বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ফাইল ফটো

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: উপকূলীয় জনপদ আশাশুনিতে বৈশাখ এলেই বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। কালো মেঘ, উত্তাল নদী আর ঝোড়ো বাতাসের আভাস পেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। কারণ স্বাধীনতার এত বছর পরও দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকায় গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে দুর্যোগের আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আইলার সময় আমরা বুঝতেই পারিনি কত বড় বিপদ আসছে। যখন খবর পেলাম, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখনো যদি আগাম সতর্কতার ভালো ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আবারও বড় বিপদ হতে পারে।” একই এলাকার গৃহবধূ নাছিমা খাতুন বলেন, “আকাশ একটু খারাপ হলেই ভয় লাগে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কী করবÑএ নিয়েই চিন্তায় থাকি। আগে যদি খবর পাওয়া যেত, তাহলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হতো।”

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ধস ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বেতনা, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩ কিলোমিটার এলাকা চরম ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, “জলোচ্ছ্বাস বা বড় ধরনের নিম্নচাপ হলে এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।”

 

বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুল হক ডাবলু বলেন, “নদীর পানি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তাল। উপকূলের মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। কিন্তু এখানে কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র না থাকায় আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো যায় না।” আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এড. সহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “আইলার ভয়াবহতা আমরা নিজের চোখে দেখেছি। তখন অনেক মানুষ সময়মতো আশ্রয় নিতে পারেনি। এখনো সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে তাড়া করে বেড়ায়।”

 

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই উপকূলে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলো মূলত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি রেকর্ড করে ঢাকায় পাঠায়। পরে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে অনেক সময় বিলম্ব ঘটে।

 

পরিবেশবিদ আশাশুনি সরকারী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান সজল কুমার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক একটি আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।” উপকূলবাসীর দাবি, শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; দুর্যোগের আগাম তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে যেকোনো বড় দুর্যোগে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে আশাশুনিসহ পুরো উপকূল অঞ্চল।

 

 

 

 

Ads small one

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ন্যাশনাল ডেস্ক: আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। আল্লাহর প্রিয় নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন। এ ছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে তিনি ৬৩ বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমান এ দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর একাত্মবাদের দাওয়াত দিয়ে সত্য-ন্যায়, শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর নাজিল করেন পবিত্র কোরআন। মুসলিম উম্মাহ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে উদ্যাপন করে থাকে। এ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতে মগ্ন থাকেন। অনেকে নফল রোজা রাখেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জশনে জলুস (আনন্দ শোভাযাত্রা), আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ নানা ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো প্রধান শহরগুলোয় সুষ্ঠু ও নিরাপদে শোভাযাত্রা নিশ্চিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু, শান্তি, সাম্য ও ইনসাফের প্রতীক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত মাহান্বিত দিনÑপবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)। ১২ই রবিউল আউয়াল শুধু মুসলিম জাহানের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসেই এক অনন্য ও বৈপ্লবিক মাইলফলক। যে সময়ে আরব সমাজ চরম অজ্ঞতা, অরাজকতা, সহিংসতা ও অমানবিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলÑইতিহাসে যা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিতÑঠিক সেই প্রাক্কালে আল-আমিন বা পরম বিশ্বাসী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহানবী (সা.) বিশ্ববাসীকে মুক্তির আলো দেখিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।” রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজগতের সব জাতি ও মানুষের জন্য সার্বজনীন হেদায়েতের মশাল। তিনি তাঁর আদর্শ ও চরিত্র দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষে জর্জরিত সমাজকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। ‘মদিনা সনদ’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন ধর্মীয় সহাবস্থান ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কাঠামোর কালজয়ী দলিল।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যখন সারা বিশ্বে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, যুদ্ধ, অন্যায় এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাকে নতুন করে লালন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা মিলাদ মাহফিলের মধ্যে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী-এর তাৎপর্যকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আসল উদ্যাপন লুকিয়ে আছে তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহ ও নীতি-আদর্শকে দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সৎ, আমানতদার ও ইনসাফভিত্তিক আচরণের চর্চা করা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।
মানবিক সেবা: সমাজে দুস্থ, এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবা নিশ্চিত করা।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবী (সা.)-এর মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবন থেকে সব ধরনের অন্যায়, বৈষম্য ও হিংসা দূর করাই হোক আজকের দিনের দৃঢ় অঙ্গীকার। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে চলে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তিময় জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।

 

 

 

 

ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আবু সাঈদ মোল্লার বাবা শামছুর রহমান মোল্লা (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিডিএফ প্রেসক্লাবের নেতারা।