নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় তাছফিয়া খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার বাইগুনি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাছফিয়া সদর উপজেলার পরানদাহ এলাকার সিদ্দিক আলী সরদারের মেয়ে। প্রায় দেড় বছর আগে বাইগুনি গ্রামের আলামিন দালালের সঙ্গে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাছফিয়ার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তাঁর স্বামী, শাশুড়ি ও দেবর রুহুল আলামিন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে।
তাছফিয়ার বাবা সিদ্দিক আলী সরদার বলেন, “বিয়ের পর থেকেই জামাতা ও শাশুড়ি টাকার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। এর আগে ট্রলি কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেয় আলামিন। কিছুদিন আগে নতুন আরেকটি ট্রলি কেনার জন্য সে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। গত পরশু সেই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তারা আমার মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় পুলিশকে ম্যানেজ করে ঘটনাটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
নিহতের ফুফু রোকসানা পারভীন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তাছফিয়ার লাশ বারান্দায় রাখা এবং ঘরে তালা ঝুলছে। আত্মহত্যার বিষয়ে একেক সময় একেক রকম কথা বলছে আলামিন। কখনো বলছে ওড়না দিয়ে, কখনো বলছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি আমরা। এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড, যাকে আত্মহত্যার নাটক হিসেবে সাজানো হচ্ছে।”
একই দাবি করে নিহতের চাচি হাজিরা খাতুন বলেন, শুক্রবার সকালে পারিবারিক কলহের জেরে দেবর ও শাশুড়ি মিলে তাছফিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে দায় এড়াতে লাশ ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকেন।
তবে পুলিশ এখনই একে হত্যাকাণ্ড বলতে নারাজ। জানতে চাইলে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।