দুর্নীতি প্রমাণিত, তবু স্বপদে বহাল কপিলমুনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে তাঁকে স্থায়ী বরখাস্ত না করে, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত ও ইনক্রিমেন্ট বাতিলের শর্তে স্বপদে বহাল করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দাতা সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্তব্য পালনে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, অধ্যক্ষকে ‘বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি সংক্রান্ত প্রবিধান-২০২৫ (সংশোধিত)’ এর ১৩ নম্বর ধারার একাধিক উপধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা এবং টিউশন ফির আনুমানিক ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শাস্তি হিসেবে ওই টাকা বেতন থেকে কেটে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ এবং বাকি চাকুরি জীবনে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ওই আদেশের পর বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় যোগদান করতে এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, “তদন্তে লুটপাটের প্রমাণ পাওয়ার পরও তাঁকে স্বপদে ফেরানোয় আমরা হতবাক। এতে মাদ্রাসার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।”
মাদ্রাসার জমি দাতা শেখ ইউনুস আলী অভিযোগ করেন, “অধ্যক্ষ জালিয়াতি করে মাদ্রাসার জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। তদন্তে কৌশলে এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা এখন আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিরুল ইসলাম জানান, দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পর আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তেই তিনি (আব্দুস সাত্তার) চাকরিতে যোগদান করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. হাফেজ আব্দুস সাত্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।






