শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় জরাজীর্ণ স্কুল ভবন: শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে খোলা আকাশে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
তালায় জরাজীর্ণ স্কুল ভবন: শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে খোলা আকাশে ক্লাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১৫৪ নম্বর বুড়ন গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পিলারে ফাটল আর ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার আতঙ্কে শ্রেণিকক্ষ ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা। এখন বাধ্য হয়ে স্কুলের পাশের একটি ছাপরা ঘর ও খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান।

১৯৯৭ সালে নির্মিত এই বিদ্যালয় ভবনের প্রতিটি পিলারে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দেড় মাসে অন্তত তিনবার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার বর্মন। তিনি বলেন, “আমি যখন স্কুলে, তখনই তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ণবের হাতের ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে। শিশুরা এতটাই ভীত যে তারা ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইছে না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান জানান, ভবনটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী। শিক্ষার্থীরা তো বটেই, শিক্ষকেরাও ক্লাস না থাকলে ভবনের বাইরে অবস্থান করছেন। গত ৫ মে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা ও নতুন ভবনের দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিদ্যালয়টির ঝুঁকির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকের আবেদনটি সুপারিশসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী শেড নির্মাণ ও স্থায়ী নতুন ভবনের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস: সুন্দর হাসির স্থায়ী অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস: সুন্দর হাসির স্থায়ী অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ১৯ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস (International Retainer Day)। দাঁত সোজা করার দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য অর্থোডন্টিক চিকিৎসার পর সেই অর্জিত সুন্দর হাসি ও দাঁতের সুবিন্যস্ত অবস্থান ধরে রাখতে রিটেইনারের গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়, বরং মৌখিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আমাদের মুখগহ্বর হলো শরীরের প্রবেশদ্বার। মানুষের ৩২টি স্থায়ী দাঁত-ইনসিসর, ক্যানাইন, প্রিমোলার ও মোলার-প্রতিটিই নিজস্ব গঠন ও কাজের মাধ্যমে আমাদের খাদ্য গ্রহণ, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং সুন্দর হাসির ভিত্তি তৈরি করে। দাঁতের সঠিক বিন্যাস কেবল আত্মবিশ্বাসই বাড়ায় না, বরং এটি খাবার চিবানোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করে। যখন কোনো ব্যক্তি ব্রেস বা অ্যালাইনারের মাধ্যমে আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করেন, তখন মূলত তিনি নিজের মুখের গঠন ও স্বাস্থ্যের পুনর্বিন্যাস করেন।

অর্থোডন্টিক চিকিৎসার পর দাঁত যখন নতুন অবস্থানে আসে, তখন তার চারপাশের হাড় ও লিগামেন্টগুলোকে সেই অবস্থানের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সময়ের প্রয়োজন হয়। রিটেইনার ছাড়া দাঁত পুনরায় তার আগের এলোমেলো অবস্থানে ফিরে যেতে চায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রিল্যাপস’ নামে পরিচিত। এই রিল্যাপস রোধে রিটেইনারের ভূমিকা অপরিসীম—তা রিমুভেবল হোক বা স্থায়ী। দাঁতকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এর ব্যবহার অপরিহার্য।

সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী হাসি ধরে রাখতে রিটেইনারের সঠিক যতœ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত রিটেইনার ব্যবহার করুন। খাবার বা পানীয় গ্রহণের সময় (পানি ছাড়া) এটি খুলে রাখা উচিত। প্রতিদিন নরম ব্রাশ ও ঠান্ডা পানি দিয়ে এটি পরিষ্কার করতে হবে, তবে গরম পানি পরিহার করতে হবে যেন রিটেইনারের গঠন বিকৃত না হয়। রিটেইনার ব্যবহারের বাইরে এটি বক্সে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস দাঁতের চিকিৎসার ফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। বাংলাদেশে ব্রেসেস, রুট ক্যানেল ও ইমপ্লান্টের মতো আধুনিক দন্তচিকিৎসা জনপ্রিয় হলেও অনেক মানুষ এখনও নিয়মিত চেক-আপের বদলে ব্যথা হলে চিকিৎসকের কাছে যান। দাঁত সোজা করার পর রিটেইনারের নিয়মিত ব্যবহার এবং দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি পান-সুপারি, জর্দা ও ধূমপান বর্জন করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসি বজায় রাখা সম্ভব। তাই দিবসটি চিকিৎসার পাশাপাশি দন্তস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক রিটেইনার দিবস; অর্থোডন্টিক চিকিৎসার সাফল্য কেবল চিকিৎসকের দক্ষতায় নয়, বরং আপনার নিয়মিত সচেতনতা ও যতেœর ওপরই নির্ভর করে। নিজের হাসির বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন বজায় রাখতে রিটেইনার ব্যবহারের আগ্রহী হউন-কেননা “আজকের সচেতনতা ও নিয়মিত যতœই আগামী দিনের সুন্দর ও সুস্থ হাসির ভিত্তি গড়ে তোলে।”

 

পাইকগাছায় মরণফাঁদ খড়িয়া-ভড়েঙ্গা ব্রিজ, দেখার কেউ নেই!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মরণফাঁদ খড়িয়া-ভড়েঙ্গা ব্রিজ, দেখার কেউ নেই!

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া ভড়েঙ্গার চক গ্রামে ভড়েঙ্গা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর মাঝখানে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে রড বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া সেতুর সংযোগ সড়কও না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শতশত স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝ বরাবর বড় দুটি অংশ ভেঙে নিচের ফাঁকা অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। আশপাশে কংক্রিটে ফাটল এবং ক্ষয় স্পষ্ট। সেতুর দুই পাশের রেলিংও ভেঙে গিয়ে লোহার রড বেরিয়ে রয়েছে, যা এর নাজুক অবস্থা আরও স্পষ্ট করেছে। সেতুর নিচের পিলার ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশেও বয়সজনিত ক্ষয় এবং ফাটলের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম মন্ডল বলেন, বহু বছর ধরে সেতুটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এটি খড়িয়া সবুজ পল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ।

পথচারী রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন। যেকোন সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দূর্ঘটনা। প্রসনজিৎ মন্ডল বলেন, সেতুর মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে অসাবধানতাবশত যে কোনো সময় মানুষ বা যানবাহন পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কিংবা রাতের অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, ব্রিজটি প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে ঢালাই নষ্ট হয়ে গেছে, লোহার রড বের হয়ে গেছে। ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন একটা ব্রিজ হলে এলাকার মানুষ ভালোভাবে চলাচল করতে পারবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, ব্রিজটির চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। বরাদ্দ পেলে নতুন একটা ব্রিজ করার জন্য প্রকল্প দেয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে সেতুটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সাতক্ষীরা শিবপুরে এমএসপি ও এমএনপি সদস্যের সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শিবপুরে এমএসপি ও এমএনপি সদস্যের সভা

শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) শিবপুর মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ (এমএসপি) আহবায়ক ফরহাদ আমিন সিয়াম ও মানবাধিকার নারী পরিষদ (এমএনপি) আহবায়ক মোছা: খাদিজা খাতুন এর সভাপতিত্বে সদস্যদের সাথে দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সভায় নারী শিশু পাচার এবং শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও বাল্যবিবাহসহ এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ তথ্য অধিকার আইন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শেষে সদস্যদের উদ্যোগে এলাকাতে উক্ত বিষয়ের উপরে মানুষকে সচেতন করার জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার সিদ্ধান্ত হয়। স্বদেশ সংস্থার নাগরিকতা প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম ও প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাাম উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি