শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে এত দেরি কেন: ববি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে এত দেরি কেন: ববি

চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় ‘তছনছ’ নামে একটি সিনেমা। তবে ঈদের মাত্র দুই দিন আগে তার পূর্ব মণিপুরের বাসায় এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মূল্যবান ঘড়িসহ প্রায় ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত ২৭ মে কাফরুল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ববির খালাতো ভাই আবদুল কাদের ভূঁইয়া। অভিযোগের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল হোসেন ফারুক (৩৫) ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তারসহ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আসামি গ্রেপ্তার হলেও চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদের মধ্যে মাত্র ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মালামাল উদ্ধারের সর্বশেষ আপডেট জানতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানায় যান ববি। সেখানে দায়িত্বরত অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন এই নায়িকা।

বিষয়টি নিয়ে ববি বলেন, বিষয়টি নিয়ে খুবই হতাশ। শুধু আমি না, আমার পরিবার ঘটনাটি নিয়ে এখনও ট্রমার মধ্যে আছেন। এরমধ্যে এতগুলো টাকার মালামালের মধ্যে মাত্র ৪ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। আমি অবাক হচ্ছি চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে এত দেরি দেখে। আমি আশা করব পুলিশ দ্রুত সবকিছু উদ্ধার করবে। না হলে, মামলাটি আমি ডিবিতে দেওয়ার প্রক্রিয়া করব।’

এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ববি। তবে চোর ধরার পরও মালামাল উদ্ধারে কেন এত দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ববি জানান, এখনও তার অধিকাংশ সম্পদ উদ্ধার হয়নি। বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিস যেন দ্রুত উদ্ধার হয় এবং অপরাধীরা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হয়, সেজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

Ads small one

শ্যামনগরে স্টাটআপ বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেচিং কর্মসূচির প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে স্টাটআপ বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেচিং কর্মসূচির প্রতিযোগিতা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম এসইডিপির আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে স্টাটআপ বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেচিং কর্মসূচির প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও সেরা শিক্ষক,শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জি এম নজরুল ইসলাম।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক উপাধ্যক্ষ নাজিম উদ্দীন, জেলা বিএনপির সদস্য মাষ্টার আব্দুল ওয়াহেদ, জেলা বিএনপির সদস্য জি এম সোলায়মান কবীর।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিনা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ তেজারত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনির, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, অধ্যক্ষ আজিয়ার রহমান, প্রধান শিক্ষক হারুনর রশিদ, প্রভাষক রাফজান জানি, শিক্ষক রনজিৎ কুমার বর্মন সহ শিক্ষক, শিক্ষর্থী, সাংবাদিক, অভিভাবক ও অন্যান্য পেশাজীবিরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে স্টাটআপ বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেচিং কর্মসূচির প্রতিযোগিতায় উপজেলার নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জোবেদা সোহরাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নুরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন, কলবাড়ী নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভূরুলিয়া সিরাজপুর স্কুল এন্ড কলেজ, আটুলিয়া আব্দুল কাদের স্কুল এন্ড কলেজ, শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজ, শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়, জয়নগর আমিনিয়া হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসা ও নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষ্মী কাদেরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসাসহ মোট ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনকৃত প্রজেক্ট উপস্থাপন করেন।

 

প্রতিযোগিতায় প্রথম নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২য় ভূরুলিয়া সিরাজপুর স্কুল এন্ড কলেজ ও তৃতীয় বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন প্রতিষ্ঠান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

উপস্থাপনকৃত প্রজেক্টের মধ্যে ছিল বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়ু দূষণ বিশুদ্ধ করণ, লবন পানি শোধন করে মিষ্টি পানি তৈরী, স্মাট কৃষি প্রযুক্তিসহ অন্যান্য প্রজেক্ট।

মেলায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকব্রন্দ বলেন এধরনের মেলা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তুলতে সাহায্যে করবে।

 

 

দেবহাটায় শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া প্রোগ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া প্রোগ্রাম

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া প্রোগ্রাম সম্পর্কিত ধারণা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঢাকা এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম এসইডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) সকাল ১০ টায় দেবহাটা উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ প্রোগ্রাম ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া প্রোগ্রামে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলার মোট ১১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে অংশ গ্রহণ করেন। প্রথমে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়, পরে অতিথিরা প্রজেক্ট এর ১১টি স্টল পরিদর্শন করেন।

 

অনুষ্ঠানে আলোচনা শেষে অতিথিরা সখিপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা প্রথম স্থান, দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউট হাইস্কুল দ্বিতীয় স্থান ও পারুলিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান অধিকারী হওয়ায় নাম ঘোষণা করে সনদ পত্র প্রদান করেন।

 

দেবহাটা উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার ও উক্ত অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান এর সঞ্চালনায় দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, দেবহাটা থানার ওসি তদন্ত রেজাউল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম।

 

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজান আলী, উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচক কর্মকর্তা সদ্বীপ কুমার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও শিক্ষানুরাগী সাংবাদিক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব প্রমুখ।

 

বক্তৃরা বলেন, শিক্ষার্থীরা স্থানীয় রিসোর্সকে কাজে লাগিয়ে নতুন আইডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে সহজেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি তার চিন্তন দক্ষতা, স্কিল ও অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞান প্রকল্প প্রজেক্টের মাধ্যমে স্টার্সআপ করতে পারে।

মেধা ও উদ্ভাবনে খুদে বিজ্ঞানীদের চমক: সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
মেধা ও উদ্ভাবনে খুদে বিজ্ঞানীদের চমক: সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সদর উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ‘স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস), এসইডিপি এবং ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবীর এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবুল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেক গাজী, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্বাস আলী সরদার এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মনজুরুল হক। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপমা আহমেদ নাবিলা।

খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও প্রকল্প মূল্যায়নে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিত্যানন্দ কুমার, আইসিটি বিভাগের প্রভাষক দেবাশীষ দাস এবং সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ আফজাল করিম।
উপজেলা পর্যায়ের এই বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৮টি স্টল স্থান পায়। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। স্টলগুলোতে খুদে বিজ্ঞানীরা তাদের চমৎকার সব উদ্ভাবনী আইডিয়া ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে নজর কাড়েন সবার।

মেলার প্যান্ডেলে ঢুকতেই প্রথমেই চোখে পড়ে বাঁকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টল। কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া থেকে কার্বন শোষণ করে কীভাবে বাতাসে সাদা ধোঁয়া ছাড়া যায় এবং পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই প্রযুক্তি প্রদর্শন করে তারা নজর কেড়েছে। একই ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে সাতক্ষীরা পলাশপোল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও।

সাতক্ষীরা প্রাণনাথ হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বর্জ্য ব্যবহার করে কীভাবে শক্তি উৎপাদন করা যায়, তা প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা টাউন গার্লস হাইস্কুলের স্টলে প্রদর্শন করা হয় পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি।
দেশের সীমান্ত রক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে অটো রাডার ও মিসাইল সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

চমৎকার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় একটি সমৃদ্ধ আধুনিক কৃষি ও খামার প্রকল্প প্রদর্শন করে নজর কেড়েছে দ্য পোল স্টার অ্যান্ড পৌর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। ভিন্নধর্মী এক আইডিয়া নিয়ে হাজির হয়েছিল পল্লী মঙ্গল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। রাস্তার ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটলে বা চাপ পড়লেই কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব, তা দেখিয়েছে তারা।
মেলায় নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মেগা প্রকল্প প্রদর্শন করে। আগামী ৫০ বছর পর সাতক্ষীরা শহর কেমন হতে পারে-তার একটি দারুণ চিত্র তুলে ধরেছে তারা। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও খাদ্য, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বাসস্থানের আধুনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।

ফসলের মাঠ বা টবের মাটি শুকিয়ে গেলে কীভাবে মানুষের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব, সেই অভিনব প্রযুক্তি দেখিয়েছে ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। আর পানি বিশুদ্ধকরণের সহজ প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে সাতক্ষীরা নবজীবন ইনস্টিটিউটের খুদে বিজ্ঞানীরা। বল্লী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে কীভাবে পানির সাহায্যে রকেট উড্ডয়ন করা যায়। একই সাথে তারা সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করেছে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মেলায় বেশ নান্দনিক উপস্থাপনা ছিল সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। অতিরিক্ত লোড বা ওজনের কারণে পিচের রাস্তা নষ্ট হওয়া রোধে তারা একটি প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো যানবাহন অতিরিক্ত লোড নিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে এবং চালক আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণেও তারা পৃথক প্রদর্শনী করে সবার নজর কাড়ে।
খুদে বিজ্ঞানীদের এমন সব উদ্ভাবনী ও আধুনিক চিন্তাভাবনা মেলায় আসা শিক্ষক, বিচারক ও দর্শনার্থীদের ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় ১৯৪টি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। আগামী ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এরপর জাতীয় পর্যায়ে জেলা থেকে বিজয়ী দল অংশ নিবে। জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশ থেকে ১০০টি দল অংশগ্রহণ করবে। সেখান থেকে সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে।