বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন। বর্ষার দীর্ঘ সিক্ততা পেরিয়ে বাংলার আকাশে এখন শরতের নীল। সাদা মেঘের ভেলা, মাঠের পাশে কাশফুল, ভোরের ঘাসে শিশির আর শিউলির সুবাসÑসব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজছে। দূরে কোথাও ঢাকের আওয়াজ। পূজার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

 

মানুষের মনে উৎসবের উচ্ছ্বাস। কিন্তু এই সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে একটি প্রশ্ন কি আমরা নিজেদের করতে পারিÑযে শরৎকে আমরা এত ভালোবাসি, সেই শরৎ কি আগের মতো আছে?বাংলার ঋতুচক্র বদলাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বৃষ্টির ধরন বদলেছে, ঋতুর স্বাভাবিক ছন্দে এসেছে অস্থিরতা। কখনো অতি বৃষ্টি, কখনো দীর্ঘ অনাবৃষ্টি। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও পানির সংকট। উপকূলীয় জনপদে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লবণাক্ততা। ফলে আশ্বিনের নীল আকাশের নিচেও মানুষের জীবন অনেক সময় অনিশ্চয়তার কালো মেঘে ঢাকা থাকে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় এলাকায় শরৎ মানেই আর শুধু বর্ষা বিদায়ের স্বস্তি নয়। অনেক জায়গায় বর্ষার পানি আশ্বিনেও থেকে যায়। কোথাও রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে, কোথাও খাল-নদীর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ। আবার অন্যদিকে লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়। একই জনপদে কখনো পানি বেশি, কখনো পানযোগ্য পানি নেইÑএ এক নির্মম বৈপরীত্য।

 

দীর্ঘদিন ধরে নদী-খাল দখল, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ, দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং পরিবেশ বিধি না মানার কারণে আমরা নিজেরাই অনেক সমস্যাকে জটিল করেছি। যে খাল একসময় বর্ষার পানি বহন করত, আজ কোথাও তা দখল ও পলি জমে সংকুচিত। যে জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধরে রাখত, সেখানে উঠেছে স্থাপনা। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, আবার পানি নেমে গেলে শুরু হয় পানির সংকট। আশ্বিন কৃষকের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমন ধানের মাঠে তখন সবুজের সমারোহ। কৃষকের চোখে নতুন ফসলের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সঙ্গে উদ্বেগও আছে।

 

বৃষ্টি ঠিকমতো হবে কি না, অতিরিক্ত পানি ধান নষ্ট করবে কি না, লবণাক্ত পানি ঢুকবে কি না, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম মিলবে কি নাÑএসব প্রশ্ন কৃষকের ঘুম কেড়ে নেয়। আমরা শহর থেকে শরতের সৌন্দর্য দেখি; কৃষক মাঠে দাঁড়িয়ে শরতের ঝুঁকি দেখেন। এটাই বাস্তবতার পার্থক্য। কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত। অথচ কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, শ্রমিকের মজুরি বাড়ে, সার-বীজ-কীটনাশকের দাম বাড়েÑকিন্তু বাজারে কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন কি না, তার নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না।

 

মধ্য স্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থাকলে উৎপাদকের ঘাম আর ভোক্তার পকেটÑদুইয়ের মাঝখানে তৈরি হয় এক অস্বচ্ছ ব্যবধান। আশ্বিনের উৎসবের বাজারও এই বাস্তবতার বাইরে নয়। দুর্গাপূজা সামনে। প্রতিমাশিল্পী ব্যস্ত। ম-প সাজানোর কাজ চলছে। নতুন পোশাক, কেনাকাটা, আলোকসজ্জাÑসব মিলিয়ে বাজারে বাড়ছে ব্যস্ততা। উৎসব মানুষের মধ্যে আনন্দ আনে, স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আনে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য উৎসবের আনন্দের সঙ্গে হিসাবের খাতাও বড় হয়ে ওঠে। একটি উৎসব তখনই সার্থক, যখন তার আনন্দ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছায়। আর এখানেই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন আসে।

 

বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতিতে উৎসব মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি বড় মাধ্যম। দুর্গাপূজা হোক কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় উৎসবÑউৎসবের মূল শক্তি মানুষের অংশগ্রহণে। পাড়া-প্রতিবেশী একে অপরের পাশে দাঁড়াবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করবেÑএটাই হওয়া উচিত উৎসবের চেতনা। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভাজন নয়, সংহতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন।আশ্বিন আমাদের এ কথাও মনে করিয়ে দেয়Ñপ্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে শুধু কবিতা লিখলে হবে না, বাস্তব কাজও করতে হবে। কাশফুলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমরা শরৎকে ভালোবাসার দাবি করতে পারি; কিন্তু একই সঙ্গে যদি খাল ভরাট করি, নদীর তীর দখল করি, জলাভূমি ধ্বংস করি, নির্বিচারে গাছ কাটিÑতাহলে সেই ভালোবাসা কতটা সত্য? পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সৌন্দর্যের প্রশংসায় নয়, ব্যবহারে। আমাদের নদী ও খালকে বাঁচাতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় শুধু প্রকল্প নয়, প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ উন্নয়ন যদি মানুষের বসবাসের পরিবেশকে ধ্বংস করে, তাহলে সেই উন্নয়নের অর্থ নতুন করে ভাবতে হবে। আজকের আশ্বিন আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে। সেখানে একদিকে দেখা যায় বাংলাদেশের চিরচেনা শরৎÑনীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশবন ও শিউলি।

 

অন্যদিকে দেখা যায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ, লবণাক্ততার কষ্ট, কৃষকের অনিশ্চয়তা, নদীর মরণদশা এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযুদ্ধ। এই দুই ছবির মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও সংকটÑদুটিই দেখতে হবে। শরৎ শুধু প্রকৃতির ঋতু নয়; এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও সময় হতে পারে। আমরা কী রেখে যাচ্ছি আগামী প্রজন্মের জন্য? নদীহীন ভূখ-? ভরাট খাল? লবণাক্ত কৃষিজমি? জলাবদ্ধ জনপদ? নাকি এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে নদী প্রবাহিত হবে, কৃষকের মাঠ সবুজ থাকবে, মানুষ নিরাপদ পানি পাবে এবং উৎসব হবে সবার আনন্দের? এই সিদ্ধান্ত কেবল সরকারের নয়। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে এখানে।

 

দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন। সে আমাদের কাছে কোনো অলৌকিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসেনি। বরং নীরবে বলে যাচ্ছেÑপ্রকৃতির ভাষা বুঝুন, মানুষের কষ্ট দেখুন, ভুলগুলো স্বীকার করুন। শরতের নীল আকাশ আমাদের চোখকে স্বস্তি দিক, কিন্তু সেই স্বস্তি যেন বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে না দেয়। কাশফুল ফুটুক। শিউলি ঝরুক। ঢাক বাজুক। পূজার আলোয় আলোকিত হোক জনপদ। কিন্তু সেই আলোর বাইরে যেন কোনো মানুষের ঘর অন্ধকারে না থাকে। আশ্বিন আসুক নতুন আশার বার্তা নিয়ে। নদীতে ফিরুক প্রাণ, খালে ফিরুক প্রবাহ, কৃষকের মুখে ফুটুক স্বস্তির হাসি, উপকূলের মানুষ পাক নিরাপদ পানি, আর উৎসব হয়ে উঠুক সত্যিকারের সম্প্রীতির উৎসব। দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন। এবার শুধু তাকে স্বাগত জানালেই হবে নাÑতার বার্তাটিও শুনতে হবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

তারিক ইসলাম

‎‘সুন্দরবন’—নামটির সঙ্গে গভীর রক্তের টান যেন ‘সুন্দরী’ গাছের। যে বৃক্ষের সমৃদ্ধি আর বিশালতায় টিকে আছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ও পরিচয়, সেই সুন্দরী গাছই আজ আক্রান্ত এক মরণব্যাধিতে। বনজুড়ে চলছে গাছগুলোর নীরব বিদায়ের করুণ সুর। কেবল পাতা আর ডালপালা শুকিয়ে যাওয়া নয়, মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে মূল কাণ্ড পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নতুন চারা গজানোর হারও। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র যে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরী গাছের এই অসুস্থতা তারই এক মারাত্মক বার্তা।

‎সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল পুরো দেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০২৪–২৫ সালে পরিচালিত ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষা অনুযায়ী, বনের প্রায় ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছই এখন ‘আগামরা’ বা ‘টপ-ডাইং’ (Top-Dying) রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্ত গাছের আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুই কোটিরও বেশি গাছ গুরুতরভাবে মরে যাওয়ার মুখোমুখি।

‎পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকারসহ বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায় এই ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

‎সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রধান বৃক্ষ যখন একযোগে রোগাক্রান্ত হয়, তখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের সমস্যা থাকে না; পুরো বনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের নোনা পানির অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি—এসব মিলেই সুন্দরী গাছের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি পানি ও মৃদু লবণাক্ত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকায় মাটির বায়ুসঞ্চালন কমছে, যা গাছগুলোর গোড়া ও কাণ্ডকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও পলি জমার কারণে বন নিজের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।

‎

‎সুন্দরবন কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের থাবা থেকে বছরের পর বছর বুক দিয়ে বাংলাদেশকে আড়াল করে রেখেছে এই ম্যানগ্রোভ বন। আর সেই বনের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সুন্দরী গাছ যদি একে একে উজাড় হয়ে যায়, তবে গোটা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ দুর্লভ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

‎

‎সুন্দরবনের এই নীরব আর্তনাদ আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময় এসেছে সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার:

‎

‎১. মিষ্টি পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার: উজান থেকে সুন্দরবনমুখী নদ-নদীগুলোতে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে আন্তঅঞ্চলীয় ও জাতীয় পানিসম্পদ নীতিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

‎

‎২.পলি নিরসন ও নদী-খাল খনন: বনের অভ্যন্তরীণ যে নদ-নদী ও খালগুলো পলি ভরাট হয়ে মিষ্টি ও নোনা পানির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

‎

‎৩.রোগ প্রতিরোধে জোরালো গবেষণা: আগামরা রোগের সঠিক জীবাণু বা অণুজীব শনাক্ত করে তা থেকে সুন্দরী গাছকে রক্ষায় বন অধিদপ্তর এবং বিজ্ঞানীদের সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

‎৪.সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও নজরদারি: বনের যেসব এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নতুন চারা উৎপাদন ও বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎

‎সুন্দরবন ছাড়া আমাদের মানচিত্রের এক বিরাট অংশকে কল্পনা করা যায় না, আর সুন্দরী গাছ ছাড়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। ১২ কোটি ৯৫ লাখ সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির বিপন্নতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে হয়তো মানচিত্রে ‘সুন্দরবন’ নামটি থেকে যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল রূপকার—আমাদের ‘সুন্দরী’।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইকেল প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে সবঠিক থাকলে ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।
প্রকল্পটি চালু হলে একইসঙ্গে মিলবে সার, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এটি পরিচালনার জন্য দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি এলজিইডি এবং কেসিসির যৌথ সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফাস্ট ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে, এটি চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, এটি চালাবে প্রফেশনাল প্রাইভেট অপারেটর। ইতোমধ্যে কোম্পানি নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি থেকে সার, জ্বালানি তেল ও বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ, প্লান্টের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের কম্পোস্ট ও পাইরোলাইসিস প্লান্টের যন্ত্রকৌশল ম্যাটারিয়ালস এ্যান্ড ম্যাটালোজিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে কারিগরি সহায়তার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ পাঁচ প্রকৌশলীকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি টিম। টিমের সদস্যরা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণে গত ১ অক্টোবর খুলনায় আসেন। ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরীক্ষা শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যান।
টিমের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. ইনসানুল করিম, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী একেএম শামসুল হুদা, প্রাক্তন নির্বাহী প্রকৌশলী, সানইয়ার্ড গ্রুপ বর্তমানে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফাকচারিং কোঃ লিঃ-এর ডিএমডি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল জব্বার, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) প্রাক্তন চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল গফুর। প্রতিনিধি দলের চারজন বুয়েট এবং বাকি একজন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা সবাই শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট মেশিনারি ডিজাইনার।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে মতামত প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী পিন্টু মন্ডল। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। তারা ২/৩ দিন এখানে ছিলেন। তাদের ক্লান্তির কারণে ৩৬ ঘণ্টা পাইরোলাইসিস করা হয়নি।
পাইরোলাইসিসের প্রসেস অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা পর তেল আসা শুরুর ২/৩ ঘণ্টা মেশিন চালানোর পর বন্ধ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে পলিথিন এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মধ্য থেকে ১০ লিটার তেল পরীক্ষার জন্য স্যারেরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করে মিটিং করে মতামত প্রকল্পের পরিচালক স্যারকে জানাবেন। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ফলাফল সফল হয়েছে বলা যায়।
এর আগে গত ১ অক্টোবর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর মেশিনারিজ সম্পূর্ণ সেট আপের পর শনিবার সকালে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়।
বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২)’র আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এটিতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাড়ে ৪০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত তেল ও বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে। একইসঙ্গে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরও একটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টও শিগগিরই চালু হচ্ছে। এই তিনটি রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
কয়রায় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ভাগবা গ্রামের ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। ১২ অক্টোবর বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন ভাগবা গ্রামের  মোঃ আব্বাস গাজীর পুত্র ,মোঃ জিয়ারুল ইসলাম (২২), মোঃ মাসুদ সরদারের পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২০), মোঃ কেনা গাজীর পুত্র, মোঃ আব্দুল আলিম গাজী (২১), মোঃ শহিদুল গাজীর পুত্র মোঃ আলী হোসেন (২১),মোঃ আয়ুব আলী মোড়লের  পুত্র, মোঃ সিফাত হোসাইন (২৪), মোঃ নজরুল শেখের পুত্র মোঃ জাকারিয়া শেখ।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল আলম জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া খেলায়  ১২ অক্টোবর ভাগবা গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। অনলাইন জুয়া মামলায় আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।