শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামের এক পরিবার ও আর্সেনিকের ‘নীরব ঘাতক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ
তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামের এক পরিবার ও আর্সেনিকের ‘নীরব ঘাতক’

শাহিন আলম, খলিষখালি (তালা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রাম। বাইরে থেকে দেখলে গ্রামটি আর দশটি গ্রামের মতোই শান্ত, কিন্তু এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক মরণব্যাধির হাহাকার। যে পানি জীবন বাঁচানোর কথা, সেই পানিই এখানে হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর কারণ। গত দুই দশকে এই গ্রামে আর্সেনিকজনিত রোগে অন্তত ৫০জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে সবচেয়ে করুণ দশা রুমানা বেগমের (ছদ্মনাম) পরিবারের। আর্সেনিকের থাবায় তিনি হারিয়েছেন স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ পরিবারের চার সদস্যকে।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত। গত ২০ বছরে আর্সেনিকোসিস কেড়ে নিয়েছে বহু প্রাণ। বর্তমানেও প্রায় ৩০০ মানুষ শরীরে এই বিষ বহন করে ধুঁকছেন। রুমানা বেগম বলছিলেন সেই যন্ত্রণার কথা, “স্বামীকে হারালাম, শ্বশুর-শাশুড়িও চলে গেলেন। এখন সন্তানদের নিয়ে বিষাক্ত পানির এই জনপদে আমি কী করে বাঁচব? বাড়ির সামনের পানির ট্যাংকটাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।”
পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর।
গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও নিরাপদ পানির সংস্থান নেই বললেই চলে। আগে একটি বেসরকারি সংস্থার দেওয়া পুকুর-বালু ফিল্টার (পিএসএফ) থেকে পানি মিলত, কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেটি এখন অকেজো। পুকুরটি আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় সেই পানিও পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপায় না দেখে জেনেশুনেই ‘বিষপান’ করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু বলেন, “বিষয়টি বারবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মানুষ এখনো সুপেয় পানির জন্য হাহাকার করছে।”
চিকিৎসকদের মতে, আর্সেনিকোসিসের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। এটি শরীরে বাসা বাঁধলে প্রথমে চামড়ায় কালো বা সাদা দাগ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে রূপ নেয়। এই মরণছল থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা।
কৃষ্ণকাটি গ্রামের সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস এখন একটাইÑএকটু বিশুদ্ধ পানি। দ্রুত কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা না হলে, এই জনপদ অচিরেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে। আর্সেনিকের থাবা রুখতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপই এখন এই গ্রামের একমাত্র আশা।

Ads small one

খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ধস, সংস্কারকাজ শুরু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার তুয়ারডাঙ্গার মুচির কোনা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর উপকূলীয় ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ধস নেমেছে। খবর পেয়ে দ্রুত জিওটিউব ফেলে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) আলমগীর হোসেন জানান, দুপুরে বেড়িবাঁধের আনুমানিক ৩০০ ফুট ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং বিকল্প বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত কাজ শেষ না হলে জোয়ারের পানি ঢুকে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০ হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পাউবোকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন উপলক্ষে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট এ দিনব্যাপী চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পির ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ যেন কোনো খরচ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ধানের বীজতলায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পার-কুখরালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধানের বীজতলায় ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, তাঁর বাবা ২০০২ সালে জব্বার সরদারের কাছ থেকে জমিটি কেনেন। কিন্তু বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত প্রতিপক্ষের নাম ওঠায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা (নং ১৯৩৭/২৫) চলমান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত জব্বার সরদারের ছেলে আব্দুর রকিব জমিতে ফসল না করার জন্য পূর্বে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর জমিতে গিয়ে দেখা যায় বীজতলার চারাগুলো বিষ প্রয়োগের কারণে মরে গেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রকিব। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবু সাইদ এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।