সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় র‌্যালি, আলোচনা ও চেক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় র‌্যালি, আলোচনা ও চেক বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি, গাছের চারা বিতরণ, আলোচনা সভা ও প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সাতক্ষীরা কার্যালয়ের উপপরিচালক আফরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল মঈন।

আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম টুটুল, জাতীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলম প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, সমবায় কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং টেকসই পল্লী উন্নয়নে বিআরডিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের বিভিন্ন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

এসময় স্বল্পসুদে ঋণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দুইজন উপকারভোগীর মধ্যে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার ঋণের চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া ২৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সহায়তা হিসেবে মোট ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিটি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যদি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিশোধ কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে একটি মৌলিক প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে আমরা কি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি, নাকি প্রতিহিংসার এক অন্তহীন রাজনৈতিক চক্রের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছি?

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঙ্খিত পরিবর্তন সব সময় ঘটেনি। যে দল বিরোধী অবস্থায় থেকে দমন-পীড়নের অভিযোগ করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এই পুনরাবৃত্তি বাস্তবতা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল করে।

‎আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের যেগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হবে, সেগুলোর অবশ্যই আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত। একইভাবে বর্তমান সময়ে যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠলে তারও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ আইনের শাসনের মূলনীতি হলো আইন ব্যক্তি বা দলের পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োগ হবে।

‎বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগও আলোচিত হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না এবং যারা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিলেন, তারাও বিভিন্ন মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের একমাত্র বৈধ ক্ষেত্র আদালত। তবে এ ধরনের আলোচনা যখন জনপরিসরে বিস্তৃত হয়, তখন বিচারব্যবস্থা ও আইনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

‎একইভাবে আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝে মাঝে এমন অভিযোগও উঠে আসে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত থেকে জামিন লাভের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে এমন ধারণা যদি জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধের দায় ব্যক্তির, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়। কোনো দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ডের দায় সেই দলের প্রতিটি সাধারণ কর্মীর ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তায় না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। আবার নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আইনের শাসনের প্রকৃত চেতনা।

‎বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে যেতে পারেন; আবার আজ যারা বিরোধী, ভবিষ্যতে তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন। ফলে আজ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে, আগামী দিনে তার প্রভাব পড়বে সব রাজনৈতিক দলের ওপরই।
‎গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে সাংবিধানিক ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিসর দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত জনগণের রায়ে, প্রশাসনিক প্রভাব বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

‎বাংলাদেশের মানুষ বহু সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে তখনই, যখন আইনের শাসন বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে, বিচারব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো নাগরিক তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য বা অনিশ্চয়তার শিকার হবেন না।
‎আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা। সেই আস্থার ভিত্তি হতে পারে একটিই অপরাধীর বিচার হবে, কিন্তু নির্দোষের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে; আইন হবে নিরপেক্ষ, বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক এবং রাষ্ট্র হবে সব নাগরিকের সমান আশ্রয়স্থল।

‎প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য স্থায়ী সমাধান নয়। ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর দাঁড়িয়েই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

‎‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

পাইকগাছায় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ জুলাই সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ওয়াহিদ মুরাদ।

এসময়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব শাফিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমিতির চেয়ারম্যান প্রাণকৃষ্ণ দাশ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী সমবায়ীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন পালিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, কয়রা শাখার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা বিআরডিপির চেয়ারম্যান এফ এম মনিরুজ্জামান মনি সভাপতিত্বে ও পল্লী উন্নয়ন অফিসার (ইরেসপো) মোঃ আল মামুনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সমীর কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নিশাত ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াছাদ আলী, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন, বিআরডিবির সহ সভাপতি মোঃ আব্দুস ছালাম, সমবায়ী মোঃ আলমগীর হোসেন, রেক্সনা হক প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, সমবায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সমবায়ীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।