শার্শায় ডিজেল নিয়ে ‘কারসাজি’, কেজিতে ৩৮ টাকা বেশি দিচ্ছেন কৃষক!
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাটবাজারগুলোতে ডিজেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি অনেক বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। সেচ মৌসুমের এই সময়ে জ্বালানি তেলের এমন চড়া দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০৬ টাকা (সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী)। জ্বালানি তেলের ঘনত্ব অনুযায়ী এক কেজি ডিজেলের দাম হওয়ার কথা প্রায় ১৩৭ টাকা। অথচ বাগআঁচড়া ও কায়বা এলাকার মুদিদোকানগুলোতে প্রতি কেজি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ টাকা (আগের হিসেবে ৩৮ টাকা) অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
শার্শার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা জানান, যাতায়াত খরচ ও দূরত্বের কারণে তাঁরা পাম্পে না গিয়ে হাতের কাছের মুদিদোকান থেকেই ডিজেল কেনেন। এই সুযোগটিই নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। কৃষকদের অভিযোগ, গ্রামের দোকানে যে দাম চাওয়া হয়, সেচ সচল রাখতে বাধ্য হয়েই সেই দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে তাঁদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার দাম কমালো কি বাড়ালো, তাতে আমাদের কোনো লাভ হয় না। গ্রামের দোকানে যে দাম চায়, আমরা সেই দামেই কিনি। এসব দেখার যেন কেউ নেই।”
কায়বা রুদ্রপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিক কাজী বলেন, “আগে আমরা কম দামে কিনে বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু এখন পাইকারি পর্যায়েই আমাদের চড়া দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ফলে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করার উপায় নেই।” খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এই অস্বাভাবিক তারতম্য।
অভিযোগ, পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও বড় ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যের পরিবর্তে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট বা দাম বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করছে। এতে সাধারণ কৃষকদের পকেট কাটছে একটি চক্র।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো ব্যবসায়ী এমন কারসাজিতে লিপ্ত থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই ‘ডিজেল সিন্ডিকেট’ ভাঙার দাবি জানিয়েছেন।












