শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরতে কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে লিডার্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরতে কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে লিডার্স

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট, স্থানীয় অভিযোজনের অভিজ্ঞতা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি (লিডার্স)।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে লিডার্সের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, পরিচালক (কর্মসূচি) এ বি এম জাকারিয়া এবং প্রকল্প কর্মকর্তা ইভানা আফরিন। সম্মেলনে তাঁরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, অভিযোজন কৌশল, স্থানীয় নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম, ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার এবং টেকসই কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে লিডার্সের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই এ অংশগ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সম্মেলনের মূল প্রাঙ্গণে ৯ থেকে ১৪ নভেম্বর প্রদর্শনী বুথ নম্বর ২০-এ লিডার্সের বিভিন্ন কার্যক্রম, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোজন মডেল ও অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

সম্মেলনে লিডার্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) আনুষ্ঠানিক পার্শ্ব-আয়োজনে।

আগামী ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেরজেভান পার্শ্ব-আয়োজন কক্ষ ৩-এ ‘কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সিজিআইএআর, সলিডারিডাড ও লিডার্স যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এতে লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন।

আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তর, টেকসই কৃষি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন এবং সবার জন্য খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া ১৯ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ‘স্থানীয় নেতৃত্বে অভিযোজন কার্যক্রম: জনগোষ্ঠীর অগ্রাধিকারের সঙ্গে নীতি ও অর্থায়নের সংযোগ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। লিডার্স, ন্যাকম, আইসিআইএমওডি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি, পরিকল্পনা এবং জলবায়ু অর্থায়নের কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সম্মেলন চলাকালে লিডার্সের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে জলবায়ু অভিযোজন, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার, সমুদ্র ও উপকূলীয় পরিবেশে কার্বন সংরক্ষণ, টেকসই জীবিকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, লিডার্স দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, টেকসই জীবিকা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করছে। পানি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংস্থাটি ২০২৩ সালে মর্যাদাপূর্ণ জায়েদ সাসটেইনেবিলিটি পুরস্কার অর্জন করে।

এ বিষয়ে লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। অথচ জলবায়ু নীতি ও অর্থায়ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকার সবসময় যথাযথ গুরুত্ব পায় না। আমরা কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোজন উদ্যোগ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরতে চাই। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে চাই।’

লিডার্সের প্রত্যাশা, কপ-৩১ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও দাবি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত অভিযোজন উদ্যোগগুলোকে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Ads small one

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো।’ কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

বিকেল ৩ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবো।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।’

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হলো পরীমণিকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হলো পরীমণিকে

সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রামের ‘ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অনুষ্ঠান থেকে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে বাদ দিয়েছেন আয়োজকরা। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।

আয়োজকরা জানান, ঢাকা আদালত চত্বরে সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমণির ঘটনার ১৭ দিন আগেই তার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ এবং চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর একটি পোস্টার শেয়ার করে পরীমণি লেখেন, ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম।’

পরে পোস্টারটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ফারুক মুনির।

ফারুক মুনির লেখেন, ‘এই প্রোগ্রামের আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের সহকর্মী দৈনিক সমকালের রবির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে, তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মিটমাট না করলে আপনারা বিকল্প অতিথি খুঁজে নিন।’

তার এই বক্তব্যের পর চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীমণিকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী থানার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির র‌্যালি। এতে অংশ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে র‌্যালিটি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে আসে নেতা-কর্মীরা। এসময় তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে-স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে রেখেছেন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখে এবং শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকেই এ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। এরপর রাজধানীর নির্ধারিত সড়কগুলো পেরিয়ে সেটি গিয়ে থামে মানিক মিঞা অ্যাভিনিউতে। পুরো শোভাযাত্রা যেন সুশৃঙ্খল ও শান্ত পরিবেশেই সম্পন্ন হয়, সেজন্য দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে জোরালো প্রস্তুতি। রাস্তায় চলাচলের নিয়ম ও নিয়মশৃঙ্খলা ধরে রাখতে সচেষ্ট আছেন বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা।

পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আশপাশের পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নজরদারিতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

১৯৭৫ সালের আজকের দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দেশ ও জাতি পেয়েছিল নতুন দিশা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের এ দিনে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরপর সেনাবাহিনীর ভেতর ও বাইরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যেও জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন খালেদ। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহি-জনতার মিলিত সেই বিপ্লবে বন্দি অবস্থায় থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি হয় দেশের রাজনীতিতে। জিয়াউর রহমান চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।