দেবহাটায় শ্রমিককে পিটিয়ে চার জনের বিরুদ্ধে চুরির মামলার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে
দেবহাটায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক শ্রমিককে পিটিয়ে চুরির মামলায় কারগারে পাঠানোসহ তিনজন এর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আশাশুনি থানার বাশিরামপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ তরফদারের স্ত্রী জোহরা খাতুন।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমরা অতিশয় দরিদ্র। আমাদের নিজস্ব কোন সম্পত্তি না থাকায় খালের ধারে খাস জমিতে অতিকষ্টে বসবাস করে আসছি। সংসার পরিচালনার জন্য আমার স্বামীসহ তার অন্য ভাইয়েরা দেশের বিভিন্ন স্থানের ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সংসার চালাতে আমিসহ আমার বৃদ্ধা শ^াশুড়িও শ্রমিকের কাজ করে।
সম্প্রতি আমার স্বামী ঋণ করে একটি পুরাতন মোটর সাইকেল ক্রয় করেছেন। গত ১০ জুন ২৬ তারিখে ওই পুরাতন মোটরসাইকেল নিয়ে স্বামী পুটিমারী বাজারে গিয়েছিল। বাজার থেকে ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা দেবহাটার রঘুনাথপুর (টিকেট) গ্রামের মৃত আমানত মিস্ত্রির পুত্র কহিনুর আলমসহ কয়েকজন আমার স্বামী আব্দুস সামাদের গতিরোধ করে। তার উপর অতর্কিত হামলা করে তাদের কাছে থাকা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে।
খবর পেয়ে আমার বৃদ্ধা শ^াশুড়ী আয়েশা খাতুন এগিয়ে গেলে তার কোমরে লাথি মেতে গুরুতর আহত করে। এছাড়া সাথে থাকা মোটরসাইকেলটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে ওই মোটরসাইকেল এবং স্বামীর কাছে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর দেবহাটা থানার এসআই বেলায়েত হোসেনকে ডেকে নিয়ে আমার স্বামী আব্দুস সামাদকে তুলে দেয়।
পরে ওই দারগাকে ম্যানেজ করে আমার স্বামীসহ তার তিন ভাই আরিফুল ইসলাম, খায়রুল এবং প্রতিবেশী এবাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কহিনুর আলম একটি ভ্যান চুরির মামলা দায়ের করে। সে সময় দারগা বেলায়েত হোসেন আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমার স্বামীকে ইয়াবা বড়িসহ চালান দেওয়ার হুমকিও প্রদর্শন করে। উপায়ন্তর হয়ে ধার দেনা করে নগদ ১৪ হাজার টাকা প্রদান করি দারগা বেলায়েত হোসেনের কাছে। এরপরও বাকী টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করে আসছে এস আই বেলায়েত।
এছাড়া আমাদের উচ্ছেদ করে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদর্শন করে যাচ্ছে তারা। তিনি আরো বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের হলেও কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করি। সংসার পরিচালনা করতে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কাজ করি এমন কি আমার বৃদ্ধা শ^াশুড়ীও শ্রমিকের কাজ করে। আমার স্বামী, তার ভাইয়েরা এবং প্রতিবেশী ইবাদুলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কখনো চুরি বা কোন ধরনের কোন অভিযোগ নেই। সকলেই শ্রমজীবী। অথচ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে শায়েস্তা করতেই পুলিশের ওই অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোজসাজস করে এই মিথ্যা ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই মামলায় আমার স্বামী বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এছাড়া ওই মিথ্যা মামলায় আসামী হওয়ায় আমার দুই দেবরও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়া প্রতিবেশী ইবাদুলও পলাতক। ফলে আমাদের বাড়ি একেবারে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি ওই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি, এস আই বেলায়েত এবং মিথ্যা মামলার বাদী কহিনুর আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি









