ তাঁদের শহীদ বা বন্দি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।’

স্বজনেরা মারা গেছেন এমন কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুর কথা মেনে নিতে রাজি নয় হাজ্জাজ পরিবার। এখনো তাঁরা ফিরে আসার আশায় আছেন।

নিসরিন বলেন, ‘আমার বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার খরচ বহনের জন্য একটি বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য মৃত্যুসনদ প্রয়োজন ছিল। আমরা তা দিতে অস্বীকার করি এবং বৃত্তিটিও ছেড়ে দিই। কারণ, এখনো যদি সামান্যও আশা থাকে যে সে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে, তাহলে আমরা সেই সম্ভাবনাকে শেষ করে দিতে চাই না।’

এই নিখোঁজের ঘটনা পরিবারটির আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবনেই শুধু প্রভাব ফেলেনি; কেড়ে নিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত পারিবারিক আনন্দও।

নিসরিন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী যখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন বাবা তাঁর প্রথম নাতিকে দেখার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। দাদা হওয়া ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি তা দেখার জন্য সেখানে ছিলেন না।’

ভাইয়ের সন্ধানে তিন বছর
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে গঠিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৪৮ বছর বয়সী আলা আবু শাবানের নিয়মিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদের। কেউ তাঁকে দেখেছেন বা তাঁর কোনো খবর জানেন কি না, সেই প্রশ্ন করেন আলা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে আলা পূর্ব দেইর আল-বালাহ থেকে তাঁর ভাই মোহাম্মদের পরিবারকে সরিয়ে পারিবারিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা আলার সঙ্গে চলে গেলেও মোহাম্মদ বাড়িতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আলা বলেন, ‘সে আমাকে বলেছিল, সবকিছু দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। বাড়ি খালি রেখে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন বিকেলেও আমরা কথা বলেছিলাম এবং তাকে চলে আসতে বলেছিলাম। সে বলেছিল, সে চলে আসবে। এরপর সেটিই ছিল তার সঙ্গে আমাদের শেষ কথা।’

এর প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদের ফোন থেকে এক আত্মীয়ের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে মোহাম্মদ জানান, তিনি দেইর আল-বালাহ সংলগ্ন ইসরায়েলের অভ্যন্তরের কিসুফিম এলাকায় আছেন এবং পরিবারের সদস্যদের তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ওই এলাকা তখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে পরিবারটি সেখানে যেতে পারেনি।

আলা বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমরা জানি না আমার ভাইয়ের কী হয়েছে, সে কীভাবে নিখোঁজ হলো, কোথায় আছে কিংবা সে জীবিত কি না।’

মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দি তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা ওফার কারাগারে মোহাম্মদের নাম শুনেছেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ তাঁর অবস্থান নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

আলা বলেন, ‘এত দিন ধরে আমরা এই যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার মধ্যে আছি। এখন আমরা তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করি। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে।’

ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান আলা।

‘আমার বাবা ও পরিবারের সবাই বিশ্বাস করেন, মোহাম্মদ একদিন ফিরে আসবে। এই আশাটাই তারা ধরে রেখেছেন, যদিও এর সঙ্গে অনেক কষ্টও আছে। কিন্তু তার কোনো খবর না পাওয়ায় তারা উদ্বেগ ও শোকে ভেঙে পড়ছেন,’ বলেন তিনি।

এখনো মুক্তি পাওয়া বন্দিদের কাছে ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে তাঁর বিষয়ে জানতে চান আলা।

তিনি বলেন, ‘অনেক রাতে ভাইকে মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ি। সে আমাকে যে সহযোগিতা করত, সেটিও খুব মনে পড়ে। সবচেয়ে কষ্ট হয়, তার বাবা নিখোঁজ থাকার সময় আমরা তার বড় ছেলেকে রক্ষা করতে পারিনি। ছেলেটিও নিহত হয়েছে।’

গাজায় নিখোঁজ মানুষের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অপেক্ষার অবসান হয়নি। প্রিয়জনের কোনো নিশ্চিত খবর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের জীবন যেন আশা, উৎকণ্ঠা ও শোকের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে আছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Ads small one

সাতক্ষীরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সূচি

দেশব্যাপী চলমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপগুলোর নতুন সময়সূচী প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিস। জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সময়সূচী নি¤œরূপ: প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, মাধ্যমিক ও কারিগরি বিদ্যালয়: ৭ ও ৮ অক্টোবর। মাদ্রাসা (এবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল): ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর। কলেজ (উচ্চমাধ্যমিক, সমমান, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর): ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর। বিভাগীয় পর্যায়:প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাধ্যমিক ও কারিগরি বিদ্যালয়: ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর। মাদ্রাসা: ২৫ ও ২৬ অক্টোবর। কলেজ: ২৭ ও ২৮ অক্টোবর। বিশ্ববিদ্যালয়: পরবর্তীতে সময়সূচী নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় পর্যায়:প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাধ্যমিক ও কারিগরি বিদ্যালয়: ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর। মাদ্রাসা: ৩০ ও ৩১ অক্টোবর। কলেজ: ৩০ ও ৩১ অক্টোবর। বিশ্ববিদ্যালয়: পরবর্তীতে সময়সূচী নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য জেলা তথ্য অফিস, সাতক্ষীরার ওয়েবসাইট (www.info.satkhira.gov.bd) অথবা ফোন নম্বরে (০২৪৭৭৭৪০০৯৩) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

একাধিকবার নোবেল পেয়েছিলেন কারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
একাধিকবার নোবেল পেয়েছিলেন কারা?

একবার নোবেল পুরস্কার পাওয়াই যেকোনো বিজ্ঞানী, লেখক বা গবেষকের জন্য জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হয়। তবে মেধার এমন কিছু অনন্য ও বিস্ময়কর ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে একই ব্যক্তি বা সংস্থা একাধিকবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

নোবেল কমিটির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচজন ব্যক্তি এবং দুটি সংস্থা একাধিকবার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার নজিরবিহীন গৌরব অর্জন করেছেন।

দুইবার নোবেলজয়ী পাঁচ অনন্য বিজ্ঞানী ও ব্যক্তিত্বব্যক্তিগত যোগ্যতায় বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় বা একই শাখায় দুইবার নোবেল পেয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পাঁচ কিংবদন্তি:

মারি ক্যুরি (পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন)
ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দুইবার নোবেল জয়ের রেকর্ড গড়েন ফরাসি বিজ্ঞানী মারি ক্যুরি। ১৯০৩ সালে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে এবং ১৯১১ সালে বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথকীকরণের জন্য এককভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান শাখায় নোবেল পাওয়ার এই অনন্য রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি।

লিনাস পলিং (রসায়ন ও শান্তি)
মার্কিন রসায়নবিদ লিনাস পলিং ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দুটি ভিন্ন বিভাগে এককভাবে (কারো সঙ্গে ভাগ না করে) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৫৪ সালে রাসায়নিক বন্ধনের প্রকৃতির ওপর গবেষণার জন্য তিনি রসায়নে নোবেল পান। পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬২ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

জন বারডিন
মার্কিন এই পদার্থবিজ্ঞানী ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি, যিনি একই বিভাগে (পদার্থবিজ্ঞান) দুইবার নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৫৬ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য এবং ১৯৭২ সালে অতিপরিবাহিতা বা সুপারকন্ডাক্টিভিটির মৌলিক তত্ত্ব প্রমাণের জন্য তিনি দুইবারই পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পান।

ফ্রেডরিক সেঙ্গার
ব্রিটিশ প্রাণরসায়নবিদ ফ্রেডরিক সেঙ্গার রসায়ন শাস্ত্রে দুইবার নোবেল জয়ের বিরল কৃতিত্ব দেখান। ১৯৫৮ সালে ইনসুলিনের গঠন আবিষ্কারের জন্য তিনি প্রথমবার রসায়নে নোবেল পান। এরপর ১৯৮০ সালে ডিএনএ সিকোয়েন্সিং বা নিউক্লিক অ্যাসিডের বেস সিকোয়েন্স নির্ধারণের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য দ্বিতীয়বার রসায়নে নোবেল লাভ করেন।

ব্যারি শার্পলেস
তালিকার সর্বশেষ সংযোজন মার্কিন রসায়নবিদ কে. ব্যারি শার্পলেস। ২০০১ সালে চিরল অনুঘটক জারণ বিক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য তিনি প্রথম রসায়নে নোবেল পান। এর দীর্ঘ ২১ বছর পর, ২০২২ সালে ‘ক্লিক কেমিস্ট্রি’ এবং বায়োঅর্থোগোনাল রসায়নের অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত রেকর্ডের বাইরে বৈশ্বিক মানবিক সংকটে অবদানের জন্য দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে:

রেড ক্রস
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি নোবেল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩ বার (১৯১৭, ১৯৪৪ এবং ১৯৬৩ সালে) বিশ্ব শান্তিতে অনন্য অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করে। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দী ও আহতদের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে সংস্থাটিকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার
বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সংস্থাটি দুইবার (১৯৫৪ এবং ১৯৮১ সালে) নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে।
সূত্র: বিএসএস

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ভারতকে নিয়ে খেলল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ভারতকে নিয়ে খেলল

দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে । প্রীতি ম্যাচে আজ তারা গুনে গুনে ৬বার বল জড়িয়েছে ভারতের জালে। শেষ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দেশটি ৬-১ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণভাবে লড়াই করেছে স্বাগতিক শিবির। এই সময়ে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জালে একবার বলও পাঠিয়েছে তারা। দুর্দান্ত লড়াই করে ভারত প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই হাফ-ডজন গোল হজম করে বসে স্বাগতিক শিবির।

পানামা ম্যাচে ড্র এবং ব্রাজিল ম্যাচের লড়াকু ফলাফল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উরুগুয়ে ম্যাচে ভালো ফলের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবের রূপ নিল না। বরং বড় হারের লজ্জায় তা রুক্ষ মাটিতে আছড়ে পড়ল।

তবে চেষ্টার কোনও কমতি ছিল না। লড়াই করার মানসিকতাও প্রশংসনীয়। ৯০ মিনিট মাঠে নিজেদের নিংড়ে দিয়েছেন মনবীর, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা। কিন্তু দিনের শেষে দুই দলের মধ্যে দক্ষতার ফারাক যে আকাশ-পাতাল। সেই ফারাক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আজকের যুবভারতী।

ম্যাচের প্রথমার্ধে অনিরুদ্ধ থাপা ইতিহাস গড়ে একটি গোল করলেন বটে। কিন্তু শেষমেশ ৬-১ গোলের বড় পরাজয়ই সঙ্গী হলো স্বাগতিক ভারতের।