মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

জলদস্যুদের ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলা ১৮ বনজীবী, এখনও নিখোঁজ ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
জলদস্যুদের ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলা ১৮ বনজীবী, এখনও নিখোঁজ ২

পত্রদূত রিপোর্ট: মুক্তিপণের দাবিতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের নদীতে থেকে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ২০ জন জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলে-মৌয়ালরা সোমবার (১১ মে) বিকাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও মুক্তি মেলেনি দুই জেলের। ফলে নিখোঁজ দু’জনকে ঘিরে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর একে একে জেলে ও মৌয়ালদের ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া বনজীবী মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বনদস্যুদের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে জানা গেছে।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান বলেন, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।

Ads small one

পড়ে থাকা আম কুড়ালে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
পড়ে থাকা আম কুড়ালে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

রাস্তায় পড়ে থাকা আম কুড়িয়ে নিলেই গুনতে হবে ৫ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ (৪ লাখ ৮২ হাজার) টাকা। সিঙ্গাপুরের কঠোর আইনের এমন এক সতর্কবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সিনহা নামের এক ভারতীয় নারী। তার এই পোস্ট দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।

সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রিয়াঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দেশটিতে সরকারি জায়গায় লাগানো গাছগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ থেকে ফল পাড়া এমনকি নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে নেওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ।

প্রিয়াঙ্কার এই পোস্টের নিচে মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ভারতীয়রা সিঙ্গাপুরের এই আইনের সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা করছেন। ভারতে রাস্তার ধারের ফল যে কেউ অনায়াসে পেড়ে নিতে পারে। অনেকে মজা করে বলছেন, এমন নিয়ম ভারতীয় শহরগুলোতে প্রয়োগ করা এককথায় অসম্ভব।

সিঙ্গাপুরের জাতীয় উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (এমএনডি) ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় জমিতে থাকা গাছ এবং তার ফল সবই রাষ্ট্রের সম্পদ। ন্যাশনাল পার্কস বোর্ড (এনপার্কস) এসব গাছ দেখাশোনা করে। কেউ যদি সরকারি পার্ক থেকে অনুমতি ছাড়া ফল সংগ্রহ করে, তবে পার্কস অ্যান্ড ট্রিস অ্যাক্ট-এর আওতায় তাকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। আর এই ঘটনা যদি কোনও সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা বা জাতীয় উদ্যানে ঘটে, তবে জরিমানার পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে কিংবা ৬ মাসের কারাদণ্ডও হতে পারে।

আলোচনার একপর্যায়ে এক ব্যবহারকারী মজা করে জানতে চান, যদি আমাদের পোষা প্রাণী ফল কুড়াতে সাহায্য করে তবে কী হবে? এর জবাবে অপর এক ব্যবহারকারী জানান, সিঙ্গাপুরে পোষা প্রাণীকে মালিকেরই অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে পোষা প্রাণী ফল কুড়ালে আইনিভাবে ধরে নেওয়া হবে যে মালিকই তাকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।

পরিচ্ছন্নতা, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিঙ্গাপুরের কঠোর আইনের সুনাম বিশ্বজুড়ে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই কঠোর বিধিবিধানের কারণেই সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ দেশ হিসেবে টিকে আছে।

সূত্র: এনডিটিভি

চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর। এক সময়ের ব্যস্ত এই নায়িকা এখন অভিনয় থেকে অনেক দূরে। বিরতি দিয়ে মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো মুক্তির খবর নেই। নাটকেও নেই তিনি অনেক দিন। হুট করে সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন।

‎১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্রটি। এফডিসিতে দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে শুটিং। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
‎পূর্ণিমা বলেন, ‘প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনা ভালো লাগায় মানুষকে সচেতন করতে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজটি করেছি। আমি সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’

‎গাজী মাহবুব জানান, গল্পে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি এবং বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এটি দেখানো হবে। এছাড়াও অন্তর্জালে প্রকাশিত হবে। অনুষ্ঠানে সারাদেশের ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দিনব্যাপী ফ্রি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত সংস্থার ফেসবুক পেজে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু।

‎পূর্ণিমা ছাড়াও প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও রয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকেই।

শহীদ মিনারে নাট্যজন আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত সংস্কৃতি কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শহীদ মিনারে নাট্যজন আতাউর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত সংস্কৃতি কর্মীরা

নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে শেষ বিদায় জানালো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকাল ৩টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর থেকেই প্রিয় সহকর্মীকে শেষবার দেখার জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন বরেণ্য নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

শ্রদ্ধায় ও স্মরণে সিক্ত শহীদ মিনার

শহীদ মিনারে আতাউর রহমানের মরদেহে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তালিকায় ছিল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ছায়ানট, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, ঢাকা থিয়েটার, প্রাচ্যনাট, কণ্ঠশীলন, পালাকার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগসহ বহু সংগঠন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, “আতাউর রহমান সবসময় শিল্পকে ধারণ করতেন। তিনি ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। শিল্পই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান।”

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আতাউর রহমান শিল্পকে গভীরভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তার হাত ধরেই অনেকে নাট্যজগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কর্মের মাধ্যমেই তিনি আমাদের মাঝে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন।”

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কন্যা শর্মিষ্ঠা। শ্রদ্ধানুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক ইনাম খানসহ সংস্কৃতিক কর্মীরা। সবার কণ্ঠে ছিল একই সুর—আতাউর রহমানের প্রয়াণে নাট্যজগতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।

শেষ বিদায় ও দাফন

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আগে জোহরের নামাজের পর মগবাজারের ইস্পাহানী সেঞ্চুরি আর্কেড সংলগ্ন খোলা মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকালে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নাট্যজন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে থিয়েটার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মঞ্চ নাটক নির্দেশনা, অভিনয় এবং লেখালেখির মাধ্যমে তিনি বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে গেছেন।