বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় নারীদের রোগবালাই বাড়ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় নারীদের রোগবালাই বাড়ছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় নারীরা উচ্চ রক্তচাপ, জরায়ু সংক্রমণ, ও অকাল গর্ভপাতের মতো ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন। লবণাক্ত পানি পান ও ব্যবহার, সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং দুর্যোগকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া এই অঞ্চলের নারীদের স্বাস্থ্যকে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ফেলেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীদের লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং দৈনন্দিন কাজে এর ব্যবহারের ফলে উপকূলীয় নারীদের মধ্যে জরায়ু সংক্রমণ, অনিয়মিত ঋতুস্্রাব ও সাদা গ্রাবের মতো সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম) গ্রহণের ফলে গর্ভবতী নারীদের উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি এবং প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়। ফলে অপরিণত শিশুর জন্ম ও মাতৃমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাবার পানির তীব্র সংকটের কারণে নারীরা দৈনিক প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি লবণ গ্রহণ করছেন। এর প্রভাবে শুধু গর্ভবতীরা নন, সাধারণ নারীরাও কিডনি রোগ এবং চরম অপুষ্টিতে ভুগছেন।

গত কয়েক দশকে উপকূলীয় এলাকায় পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে পরিবেশের বিপন্নতার প্রভাব প্রথম এসে পড়ে নারীর ওপর। পানির স্তর নিচে নেমে যায়, নদীর পানি লবণাক্ত হয়ে যায়,জলাশয় শুকিয়ে যায়, দুই-একটি নলকূপে, যেখানে মিষ্টি পানি ওঠে সেখানেও পানির জন্য হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা না হলে কলসি নিয়ে পানির খোঁজে দীর্ঘপথ হাঁটা। জ্বালানির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে নারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনের ভেতরে যেতে হয়। শুধু খাওয়ার পানিই নয়, সংসারে সবকিছুর জন্য যে পানি সেই পানি সংগ্রহ করার দায়িত্বও নারীর। তাই সেই বিপর্যয় মোকাবিলায় নারীকে সামনে দাঁড়াতে হয়।

উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ফসল হয় না। কাজের খোঁজে পুরুষকে ঘর ছাড়তে হয়। মেয়েরা রয়ে যায় সন্তান, বয়স্কদের দেখে রাখার দায়িত্বে। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব তার। পুরুষ না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও অরক্ষিত জীবন।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের উপজেলাগুলীতে লবণাক্ততার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালীর ফাতেমা বেগম বলেন, লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে চুল ও ত্বকের ক্ষতি হয়। রং কালো হয়ে যায় ও দ্রুত বার্ধক্য চলে আসে। এছাড়া গর্ভপাত ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। সেখানকার নারী ও শিশুরা চিংড়িপোনা ধরার জন্য ভাটার সময় ভোরে ও দিনের বেলায় ফলে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা তাদের লবণাক্ত পানিতে থাকতে হয়। এর ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যসহ নারী অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ শিরোনামের প্রতিবেদন বলছে, বাইরে থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহে খুলনা বিভাগের ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ পরিবারের ৩০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। উন্নত উৎস থেকে পানি পাওয়ার ক্ষেত্রে লবণাক্ততা একটি সমস্যা হতে পারে। দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনা বিভাগে নবজাতক মৃত্যুর হার (প্রতি হাজারে ২১.৭৯ জন) সব থেকে বেশি। বাল্যবিবাহের হার বেশি এমন পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে খুলনা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে অন্যতম জরায়ুর সমস্যা। লবণাক্ত পানির কারণে নারীরা এখন জরায়ু ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে ভুগছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রতিবছর যে কয়েক লাখ নারী জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ উপকূলীয় অঞ্চলের নারী। নারীদের জরায়ুসংক্রান্ত অসুখের তীব্রতা লবণাক্ততাপ্রবণ গ্রামগুলোতে বেশি। সে জন্য অল্প বয়সেই এ এলাকার নারীরা জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। কয়রা উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে জরায়ুসংক্রান্ত রোগে ভুগছেন এমন নারীর সন্ধান পাওয়া যাবে।

 

সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবে লবণাক্ততা প্রভাব শীর্ষক একটি গবেষণায় বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে নারী ও কিশোরীরা মাসিকের সময় ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে আবারো সেটি ব্যবহার করে এবং লবণাক্ত পানিতে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজের কারণে তাদের জরায়ুসংক্রান্ত রোগের উপস্থিতি অনেক বেশি। উপকূলের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই জরায়ুসংক্রান্ত রোগে নারীরা আক্রান্ত, ডাক্তাররা রোগীদের জরায়ু কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন। নারীদের পুরো জরায়ু কেটে ফেলার পর অনেকের স্বামী তাদের ফেলে অন্যত্র বিয়ে করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে নারীদের গর্ভপাতের হার বেড়েছে। দাকোপ উপজেলার গর্ভবতী নারীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্তি লবণাক্ত পানি গ্রহণের ফলে নারীদের জরায়ু রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন খিঁচুনি, গর্ভপাত, এমনকি অপরিণত শিশু জন্ম দেয়ার হার বেড়েছে।

 

এছাড়া নারীরা দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ, গোসল, কৃষি কাজ, গবাদিপশু পালন, চিংড়ির পোনা ধরাসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কাজে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে নারীরা লিউকোরিয়াসহ সাধারণ পানিবাহিত রোগ এবং চর্মরোগের সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হয়।
বিশ্বব্যাংকের অ্যান আনসাসটেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ শিরোনামে প্রকাশিত গবেষণায় ১৯৭৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে দুই ধাপে ১৬ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে অন্য একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উপকূলের যে নারীরা ২৮ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার মধ্যে থাকেন, তাঁদের গর্ভপাতের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেশি হয়। এ ধরনের তথ্য-উপাত্ত এবং গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সম্পৃক্ত।

খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ। সুপেয় পানির অভাব ও লবণাক্ত পানিতে কাজ করার ফলে উপকূলের নারীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। অনেক নারীর জরায়ু সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গেলে তারা সেগুলো অপারেশন করে দিচ্ছে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে সুপেয় পানি এবং টেকসই জীবন-জীবিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নারীকে পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় যত বেশি সংযুক্ত করা যাবে, আমরা তত বেশি লাভবান হবো। কারণ নারীরা ব্যক্তিগত ঝুঁকি ও নাজুকতার মধ্যেও দুর্যোগকালীন তার দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করে যান। তাই টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে উপকূলের নারীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচী নিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন একটি কঠিন বাস্তবতা। এর প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের উপকূলীয় নারীদের জীবনে। বারবার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে বাস্তুচ্যুতি এবং সুপেয় পানির জন্য দীর্ঘ পথ হাঁটা নারীদের মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া লবণাক্ততার কারণে চর্মরোগও ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এই সংকট নিরসনে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির আধার তৈরি, প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প ও নারীদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।