মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি এমপি পদ বাতিল, যা বলছে সংবিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি এমপি পদ বাতিল, যা বলছে সংবিধান

ন্যাশনাল ডেস্ক: নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন। ফলে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই কোনো সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয় না। কোনো রাজনৈতিক দল প্রাথমিক সদস্য পদসহ কাউকে বহিষ্কার করে এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানালে বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও আইনি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা নতুন একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে-তিনি যদি দল থেকে বহিষ্কৃত হন, তাহলে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদও বাতিল হবে? আইনজ্ঞদের মতে, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করতে হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলে তা ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে না।
আইন অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কারের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন। কারণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দল থেকে বহিষ্কারকে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে সংসদের স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন করলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার নজির রয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছিল।
অন্যদিকে, কোনো দল শুধু সাংগঠনিক পদ বাতিল করে এবং স্পিকারের কাছে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন না করলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নবম জাতীয় সংসদের জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও আলোচনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে দল।
আইনজ্ঞদের মতে, গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে
দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন।
বিষয়টি স্পিকারের ব্যাখ্যা বা আদালতের আইনি সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যেতে পারে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে নতুন কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে স্পিকারের সিদ্ধান্ত, আদালতের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না।
এ কারণে বিষয়টি শুধু একজন এমপির ভবিষ্যৎ নিয়েই নয় বরং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ও সংবিধানের প্রয়োগ সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আমরা ইসিকে জানিয়ে দিয়েছি। ইসি স্পিকারকে জানাবে। আমরা কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারি, কিন্তু এমপি থেকে বহিষ্কার করতে পারি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা জামায়াত থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। তাই এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।’

Ads small one

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার আইনজীবী ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার আইনজীবী ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় মানবাধিকার আইনজীবী ফোরামের (এইচআরএলএফ) সদস্যদের নিয়ে ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ২টায় সাতক্ষীরা আইনজীবী ভবনের তৃতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি সংস্থা ‘স্বদেশ’-এর বাস্তবায়নে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত ‘এনগেজ নাও’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তফা আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় পরিচালিত মামলাগুলোর পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আদালতে মামলার জট নিরসনে জ্যেষ্ঠ জেলা জজের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার একপর্যায়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়গুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় আইনজীবী ফোরামের সদস্য ছাড়াও স্বদেশ সংস্থার প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. আজাহারুল ইসলাম ও প্যারালিগ্যাল ফাইন্যান্স তাপস বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

তালায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
তালায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ নিহত ২

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে পাটকেলঘাটা ও তালা উপজেলার পৃথক এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পাটকেলঘাটা থানাধীন শাকদা সেতুসংলগ্ন মহাসড়কে সোহাগ পরিবহনের বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। তিনি শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ দাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আনন্দ দাস শাকদা সেতুসংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৪৪৬২) তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হন।
এদিকে তালা উপজেলার খুলনা-পাইকগাছা সড়কের জাতপুর এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় পারুল দাস (৭৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। তিনি খুলনার ডুমুরিয়া থানার আরশনগর গ্রামের হরিদাসের স্ত্রী।
স্থানীয়েরা জানান, সকালে জাতপুর এলাকায় সড়কের পাশে পারুল দাসের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়েরা মরদেহ উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কীভাবে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কার সিদ্দিকী জানান, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে কীভাবে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমানও দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান। মঙ্গলবার দুপুরে এ সাক্ষাৎ হয় বলে বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতাও কামনা করেন তারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিন বাহিনীর প্রধানকে আশ্বস্ত করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।