বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, চার বছরের দণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন বুধবার রাখা হয়।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। আত্মপক্ষ শুনানিতে ২৪ সেপ্টেম্বর সিয়াম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

এর আগে গত ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।

সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তবে তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় কর্মকর্তা।ু

Ads small one

সম্পাদকীয়/ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের হাহাকার ও কার্যকর সুরক্ষার তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের হাহাকার ও কার্যকর সুরক্ষার তাগিদ

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের মতো নিত্যনৈমিত্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক জীবনযাত্রার ওপর গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ শহরের বস্তিগুলোতে মাথা গুঁজে কোনোরকমে বেঁচে থাকার আকুল চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), প্রান ও স্বদেশের যৌথ গবেষণায় যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের ৭৪.৯ শতাংশই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এমনকি চরম খাদ্যাভাবের কারণে এসব পরিবারের অর্ধেকেরও বেশি (৫২.২%) মানুষকে পুরো একদিন অনাহারে থাকতে হয়েছে।

উপকূলীয় সাতক্ষীরার লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা আজ জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি শিকার। দুর্যোগের মুখে এসব পরিবারের ৪১.১১ শতাংশ মানুষ আবাদি জমি হারিয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, খাদ্য ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৭.৫ শতাংশ পরিবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল পাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১’ গ্রহণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তার সুফল এখনো উপকূলের প্রান্তিক বস্তিবাসীদের দোড়গোড়ায় পৌঁছেনি। বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠী নিরাপদ আবাস, পুষ্টিকর খাবার, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে আজ বঞ্চিত।

জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির ফলে সৃষ্ট এই খাদ্য অনিরাপত্তা কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক সমস্যা নয়; এটি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার স্পষ্ট ঘাটতি ও ব্যর্থতা নির্দেশ করে। সাতক্ষীরা শহরের বস্তিগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করা মানুষগুলোকে কেবল উন্নয়ন কর্মসূচির পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না; তাঁদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে নিরাপদ বাসস্থান, পুষ্টিকর খাদ্য ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

স্বস্তির বিষয় হলো, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এই দুর্দশার বিষয়ে অবহিত হয়েছেন এবং বস্তিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা ও নীতিগত সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল আমলাতান্ত্রিক আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, মাঠপর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার তালিকা দ্রুত আপডেট করা, খাসজমি বণ্টন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বস্তি এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশনের টেকসই সুব্যবস্থা করা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; বরং জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জীবিকা পুনর্গঠন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হতে হবে মূল অগ্রাধিকার। জাতীয় নীতি ও স্থানীয় বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধান দূর করে একটি সমন্বিত, মানবিক ও সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে, যেন দুর্যোগে নিঃস্ব হওয়া প্রতিটি মানুষ খাদ্যের মৌলিক অধিকার ও সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা পায়।

সাতক্ষীরার সংবাদপত্র পাঠকের চাহিদা কতটা পূরণ করে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার সংবাদপত্র পাঠকের চাহিদা কতটা পূরণ করে?

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সকালবেলা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজের পাতায় চোখ বোলানো আমাদের নাগরিক জীবনের এক চিরচেনা অভ্যাস। একজন সচেতন সাতক্ষীরা বাসী যখন তাঁর নিজের জেলার একটি দৈনিক পত্রিকা হাতে তুলে নেন, তখন তাঁর মনে স্বাভাবিক কিছু প্রত্যাশা থাকে। তিনি জানতে চান, তাঁর শহরের ভাঙা রাস্তাটি কবে মেরামত হবে, শহরের পেটের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণসায়ের খালের চারপাশের যানজট কবে কমবে, কিংবা কবে নাগাদ সাতক্ষীরার মাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পত্রিকার পাতা উল্টাতেই পাঠকের সেই প্রত্যাশা মুহূর্তেই হতাশায় রূপ নেয়। জন দুর্ভোগ বা জেলার উন্নয়নের খবরের বদলে সেখানে জ্বলজ্বল করে বিভিন্ন সভার ফটো সেশন, গুরুত্বহীন খবর আর ব্যক্তিগত প্রচার।

একটি জেলার স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো হলো সেই অঞ্চলের দর্পণ বা আয়না। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রের কাজ কেবল ঘটমান তথ্যের পরিবেশন নয়, বরং জনমত গঠন করা, প্রশাসনের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং এলাকার ন্যায্য দাবিগুলো নীতিনির্ধারকদের কানে নিয়মিত পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপটে আমাদের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো সেই দায়িত্ব কতটুকু পালন করছে? খুব সহজ ও সোজাসাপ্টা ভাষায় উত্তর দিতে গেলে বলতে হয়, সাতক্ষীরার সামগ্রিক উন্নয়নে এখানকার স্থানীয় দৈনিকগুলোর অবদান আজ প্রায় শূন্যের কোঠায়। এক অদ্ভুত উদাসীনতা, দায়সারা ভাব, এবং ব্যক্তি বন্দনার বৃত্তে আটকে পড়েছে আমাদের জেলার সাংবাদিকতা।

সাতক্ষীরা শহরের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সবার আগে যে সমস্যাটি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছে, তা হলো তীব্র যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের খুলনা রোড মোড়, পাকাপোল ব্রিজ, নিউ মার্কেট মোড়, কিংবা বড় বাজার, কোথাও স্বস্তিতে এক কদম ফেলার জো নেই। ছোট ও সরু সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক, ভ্যান, অটোরিকশা, ফুটপাত দখল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতায় গোটা শহর যেন এক স্থবির জনপদে পরিণত হয়েছে।

অথচ প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো এই ভয়াবহ নাগরিক সংকটটি সাতক্ষীরার স্থানীয় পত্রিকাগুলোর চোখে যেন তেমনভাবে পড়েই না! সবচেয়ে লজ্জার এবং একই সঙ্গে ভাবনার বিষয় হলো, সাতক্ষীরা শহরের এই অসহনীয় যানজট নিয়ে দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেল একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও সাতক্ষীরার পত্রিকা গুলো এদিক থেকে নির্বিকার। ঢাকা থেকে পরিচালিত গণমাধ্যমগুলো যদি সাতক্ষীরার মানুষের এই প্রতিদিনের যন্ত্রণা বুঝতে পারে এবং তা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে পারে, তবে সাতক্ষীরার মাটিতে বসে প্রকাশিত দৈনিকগুলোর নীরবতার কারণ কী?

জেলায় প্রকাশিত দু-একটি পত্রিকা মাঝেমধ্যে এই যানজট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য এবং চরম অনিয়মিত। একটি প্রধান নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে ধরনের ধারাবাহিক বা ফলোআপ রিপোর্টিং প্রয়োজন, তার ছিটেফোঁটাও এদের পাতায় দেখা যায় না। তবু মন্দের ভালো হিসেবে ‘দৈনিক পত্রদূত’-কে কিছুটা সাধুবাদ জানানো যায়, কারণ তারা অন্তত যানজট ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সচেতন লেখক ও কলামিস্টদের প্রবন্ধ বা মতামত প্রকাশ করার জায়গা করে দিয়েছে। কিন্তু বাকি পত্রিকাগুলো সেদিক থেকেও যোজন যোজন পিছিয়ে। না আছে তাদের নিজস্ব কোনো জোরালো প্রতিবেদন, না আছে কোনো বিশ্লেষণধর্মী লেখার আয়োজন। যেন শহরের মানুষ যানজটে পিষ্ট হলেও তাতে পত্রিকাগুলোর কিছু যায় আসে না। তাদের কাজ সারাদিন খবরের কপি-পেস্ট করা।

সাতক্ষীরা কেবল একটি সীমান্তবর্তী জেলাই নয়, দেশের অর্থনীতিতে এই জেলার অবদান অপরিসীম। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায়। সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি, মধু, আম এবং সুন্দরবনের পর্যটন মিলিয়ে সাতক্ষীরা এক সম্ভাবনাময় জনপদ। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও এই জেলার মানুষ তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আর এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠস্বর হওয়ার কথা ছিল আমাদের স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর।

ধরা যাক সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই। দীর্ঘ আন্দোলনের পর আইন পাস হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কার্যক্রম আজও ফাইল বন্দি। জমি অধিগ্রহণ, উপাচার্য নিয়োগ কিংবা অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। একই অবস্থা সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নাভারণ-সাতক্ষীরা রেললাইন প্রকল্পের। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসের বাণী শোনা গেছে, কিন্তু মাটিতে একটি পাথরও পড়েনি।

একসময় সাতক্ষীরার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস। হাজারো শ্রমিকের কোলাহলে মুখর থাকা সেই মিলটি আজ পরিত্যক্ত, যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এটি পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবিটি কেবল সুশীল সমাজের মানববন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়, পত্রিকার প্রথম পাতার মূল শিরোনাম হয়ে প্রশাসনের ঘুম ভাঙাতে পারে না। একইভাবে সাতক্ষীরায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি নার্সিং কলেজ স্থাপন, আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা, কিংবা শহরের ড্রেনেজ, বিশুদ্ধ পানি, ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র, আধুনিক শিশু পার্কের মতো অত্যন্ত জরুরি ইস্যুগুলো নিয়ে স্থানীয় দৈনিকগুলোর কোনো নিজস্ব এজেন্ডা বা লেখা নেই বললেই চলে।

সাংবাদিকতার একটি মৌলিক কাজ হলো জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তার ওপর নজরদারি করা। সাতক্ষীরায় যখন নতুন কোনো সড়ক নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, তখন সাধারণ মানুষের জানার অধিকার থাকে যে প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে। রাস্তাটি কত কিলোমিটার হবে, এর প্রস্থ কত থাকবে, প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় কত, এবং কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে ইত্যাদি তথ্যগুলো মানুষ সংবাদপত্রের মাধ্যমেই জানতে চায়।

কিন্তু সাতক্ষীরার কোনো দৈনিক পত্রিকাকে আজ পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের এমন বিস্তারিত বা ব্যবচ্ছেদমূলক তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করতে দেখা যায়নি। এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা পৌরসভার অধীনে কোটি কোটি টাকার কাজ হয়, কিন্তু আমাদের পত্রিকায় তার কোনও খবর আসে না।

সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত নতুন মহাসড়ক নির্মাণ হচ্ছে। এটির তথ্য নিয়ে সাতক্ষীরার কোন পত্রিকা রিপোর্ট করেছে? এই রাস্তার দুর্নীতি ও কাজের অনিয়ম নিয়ে কোন সংবাদপত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে? কেউ করেনি। পাঁচ শতাধিক কোটি টাকার বিশাল এই প্রকল্প এবং এর বিস্তারিত তথ্য-উপাথ্য নিয়ে সাতক্ষীরার কোনও পত্রিকা আজ পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট করেনি।
শোনা যাচ্ছে শহরের পাকাপোল থেকে আলিপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত ফোর-লেন হবে। এই সড়ক কবে শুরু হবে, এর ডিজাইন কেমন হবে, এর প্রশস্ততা কত হবে, এর মূল পরিকল্পনা কেমন ইত্যাদি নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও স্থানীয় পত্রিকা কোনও খবর প্রচার করেনি। কোনও পত্রিকা সড়ক ও জনপদ অফিসে গিয়ে এই বিষয়ে বা শহরের সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি সাক্ষাতকার প্রকাশ করার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি।

সাতক্ষীরার স্থানীয় পত্রিকাগুলোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বা হাস্যকর দিকটি ফুটে ওঠে যখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সংসদ সদস্যদের মতবিনিময়, পৌরসভা কিংবা অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ সভার পর সাধারণ পাঠক পরের দিন পত্রিকা খুলে জানতে চান গতকালের সভায় সাতক্ষীরার মানুষের জন্য কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? কোন সমস্যাটি কবে সমাধান হবে বলে কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছে? সভার আলোচ্য বিষয় কি ছিল? অথচ সাতক্ষীরার পত্রিকা গুলো খুললেই দেখা যায় উক্ত সভায় কে কে উপস্থিত ছিলেন এবং কি তাদের পদ পদবী। সভার মূল কার্যপ্রণালী বা কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো, তা এই খবরের মধ্যে পাওয়া যায় না। খবর পড়লে মনে হয় খবরের মাঝে ব্যক্তির প্রচার করায় প্রধান লক্ষ।

আমরা যদি জাতীয় দৈনিকগুলোর দিকে তাকাই, তবে সম্পূর্ণ বিপরীত ও পেশাদার এক চিত্র দেখতে পায়। জাতীয় পর্যায়ে যখন একনেক বৈঠক, মন্ত্রীসভার বৈঠক বা কোনো মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়, তখন জাতীয় পত্রিকাগুলো ব্যক্তি প্রচারের ধার ধারে না। সেখানে কেবল প্রধানমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নামটুকু প্রাসঙ্গিক ভাবে উল্লেখ করেই পুরো সংবাদের ৯০ শতাংশ জুড়ে তুলে ধরা হয় সভার কার্যপ্রণালী, গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের মানুষের কী লাভ বা ক্ষতি হবে তার বিশ্লেষণ। সভায় কোন কোন সচিব, অতিরিক্ত সচিব বা মেম্বার উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের নামের তালিকা ছাপিয়ে জাতীয় পত্রিকাগুলো কাগজের জায়গা নষ্ট করে না। কারণ তারা জানে, পাঠক উপস্থিতির হাজিরা খাতা পড়তে টাকা দিয়ে পত্রিকা কেনেন না, পাঠক কেনেন সিদ্ধান্তের খবর জানতে। সাতক্ষীরার পত্রিকাগুলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এই সহজ সত্যটি কবে অনুধাবন করবেন?

সাতক্ষীরার বাইরে দেশের অন্যান্য জেলার দিকে তাকালে আমাদের স্থানীয় সাংবাদিকতার এই দৈন্যদশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশের জেলা খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া কিংবা দেশের অন্যান্য প্রান্তের স্থানীয় দৈনিকগুলো প্রতিদিন নিজেদের এলাকার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পৌরসভার অনিয়ম এবং জন দুর্ভোগ নিয়ে একাধিক সমস্যামূলক প্রতিবেদন ও কর্তৃপক্ষের সাক্ষাতকার প্রকাশ করে।

অন্যান্য জেলায় স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা জন দুর্ভোগের পেছনে লেগে থাকেন। একটি ভাঙা কালভার্ট বা একটি অকেজো টিউবওয়েলের খবরও সেখানে গুরুত্ব পায়, যতক্ষণ না প্রশাসন সেটি মেরামত করছে। আর আমাদের সাতক্ষীরায় পত্রিকাগুলোর পাতা ভরে থাকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অতিথিদের নামের তালিকায়। নিজস্ব উদ্যোগে জন-সমস্যা খুঁজে বের করে প্রতিবেদন তৈরির প্রবণতা এখানে হতাশাজনক ভাবে কম। অবস্থা এমন, সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা বাইরে চোখ বন্ধ করে চলেন আর অফিসে এসে অন্যের থেকে খবর কপি-পেস্ট করেন।

সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ তাঁদের নিজেদের জেলার পত্রিকাগুলোকে ভালোবাসতে চান, নিজেদের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে পেতে চান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই অবাধ তথ্যের যুগে মানুষ এখন অনেক সচেতন। কে কোন সভায় উপস্থিত ছিলেন, সেই ছবি মানুষ ফেসবুকেই দেখে ফেলছে। পরের দিন সকালে মানুষ পত্রিকায় চায় সেই সভার ভেতরের খবর, সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং উন্নয়নের সঠিক খতিয়ান।

সাতক্ষীরার উন্নয়নে গতি আনতে হলে আমাদের স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোকে তাদের চিরচেনা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তি বন্দনা, তোষামোদি এবং নামের তালিকা ছাপানোর সংস্কৃতি বাদ দিয়ে জনস্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে। শহরের যানজট নিরসন, ফোর লেন সড়কের কাজ দ্রুত ও মানসম্মত ভাবে শেষ করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেললাইনের দাবিকে রাজপথ থেকে সংসদে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে প্রতিদিন ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

 

সংবাদপত্র যখন তোষামোদ ছেড়ে প্রশ্নের তীর ছুড়তে শুরু করবে, কেবল তখনই প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সাতক্ষীরা একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে। এখনই সময় এসেছে, সাতক্ষীরার সাংবাদিক ও সম্পাদকদের আত্ম-সমালোচনা করার।

লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজারবাগান, সাতক্ষীরা

 

অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: এমপি ফাহমিদা হক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: এমপি ফাহমিদা হক

জিএম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য দেশে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কয়রায় দুর্গোূৎসব উপলক্ষে মন্দিরসমূহের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সংস্কার কাজের প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক এসব কথা বলেন।

উপজেলা অডিটোরিয়ামে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব মত, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দেশ ও জাতি গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণের কল্যাণে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। অবহেলিত কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ এনে এই অঞ্চলকে আধুনিকায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে কয়রা উপজেলার ৫৯টি শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং ৫৪টি আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। খুলনা জেলার ৮৮৭টি পূজা মন্দিরে এবারের পূজা আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি পূজাম-পে সহায়তা দেবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ। এ সময় কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।