চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
বাসস, টোকিও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের সরকারি সফরে আজ সোমবার সকালে জাপানের রাজধানী টোকিও পৌঁছেছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৭ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। পরে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফর-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
সফরসূচিতে চিবা প্রদেশের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরের একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে। এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে তিন থেকে চারটি এ সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও পৃথক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
এর আগে গত এপ্রিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বে নেওয়া একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল বাংলাদেশ।
১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে দেশটি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশটি সফর করেন ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে।









