বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গুণী চিত্রশিল্পীদের স্মরণে বিশেষ দিন পালন করলো খুলনা আর্ট একাডেমি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
গুণী চিত্রশিল্পীদের স্মরণে বিশেষ দিন পালন করলো খুলনা আর্ট একাডেমি

গুণী চিত্রশিল্পীদের স্মরণে খুলনা আর্ট একাডেমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ২১শে এপ্রিল বিশেষ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ২১টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শিল্পীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়।

 

খুলনা মহানগরীর ৩৬, আয়েশা কটেজ, ইকবাল নগরে অবস্থিত খুলনা আর্ট একাডেমিতে ২০১৫ সালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রতিথযশা ও স্বনামধন্য শিল্পীরা পরিদর্শনে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিল্পী রফিকুন নবী, সমীর দত্ত, মোস্তাফিজুল হক, শামসুদ্দোহা, নিসার হোসেন, শেখ আফজাল হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য, সিলভিয়া নাজনীন, বিমানেশ চন্দ্র এবং তরিকত ইসলাম।

 

সেই স্মরণীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর ২১শে এপ্রিল দিনটি বিশেষভাবে পালন করে আসছে একাডেমি।এ বছরের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল থেকে আগত রতন বেপারী ও সুলতা হালদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, একাডেমির সদস্য সৌহার্দ্য বিশ্বাস ও সম্প্রীতি বিশ্বাস।

 

এ সময় চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস জানান, তিনি যতদিন এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন, ততদিন শিল্পগুরুদের স্মরণে এই বিশেষ দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে যাবেন। তিনি আরও বলেন, শিল্পগুরুদের ছবি সামনে রেখে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি যে জ্ঞান শিল্পগুরুদের কাছ থেকে অর্জন করেছেন, তা নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা আর্ট একাডেমির চারুকলা ভর্তি কোচিং থেকে ইতোমধ্যে ২৩০ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ড্রইং শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন। এটিকেই তিনি তাঁর জীবনের পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন এবং এই সাফল্যের পেছনে শিল্পগুরুদের আশীর্বাদকেই মূল শক্তি হিসেবে দেখেন।

 

তিনি আরও বলেন, আর্ট কলেজ থেকে যে শিল্পীর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর শিল্পজীবনের যাত্রা শুরু, তিনি হলেন ভাস্কর শেখ সাদী ভূঁঞা। যিনি ২০২৪ সালে পরলোকগমন করেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই তিনি শিল্পচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যতদিন শিল্পচর্চা করবেন, ততদিন এই গুণীজনদের স্মরণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তার সঞ্চিত শিক্ষা বিনা অর্থে খুলনার সিইউসি স্কুলের  সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সপ্তাহে একদিন ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন এতে মনে করেন তার শিল্প সাধনার সার্থকতা খুঁজে পায়।

সর্বশেষে, তিনি তাঁর পিতা-মাতা ও সকল শিল্পগুরুকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সকলের কাছে  আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন যেন তিনি তাঁর শিল্প সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চির অমর হয়ে থাকতে পারেন। সকলের জন্য সুস্থতা প্রার্থনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।