ধুলিহরে পূর্ববিরোধের জেরে যুবককে গাছে বেঁধে মারধর ও মব সৃষ্টির বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের চাঁদপুর মালির মোড়ে পূর্ববিরোধ ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক যুবককে আটকে রেখে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভিডিও প্রচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সৌরভ বিশ্বাস। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বি.ডি.এফ (ব্রহ্মরাজপুর-ধুলিহর-ফিংড়ি) প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন সৌরভ। তিনি ধুলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ি ডাকের বটতলা গ্রামের রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে সৌরভ বলেন, গত ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেল বন্ধক ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে তিনি চাঁদপুর মালির মোড়সংলগ্ন একটি বাড়িতে যান। বেনেখালি গ্রামের আয়ুব আলীর কাছ থেকে তিনি একটি মোটরসাইকেল বন্ধক নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মমতাজ বেগম ও ফজর আলী মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে তাঁর দাবি।
সৌরভের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ হাজার টাকা দরকার হওয়ায় ঘটনার দিন তিনি মমতাজ বেগমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। মমতাজ তাঁকে জানান, তিনি সাবিনা খাতুনের বাড়িতে রয়েছেন। পরে সেখানে গিয়ে আয়ুব আলীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন সৌরভ। এ সময় মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া ও আর্থিক লেনদেনের হিসাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।
সৌরভ অভিযোগ করেন, কিছুক্ষণ পর বাড়ির বাইরে লোকজন জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কয়েকজন তাঁকে টেনেহিঁচড়ে উঠান থেকে বের করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা, চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়কে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রূপ দিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। মমতাজ বেগমের সঙ্গে তাঁর কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছিল না দাবি করে সৌরভ বলেন, পুরো বিষয়টি মোটরসাইকেল বন্ধক ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, মমতাজ বেগমের স্বামী ফজর আলীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। এর আগে তাঁদের বাড়িঘর ও বারান্দা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার দিন ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের পাশাপাশি শাহীন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সৌরভ।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও লাইভে পূর্ণাঙ্গ ঘটনা যাচাই না করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সৌরভের অভিযোগ, কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই, বক্তব্য শোনা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের অপেক্ষা না করে কাউকে জনসমক্ষে অভিযুক্ত ও হেয় করার প্রবণতা ব্যক্তির মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তিনি জানান, স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আদালতের মাধ্যমে তাঁরা জামিন পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমাধান করাই নিয়ম। কাউকে আটকে রাখা, গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার বসিয়ে জনমত তৈরির অধিকার কারও নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার, কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ জনতার নয়।
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ যাচাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সৌরভ বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমি শুধু প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ ও ন্যায়বিচার চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মমতাজ বেগম, সাবিনা খাতুন ও ফজর আলী সৌরভের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।








