প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কন্টিকারি কন্টকময় গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বাড়ির পরিত্যক্ত অংশ বা অব্যবহৃত কোণে ধীরে ধীরে গজিয়ে ওঠা অসংখ্য ছোটখাটো লতাগুল্মগুলোকে আমরা বাজে উদ্ভিদ বলে কেটে উজাড় করে ফেলি। তেমনি একটি ভেষজগুল্ম কন্টিকারি। তাকে অবশ্য একটি নামে চেনার উপায় নেই।
নিসর্গবিদরা বহু নামে নামকরণ করেছেন এ গুল্মটিকে। কন্টালিকা, কন্টকিনী, কণ্টকারী, ধাবনী, ক্ষুদ্রা, দুষ্প্রধার্ষিণী প্রভৃতি নামে ডাকা হয় তাকে।
তবে কন্টিকারী নামটি বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন নামে বহুল পরিচিত: বাংলায় কন্টিকারী কাটাবেগুন, হিন্দিতে বলে কটেরী, মারাঠীতে বিঙ্গনী, ওড়িয়ায় কন্টমারিষ, তেলেগুতে বেরটিমুলঙ্গ, সংস্কৃতে ব্যাঘী।
কন্টিকারী ডালপালা, কান্ড এবং পাতাসহ কন্টকময়। গুলাজাতীয় উদ্ভিদ গাছের মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। ডাটা ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং পর্যন্ত চওড়া ৩ ইঞ্চি হয় কিছুটা ডিম্বাকৃতি দেখায়। পাতার স্থানে স্থানে অস্পষ্ট লোমযুক্ত থাকে পুরো গাছে খাড়াভাবে ধারালো কাটা থাকে এবং আধা ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পুষ্পদও শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট। ফুলের রং সাদা ও নীল, ফল পীতবর্ণ বা সাদা আভাযুক্ত সবুজ বর্ণের হয়। ফুলের পাপড়ি ৫টা। পুংকেশরগুলো লম্বা এবং হলুদ রঙের হয়। ফলের আকার খুবই ছোট, অনেকটা বেগুনের মতো দেখায়। ফলের গায়ে সাদা লম্বা লম্বা দাগ থাকে।
ফল পাকলে লাল ও হলুদ বর্ণের হয়। গরম পড়ার প্রথম দিকে গাছে ফুল ফোটে এবং পরে ফল ধরে। ফলের মধ্যে অসংখ্য বীজ থাকে। বর্ষার পানি পেলে গাছ মরে যায়। আরও এক ধরণের কন্টকারী গাছ আছে, যার ফুল দেখতে নীল এ কন্টকারী খুব কম দেখা যায়।
কন্টিকারি একটি কাঁটা ধরনের গাছ। এটি হল নাইটশেড প্রজাতির একটি উদ্ভিদ। যা সৌদি আরব, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, ইরান, চিন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। এটা রাস্তার ধারের পতিত জায়গায় বেশি হয়। এখন মোটামুটি সারা পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি রয়েছে।
এর ফলটা খাওয়ার যোগ্য। তবে মানুষ কম খায়। এটা বন্যপ্রাণীদের খাবার। এর ফলটি জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এ গুল্মের মূল বা শেকড় উপকারী এবং ভেষজগুণসম্পন্ন থাকায় কবিরাজরা এটিকে বিভিন্ন কাজে লাগায়।