মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা, তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা, তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেই দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের ষষ্ঠ দিনের পরীক্ষা। সোমবার (১৩ জুলাই) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোমরসমান পানি পেরিয়ে, নৌকা ও ভ্যানে চড়ে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা গেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা চলমান পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং এর আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (১২ জুলাই) রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা তলিয়ে গিয়েছিল। এতে করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা বাতিল করে স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্রগুলোতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অনেক এলাকায় রবিবারের বৃষ্টির পানি এখনও জমে আছে। নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা।

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার কারণে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ। নোয়াখালীর হাতিয়ার কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি জমে যায় এবং উপজেলার শত শত পরিবার জলাবদ্ধতায় আটকে পড়ে। এছাড়া কুমিল্লার সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও ভাষাসৈনিক অজিত গুহ কলেজ কেন্দ্রেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে— তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা নৌকা, ভ্যান ও কোমরসমান ময়লা পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছে। অনেকেই এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবারের পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন। তবে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও তাদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়েছে।

রবিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের রবিবারের নবম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে নবম শ্রেণির দ্বিতীয় সাময়িক সিটি পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলের দাদশ শ্রেণির ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা স্থগিত করে ১৭ জুলাই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোমবারের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে অনেকেই সোচ্চার হচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে অনেকেই বলছেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা, বৃষ্টিতে আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভাবা উচিত। একটি পরীক্ষার তারিখের চেয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও সমান সুযোগ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে হলেও পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কেউ কেউ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন।

ফেসবুকে একজন পরীক্ষার্থী লিখেছেন, টানা বৃষ্টি, রাস্তায় জলাবদ্ধতা এবং বাসায় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় বসতে হবে। বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যেসব পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে, সেগুলো পরে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও লিখছেন, আমরা চাইনি পরীক্ষা পেছাতে। এমন না যে স্টুডেন্টরা সারাবছর পড়ালেখা করে নাই, তাই বলে পরীক্ষার আগে আসছে এসব বলতে। কিন্তু আপনারা একবার ভেবে দেখেছেন— যেই ছেলেটার বাসা অব্দি পানি উঠে আছে, সেই ছেলেটা কি এখনও ঘুমাতে পারছে? তার প্রিপারেশনটা কি ঠিক মতো নিতে পেরেছে? বলতে পারেন সবার তো এমন হয় নাই, কিন্তু কিছু কিছু এরিয়াতে অবশ্যই হয়েছে এবং ড্যাম শিউর অনেক এক্সাম হলেও পানি উঠে আছে। ঢাকা শহরের অধিকাংশ জায়গায় এখনও পানির নিচে। একে তো এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের আগে এক দিন গ্যাপ, তার ওপর আবহাওয়া ও পরিস্থিতি এতটা বাজে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে একটাই প্রশ্ন — কী এমন হতো যদি এই এক্সামটা কালকে না নিতেন? কী এমন হয়ে যেতো? না রাখতে পারলেন আপনাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর না রক্ষা করতে পারলেন— সকল বোর্ডের অধিকার। উল্টো সকল বোর্ডের নাম করে স্ট্যান্ডার্ডহীন প্রশ্ন হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। মনে রাখবেন, লাখো লাখো শিক্ষার্থীর অভিশাপ নিজের কাঁধে নিয়ে রেখেছেন।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সরকারের। আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবি পুনর্বিবেচনা করুন। টানা বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আজ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। চট্টগ্রামসহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। আবহাওয়া অধিদফতরও আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। সিলেট ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক জায়গা থেকে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিও উঠেছে। আজকে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশ্চয়ই আপনাদের চোখে পড়েছে।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীত আহ্বান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের দাবিটি পুনর্বিবেচনা করা হোক। পরীক্ষা পেছালে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক অ্যাকাডেমিক প্লানে নতুন করে কিছু জটিলতা তৈরি হবে এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি একজন শিক্ষার্থী সারা জীবনে একবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এবং তার ফলাফল পরবর্তী জীবনের প্রত্যেকটি ধাপে ইম্প্যাক্ট রাখবে, এটাও সত্য। কোনও শিক্ষার্থী যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাইফ টাইম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কোনও ধরনের ক্ষতি হলে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারবে না।’’

 

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিবছরই জুলাই-আগস্ট মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে তো আর এটা ফ্লেক্সিবল হতে পারে না। সেই জায়গায় যে বিষয়টা হচ্ছে— এলনিনো বলে একটা বিষয় আছে, আবার ‘লা নিনা’ আছে । যেটা প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোত ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর ফলে কখনও খরা বেশি হয়— কখনও বন্যা বৃষ্টিপাত বেশি হয়, লা নিনার প্রভাবে বৃষ্টিপাত বেশি হয়, এবার লালিনার বছর। আমাদের যারা আবহাওয়া নিয়ে কাজ করেন তারা জানেন যে, এ বছর আমাদের বৃষ্টি-ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এগুলো অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে। সেই জায়গায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে যদি আমাদের এই পাবলিক পরীক্ষার রুটিনগুলোকে একটু রি-অ্যাডজাস্ট করা হয়— তাহলে পরীক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়। পরীক্ষার্থীরা যখন একটা রুটিন পায়, তাদের একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে, পরীক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের এবং স্কুলের শিক্ষকদেরও প্রস্তুতি থাকে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের সেই প্রস্তুতির জায়গায় ওপরের ম্যানেজমেন্ট আছে, কিন্তু এক্সিকিউশন লেভেলে তো তারা আছে— তাদের ওই জায়গাটাকে ফ্যাসিলিটেট করার জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের সাথে আমাদের মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগটা আরও দৃঢ় হওয়া দরকার বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’’

Ads small one

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান। মঙ্গলবার দুপুরে এ সাক্ষাৎ হয় বলে বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতাও কামনা করেন তারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিন বাহিনীর প্রধানকে আশ্বস্ত করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।

 

 

 

প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম প্রকাশ্যে শোনা গেলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কণ্ঠ। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিরল ও তারিখহীন ভিডিওতে ৫৬ বছর বয়সী এই নেতাকে একটি ধর্মীয় অ্যাকাডেমিক সেশনে সভাপতিত্ব করতে এবং এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।

 

ভিডিওতে মোজতবা খামেনি ইরানি শাসনব্যবস্থার ইসলামি নিরাপত্তা মডেল নিয়ে আলোচনা করেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে ২০-এর মধ্যে ১৯.৫ নম্বর দিয়ে তার গবেষণাপত্রকে ‘ত্রুটিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান সংঘাতের প্রথম দিনে হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতির কারণে তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে খবর প্রকাশের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এপ্রিলে সূত্রের বরাতে জানায়, তিনি মুখের আকৃতি পরিবর্তন এবং পায়ের গুরুতর ট্রমা থেকে সেরে উঠছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে বলেছিলেন যে তিনি ‘আহত এবং সম্ভবত বিকৃত চেহারার’ শিকার হয়েছেন। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আঘাত পেলেও তা তার নেতৃত্ব প্রদানে বাধা তৈরি করেনি।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, মোজতবা মানসিকভাবে সজাগ রয়েছেন এবং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

নতুন প্রকাশিত ভিডিওটি কবে রেকর্ড করা হয়েছে বা বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি ইরানি সর্বোচ্চ নেতার একটি বিরল প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ভিডিও এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সম্পর্কের জটিলতার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, কিংবা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে আটকে না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিচারপূর্ব আটক রাখা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আগে কখনো হয়নি। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির নেতাকর্মীরা। সুতরাং আমরা কখনোই চাইবো না, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমল ফিরে আসুক। আমরা চাই, সবার ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, আইনমন্ত্রীও বলেছেন-জুলাই-আগস্টে যে ঘটনা ঘটেছে এবং যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তারপর অনেক মামলা হয়েছে। যেসব মামলা আইনগতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং যারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।’

আবার অনেক মামলা ‘অতি উৎসাহী’ হয়েও অনেকে দায়ের করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেসব মামলাও আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো সত্যতা না পাওয়া যায় বা কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে পর্যালোচনার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সরকারের অবস্থান হলো-আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ আছি। কোনো বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক বা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে বা আটক না থাকে, তা বর্তমান সরকার অবশ্যই নিশ্চিত করবে।’