মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

শার্শায় ডিজেল নিয়ে ‘কারসাজি’, কেজিতে ৩৮ টাকা বেশি দিচ্ছেন কৃষক!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
শার্শায় ডিজেল নিয়ে ‘কারসাজি’, কেজিতে ৩৮ টাকা বেশি দিচ্ছেন কৃষক!

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাটবাজারগুলোতে ডিজেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি অনেক বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। সেচ মৌসুমের এই সময়ে জ্বালানি তেলের এমন চড়া দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০৬ টাকা (সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী)। জ্বালানি তেলের ঘনত্ব অনুযায়ী এক কেজি ডিজেলের দাম হওয়ার কথা প্রায় ১৩৭ টাকা। অথচ বাগআঁচড়া ও কায়বা এলাকার মুদিদোকানগুলোতে প্রতি কেজি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ টাকা (আগের হিসেবে ৩৮ টাকা) অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।

শার্শার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা জানান, যাতায়াত খরচ ও দূরত্বের কারণে তাঁরা পাম্পে না গিয়ে হাতের কাছের মুদিদোকান থেকেই ডিজেল কেনেন। এই সুযোগটিই নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। কৃষকদের অভিযোগ, গ্রামের দোকানে যে দাম চাওয়া হয়, সেচ সচল রাখতে বাধ্য হয়েই সেই দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে তাঁদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার দাম কমালো কি বাড়ালো, তাতে আমাদের কোনো লাভ হয় না। গ্রামের দোকানে যে দাম চায়, আমরা সেই দামেই কিনি। এসব দেখার যেন কেউ নেই।”

কায়বা রুদ্রপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিক কাজী বলেন, “আগে আমরা কম দামে কিনে বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু এখন পাইকারি পর্যায়েই আমাদের চড়া দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ফলে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করার উপায় নেই।” খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এই অস্বাভাবিক তারতম্য।

অভিযোগ, পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও বড় ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যের পরিবর্তে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট বা দাম বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করছে। এতে সাধারণ কৃষকদের পকেট কাটছে একটি চক্র।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো ব্যবসায়ী এমন কারসাজিতে লিপ্ত থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় কৃষকরা অবিলম্বে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই ‘ডিজেল সিন্ডিকেট’ ভাঙার দাবি জানিয়েছেন।

Ads small one

প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

একটি জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি রচিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র আমাদের চরম হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ ৮৬টি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং ওই অঞ্চলের হাজার হাজার শিশুর শিক্ষার অধিকার হরণের শামিল।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হলেন তার প্রধান শিক্ষক। যখন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, তখন তাঁর মূল কাজ অর্থাৎ পাঠদান ও তদারকিÑউভয়ই মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ওপর আরও ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান বজায় রাখা কি আদৌ সম্ভব?
গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মূলত সাধারণ ও নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তানদের একমাত্র ভরসা। সেখানে বছরের পর বছর শিক্ষকসংকট চলার অর্থ হলো গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যকে আরও উসকে দেওয়া। প্রধান শিক্ষকবিহীন স্কুলগুলোতে প্রশাসনিক স্থবিরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কেবল অমূলক নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিফলন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসরজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে এবং তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিক্ষক অবসর নেবেন—এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কেন আগে থেকেই বিকল্প জনবল বা নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হলো না? কেন বছরের পর বছর শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হবে? আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে শিক্ষার মতো মৌলিক খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
আমরা মনে করি, কেবল লিখিত চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। কেশবপুরের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে। বিশেষ করে যে ৩৪টি স্কুলে অভিভাবকহীনতা (প্রধান শিক্ষক নেই) চলছে, সেখানে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক শিক্ষায় এই বিনিয়োগহীনতা বা গাফিলতি আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবিলম্বে এই সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই প্রত্যাশা।

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও পরিকল্পনা অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও পরিকল্পনা অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা (ডিআরআর-আরআরএপি) প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায়, জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর কারিগরি সহযোগিতায়, বাস্তবায়নে সহযোগি সংস্থা সুশীলন ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বাস্তবায়নে কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। প্রকল্প সমন্বয়কারী ইমরান হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় আলোচনা রাখেন, ডব্লিউএফপি খুলনা সাব অফিসের হেড আল মামুন আজাদ, খুলনা অফিসের তাছলিমা তামাচ্ছুম, সুশীলনের উপ-পরিচালক মনীর হোসেন, প্রকল্পের মিল কো-অর্ডিনেটর খালিদ মাহমুদ, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অনিন্দ্যদেব সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান, পিআইও আমিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রুমা, অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দিপঙ্কর বাছাড় দিপু, হাজী আবু দাউদ ঢালী প্রমুখ। কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের উপর আলোচনা, প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা ও এলাকার সমস্যা তুলে ধরে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা সোয়া দুই টন (২২৫০ কেজি) নিষিদ্ধ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সদরের নকিপুর বাজারে এক যৌথ অভিযানে ৫০ বস্তা ভর্তি এই শামুক জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ ও শ্যামনগর থানা পুলিশ কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে বস্তাভর্তি নিষিদ্ধ শামুকগুলো কক্সবাজারে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. হানজালা নামের এক ব্যক্তি এসব শামুক কক্সবাজারের নূর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য বুকিং করেছিলেন। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর তফসিল অনুযায়ী এসব শামুক ও ঝিনুক আহরণ, পরিবহন ও বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বন কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা শামুকগুলো বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এই পাচার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছিল বন বিভাগ। একটি অসাধু চক্র সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করে আসছে, যা উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।