জুলাই সনদ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছিল, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। সোমবার সকালে যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি পক্ষ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। যারা দেশের এই অর্জন নসাৎ করতে চায়, দেশবাসী তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
সকাল ১২টার দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে উলশী-যদুনাথপুর খালের চার কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর এই উলশী থেকেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন।
সেই স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন কৃষি বিপ্লব ছাড়া এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার দেশজুড়ে ২০ হাজার খাল খননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে। কেউ বসে থাকলে চলবে না। সিঙ্গাপুর যদি মেধা ও শ্রম দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশও পারবে।”
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে তিনটি বিশেষ কার্ডের ঘোষণা দেন। তিনি জানানÑকৃষকদের জন্য আগের ‘কৃষক কার্ড’-এর সুবিধা বাড়ানো হবে। সারাদেশে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রবর্তন করা হবে ‘স্বাস্থ্য সেবা কার্ড’। রান্নার খরচ কমাতে মায়েদের জন্য দেওয়া হবে স্বল্পমূল্যের ‘এলপিজি কার্ড’।
পরিবেশ রক্ষায় সরকার সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উলশী খালের দুই ধারে তিন হাজার গাছ লাগানো হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় ৭০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
দীর্ঘদিন পর এই খাল পুনঃখননের উদ্যোগে উলশী এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই এলাকায় একটি আধুনিক হাসপাতাল ও একটি ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেন।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া শিখিয়েছেন বাংলাদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। তাই আমাদের অঙ্গীকারÑপ্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ।”







সচ্চিদানন্দ দে সদয়

