সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মনিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
মনিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মা ও তাঁর দুই বছরের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়কের গালদা মাঠপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটির বাবা ও মোটরসাইকেলচালক ফারুক হোসেন (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন মৌসুমী খাতুন (৩৬) ও তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান। তাঁদের বাড়ি রাজগঞ্জের হানুয়ার গ্রামের মানিকগঞ্জ এলাকায়।

স্থানীয় পশুচিকিৎসক বিল্লাহ হোসেন জানান, ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যশোর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ফারুক। পথে গালদা মাঠপাড়ায় একটি ট্রলিকে পাশ কাটানোর সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে পুলেরহাট আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

Ads small one

শের-ই-বাংলা: শোষিতের কণ্ঠ ও স্বাধিকারের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
শের-ই-বাংলা: শোষিতের কণ্ঠ ও স্বাধিকারের প্রতীক

তারিক ইসলাম

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাস, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে যে কজন মহান নেতার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক তাঁদের অন্যতম। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের নেতা এবং ‘বাংলার বাঘ’ হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তিনি সাধারণ মানুষের আপনজন। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি ও দূরদর্শী নেতৃত্ব বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ কে ফজলুল হক। অসাধারণ মেধা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অধিকারী এই নেতা শিক্ষাজীবন শেষে আইন পেশায় যুক্ত হন। তবে সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার কৃষক ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর।

তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শোষিত ও বঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে কৃষকসমাজ। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি কৃষকদের আর্থসামাজিক মুক্তির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। জমিদার ও মহাজনদের শোষণ থেকে কৃষকদের রক্ষায় কৃষিঋণ সালিশি বোর্ড গঠন এবং ঋণসংক্রান্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। এসব উদ্যোগ কৃষকদের ঋণের বোঝা ও শোষণ থেকে মুক্তির পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

শিক্ষার প্রসারেও ফজলুল হকের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ছাড়া সমাজের বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি শিক্ষার বিস্তারে কাজ করেছেন। নারীশিক্ষার প্রসারেও তাঁর উদ্যোগ স্মরণীয়। কলকাতার লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি সমসাময়িক নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এসব উদ্যোগ বাঙালি মুসলিম সমাজের শিক্ষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতিতে অবদান রাখে।

ফজলুল হক ছিলেন জনমানুষের নেতা। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার স্বার্থ রক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নেও তাঁর ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ বিজয় ছিল তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালির গণরায়ের শক্তিশালী প্রকাশ। এ বিজয় বাংলার মানুষের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরালো করে তোলে। জনমানুষের পক্ষে তাঁর সাহসী অবস্থানই তাঁকে ‘শের-ই-বাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ উপাধিতে পরিচিত করে তোলে।

ক্ষমতার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়াই ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল শিক্ষা ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।

আজকের বাংলাদেশে সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলোচনায় শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবন ও আদর্শ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর চিন্তাভাবনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে তাঁর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা প্রয়োজন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক কেবল ইতিহাসের একজন নেতা নন; তিনি জনকল্যাণ, ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

লেখক: তারিক ইসলাম
সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

ন্যাশনাল ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি গত মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৮৩০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বামপন্থী লুলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বামপন্থী লুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। দ্বিতীয় দফার ভোটে ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারো পেয়েছেন প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট।

স্থানীয় সময় রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে দেশটির সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্ট লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। বিজয়ের পর গণতন্ত্র রক্ষায় ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা। আগামী ৫ জানুয়ারি শপথ নিলে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি।

লুলার জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

তবে কয়েকটি এলাকায় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন লুলার সমর্থকেরা।

নতুন মেয়াদে জীবনযাত্রার ব্যয়, পারিবারিক ঋণ, অপরাধ দমন এবং ডানপন্থী-প্রধান কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তাঁকে।