শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ফাইল ফটো

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: উপকূলীয় জনপদ আশাশুনিতে বৈশাখ এলেই বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। কালো মেঘ, উত্তাল নদী আর ঝোড়ো বাতাসের আভাস পেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। কারণ স্বাধীনতার এত বছর পরও দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকায় গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে দুর্যোগের আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আইলার সময় আমরা বুঝতেই পারিনি কত বড় বিপদ আসছে। যখন খবর পেলাম, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখনো যদি আগাম সতর্কতার ভালো ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আবারও বড় বিপদ হতে পারে।” একই এলাকার গৃহবধূ নাছিমা খাতুন বলেন, “আকাশ একটু খারাপ হলেই ভয় লাগে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কী করবÑএ নিয়েই চিন্তায় থাকি। আগে যদি খবর পাওয়া যেত, তাহলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হতো।”

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ধস ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বেতনা, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩ কিলোমিটার এলাকা চরম ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, “জলোচ্ছ্বাস বা বড় ধরনের নিম্নচাপ হলে এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।”

 

বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুল হক ডাবলু বলেন, “নদীর পানি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তাল। উপকূলের মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। কিন্তু এখানে কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র না থাকায় আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো যায় না।” আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এড. সহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “আইলার ভয়াবহতা আমরা নিজের চোখে দেখেছি। তখন অনেক মানুষ সময়মতো আশ্রয় নিতে পারেনি। এখনো সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে তাড়া করে বেড়ায়।”

 

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই উপকূলে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলো মূলত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি রেকর্ড করে ঢাকায় পাঠায়। পরে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে অনেক সময় বিলম্ব ঘটে।

 

পরিবেশবিদ আশাশুনি সরকারী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান সজল কুমার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক একটি আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।” উপকূলবাসীর দাবি, শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; দুর্যোগের আগাম তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে যেকোনো বড় দুর্যোগে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে আশাশুনিসহ পুরো উপকূল অঞ্চল।

 

 

 

 

Ads small one

কয়রায় গুম মামলার আসামীর সংবাদ সম্মেলন, দাবী মামলা মিথ্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
কয়রায় গুম মামলার আসামীর সংবাদ সম্মেলন, দাবী মামলা মিথ্যা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের আল আমিন সরদারকে গুমের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। এই মামলায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিরা এটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দাবি করলেও বাদীর দাবী তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়রা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন গুম মামলার আসামি বিল্লাল সরদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আল আমিন দীর্ঘদিন সুন্দরবনকেন্দ্রীক দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আত্মসমর্পণের পর আবারও তিনি দস্যুতায় ফিরে যান।

বিল্লাল সরদার জানান, গত ১৬ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আল আমিনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন একটি গুমের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিল্লাল সরদার, তার ভাইসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
তার ভাষ্য, বর্তমানে আল আমিন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এতে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তিনি মামলায় মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আব্দুল হান্নান দাবি করেন, কয়েক মাস আগে সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় আল আমিন তাকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে গুলি করে আহত করা হয়। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফেরেন। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গণি ও মিজানুর রহমান খোকন মন্তব্য করেন, বিল্লাল সরদার ও অন্য আসামিরা নিরীহ মানুষ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন আবার সুন্দরবনে গিয়ে দস্যু কর্মকান্ড শুরু করেন। হয়রানির উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।

অন্যদিকে মামলার বাদী রাবেয়া খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী আল আমিন ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিল্লাল সরদার ও আব্দুল হান্নান তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের অত্যাচারের কারণেই তিনি আবার দস্যু কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।

রাবেয়ার অভিযোগ, কয়েক মাস আগে আব্দুল হান্নানের পায়ে গুলির ঘটনার জেরে বিল্লাল ও তার ভাইসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে গুম করেছেন।

তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার এক দিন আগেও স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সন্তানদের কথা ভেবে আল আমিন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন সুন্দরবনের জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফের দস্যুতায় সক্রিয় হন। কয়েক মাস আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি জাহাঙ্গীর বাহিনী ছেড়ে ‘আল আমিন বাহিনী’ নামে পৃথক একটি দল গঠন করে বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক মাস আগে আল আমিনের মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখা গেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ওঠে। তবে পুলিশ ও স্বজনদের খোঁজাখুঁজির পরও এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।

কেশবপুর সাংবাদিক রুস্তম আলীর শ্বশুরের ইন্তেকাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
কেশবপুর সাংবাদিক রুস্তম আলীর শ্বশুরের ইন্তেকাল

কেশবপুর (পৌর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ব্যাংকর আলহাজ্ব মোঃ লুৎফার রহমান বিশ্বাস দীর্ঘদিন বার্ধক্য জনিত কারণে অসুস্থ থাকায় শুক্রবার ভোররাতে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ মেয়ে এক ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

মরহুমের ১ম জানাজার নামাজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় কেশবপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা নামাজ মরহুমের নিজ বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার লেবুগাতি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

 

শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান হোসেন সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ রহমান, সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর কুতুব উদ্দিন বিশ্বাস, আফজাল হোসেন বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তিনি ছিলেন দৈনিক নোয়াপাড়া পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রুস্তম আলীর শশুর।

তালা শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামের গণসংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
তালা শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামের গণসংযোগ

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল ইসলাম। আগামী ১৬ মে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, পেশাগত অধিকার আদায় এবং শিক্ষক সমিতিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আমি নির্বাচন করছি। শিক্ষক সমাজের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করতে চাই। সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হলে শিক্ষক সমাজের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত ও অসুস্থ শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” এ সময় তিনি তালা উপজেলার সকল শিক্ষকের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।