শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

দোলাচলে ৯ মাস, নির্ধারিত দামে এলপিজি মেলে না বাজারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
দোলাচলে ৯ মাস, নির্ধারিত দামে এলপিজি মেলে না বাজারে

সরকারি হিসাবে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাকে দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৬৫ টাকা বেশি। অথচ বছরের শুরু থেকে এলপিজির দাম কখনও বেড়েছে, কখনও কমেছে। বিইআরসি প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না।

এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে গেছে। এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এলপিজি সরবরাহে সংকটের কথা মানতে নারাজ বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

৯ মাসে দামের দোলাচল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম চার দফায় বাড়িয়েছে বিইআরসি। এর মধ্যে এপ্রিলে এক মাসেই দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়। আবার জানুয়ারি, জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বরে দাম কমানো হয়েছে।

বিইআরসির নির্ধারিত দামের হিসাবে, জানুয়ারি মাসে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। এরপর ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির তুলনায় ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম করা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় দাম সিলিন্ডারে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মার্চে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। মে মাসে এই দাম অপরিবর্তিত ছিল। জুনে ৫৫ টাকা কমিয়ে দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং জুলাইয়ে আরও ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ হিসাবে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম বেড়েছে ৩৩২ টাকা। তবে এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা এপ্রিল ও মে মাসে কার্যকর ছিল।

‘সরকার যে দামের কথা বলে, সে দামে কখনোই পাইনি’

বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারের এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া যায় না কখনোই। সর্বশেষ চলতি মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে বাজারে তা ২ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা থেকে রুশিয়া মিলি জানান, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলপিজি ব্যবহার করছেন। কিন্তু সরকার যে দামের কথা বলে, বাজারে সে দামে কখনোই এলপিজি পাননি। সব সময় বাড়তি দামেই এলপিজি কিনতে হয়। চলতি মাসেও প্রায় ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে।

একই অভিযোগ করেন শান্তিনগরের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন বাড়ি হওয়ায় গ্যাসের লাইন নেই। শুরু থেকেই এলপিজি ব্যবহার করেন। এলপিজি নিয়ে সব সময়ই ভোগান্তিতে পড়েন। কখনও দোকানদার বলেন, গ্যাস পাচ্ছেন না, বেশি দামে কিনে আনতে হয়, তাই বেশি দামেই নিতে হবে। না হলে নিয়েন না। আবার বলেন, সিলিন্ডারসহ নিতে হবে। আবার বলেন, সরকার যা-ই বলুক, তিনি এই দামেই বিক্রি করবেন। ‘আপনি নিলে নেন, না নিলে নাই। যাচ্ছেতাই অবস্থা এই এলপিজিতে। দেখার কেউ নেই। ভোগান্তি শুধু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের।’

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম?

এদিকে কাঁঠালবাগান বাজারের এক ডিলার জানান, তারা চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি পান না। পেলেও বাড়তি দাম দিয়ে আনতে হয়। ‘আমরা তো আর লস দিয়ে বিক্রি করবো না।’

বড় খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিবেশকদের কাছে চাহিদাপত্র দিয়েও আগের তুলনায় কম পরিমাণ এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে। আগে ৫০০ সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে পুরোটা পাওয়া গেলেও এখন ২৫০টি দেওয়া হচ্ছে। আগে চাহিদাপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ পাওয়া গেলেও এখন অন্তত সাত দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জাহাজের প্রিমিয়াম বেড়ে সরবরাহে চাপ

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকরা বিইআরসিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে টনপ্রতি এ খরচ ৩০০ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ সেপ্টেম্বরের জন্য বিইআরসি এ খাতে ১৬০ ডলার নির্ধারণ করেছিল। আমদানিকারকদের দাবি, গত মাসে এই খরচ ১২০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে ছিল।

বাড়তি ব্যয়ে এলপিজি আমদানি করলেও সেই অতিরিক্ত খরচ তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই। বিইআরসি প্রিমিয়ামের পরিমাণ না বাড়ানো পর্যন্ত আমদানিকারকরা বাড়তি খরচ বিক্রয়মূল্যে সমন্বয় করতে পারেন না। এ কারণে নতুন চালান আনতে আমদানিকারকদের কেউ কেউ আগ্রহ হারাচ্ছেন।

তবে এলপিজি সরবরাহে সংকটের কথা মানতে নারাজ বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি মাসে দেশে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি আসে। আগস্টে এসেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন।

আমদানিকারকরা প্রিমিয়াম বেড়ে ৩০০ ডলারে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, তারা বাজার মনিটরিং করেন। অভিযোগ পেলে অভিযানও পরিচালনা করেন। এছাড়া ভোক্তা অধিকার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বলে তিনি জানান।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। টাটা ক্রপকেয়ার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেশব সাধু শুক্রবার সকাল দশটায় তার নিজ গ্রাম তৈলকুপিতে প্রায় হাজার পরিবারের মাঝে উক্ত শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

 

কেশব সাধু বলেন, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 

কেবশ সাধু বলেন, আমি এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত। গতবছর পুজায় আমার বাবা আনন্দ সাধু নিজ হাতে বিতরণ কাজ করেছিলেন। এ বছর বাবা নেই, বাবা থাকলে তিনি নিজ হাতে এ কাজ করতেন। তিনি সকলের কাছে বাবার জন্য আর্শিবাদ কামনা করেন, বাবা যেন পরপারে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাটা ক্রপকেয়ারের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ সাধু, ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: মশার বংশবিস্তার রোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জমা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ডালটন সানা, ডা. তন্ময় মন্ডল, ডা. মাম্পি মন্ডল এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রহমান রাজ।

উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। ঘরের চারপাশ ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝাতেই আমরা রোগী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছি। এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

এসএম বিপ্লব হোসেন: মেরুদন্ডের উন্নত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। একই সঙ্গে স্পাইন সার্জনদের জন্য পৃথক পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্পাইন হেলথ ফর লাইফ’ অর্থাৎ আজীবন মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্য।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থোপেডিকস, ট্রমা ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। বক্তব্য রাখেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ-দৌলা সাগর, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওশন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁসহ অন্যরা।

সভায় ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ বলেন, মেরুদন্ড সুস্থ না থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। হাঁটাচলা, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেরুদন্ড সুস্থ রাখতে সচেতনতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

মেরুদন্ডের ব্যথাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। এতে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। মেরুদন্ডের ব্যথার পেছনে ডিস্কের সমস্যা ছাড়াও যক্ষ্মা, ক্যানসার, হাড়ের ক্ষয়, কাইফোসিস, স্কলিওসিস ও অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচারের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি পর্যায়ে উন্নত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে মেরুদন্ডের চিকিৎসা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালু, স্পাইন সার্জনদের জন্য স্বতন্ত্র পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। দেশে মানসম্মত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. পলাশ জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পাইন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাতেও এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।