বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: সমতার গণতন্ত্র গড়তে নেতৃত্বে সমঅংশগ্রহণের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: সমতার গণতন্ত্র গড়তে নেতৃত্বে সমঅংশগ্রহণের বিকল্প নেই

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সকল নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ। কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন স্তরে তাদের অংশগ্রহণ এখনও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। সংবিধান নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করলেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলের বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব সীমিত। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে নারীর অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগ বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই নিশ্চিত হয়, যখন নারীরা রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণ, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। নেতৃত্বের অবস্থানে নারীর উপস্থিতি শুধু লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠাই করে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আরও অগ্রাধিকার দেয়।

 

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ইতিবাচক দিক হলেও দলীয় কাঠামোর মূল নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। অনেক ক্ষেত্রেই তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে থেকে যান অথবা প্রতীকী প্রতিনিধিত্বেই সীমাবদ্ধ থাকেন। একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা জরুরি।

রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর অগ্রযাত্রার পথে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সামাজিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক দায়িত্বের অসম বণ্টন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং দলীয় কাঠামোর বৈষম্য-এসব কারণে অনেক যোগ্য নারী নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পান না। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে দক্ষ ও সম্ভাবনাময় নারী নেতৃত্বের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

দলীয় কমিটিতে নারীদের শুধু সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পদগুলোতেও যোগ্য ও দক্ষ নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক পরামর্শদান, নিরাপদ অংশগ্রহণের পরিবেশ এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। নেতৃত্বের বিকাশ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া; তাই পরিকল্পিতভাবে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বেশি, সেখানে সুশাসন, জবাবদিহিতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানব উন্নয়নের সূচকও তুলনামূলকভাবে উন্নত। নারীর অংশগ্রহণ নীতিনির্ধারণকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনমুখী করে তোলে। ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে কোনো বিশেষ সুবিধা বা অনুগ্রহ হিসেবে নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নারীর সক্ষমতার বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, কূটনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে নারীরা দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের দেশে ৬৪ জেলার মধ্যে ২১ জেলায় নারী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৪৯৯টি উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে রাজনৈতিক নেতৃত্বেও নারীরা সমান দক্ষতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।

সাতক্ষীরার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত। এর প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক মানসিকতা, দলীয় নেতৃত্বে নারীদের কম সুযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কের অভাব।

রাজনৈতিক দলে নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা প্রদান, এবং পরিবার ও সমাজে নারীর নেতৃত্বকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাতক্ষীরার রাজনীতিতে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার। বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড-প্রতিটি স্তরের কমিটিতে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মেধা ও লিঙ্গসমতার নীতি অনুসরণ করতে হবে, যাতে নারীরা কেবল উপস্থিতিই নয়, কার্যকর নেতৃত্বও দিতে পারেন।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কোনো একক গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের পূর্বশর্ত। নারী ও পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব ছাড়া উন্নয়নের সুফল সর্বস্তরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের গন্ডি পেরিয়ে নারীদের প্রকৃত নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে স্থান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র এবং সমাজ যদি এ বিষয়ে আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনগণমুখী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সংবাদিক, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী

Ads small one

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইতিপূর্বে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই জোটকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকার পক্ষ থেকে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের যে স্বাধীন ও সুষম পররাষ্ট্রনীতি, তার আলোকেই এই জোটে অংশগ্রহণের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত লাভ-ক্ষতি গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ হলো “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। একটি বহুজাতিক সামরিক বা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই নীতিনির্ধারণী ভিত্তিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

‎এ ধরনের চুক্তিতে সরাসরি যোগ দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে ধারণা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, যেখানে মক্কা চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো ‘একজনের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংঘাতের জটিলতায় জড়িয়ে বাংলাদেশের সৈন্যদের অন্য দেশের যুদ্ধে নিয়োজিত করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সাথে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স এবং বিভিন্ন প্রধান শক্তির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক। কোনো সামরিক ব্লকে জড়ানোর ফলে যদি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

আঞ্চলিক পরাশক্তি, সামরিক বাজার ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ
‎দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান এবং শক্তিশালী সামরিক প্রবিধিসম্পন্ন তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের যেকোনো সামরিক সম্পৃক্ততা প্রতিবেশীদের দৃষ্টিতে একটি নতুন কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের সীমানা সংলগ্ন অঞ্চলে কৌশলগত চাপ বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে ঢাকার পথ জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উদীয়মান প্রসার ও বাণিজ্যিক স্বার্থও এখানে স্পষ্ট। তুরস্কের সামরিক আধুনিকায়ন প্রকল্প ‘ঋড়ৎপবং এড়ধষ ২০৩০’-এর আওতায় তাদের আধুনিক ড্রোন, প্রযুক্তিসম্পন্ন নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার হতে পারে।

‎বৈশ্বিক মঞ্চে ইতিবাচক কূটনীতি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবকেই পুনর্ব্যক্ত করে। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বর্ধিত দরকষাকষির ক্ষমতাকে সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সুষম কূটনীতির কাজে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪টি দেশের ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ওই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি বাণিজ্যিক নিরাপত্তা দেওয়া, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে, সরাসরি কোনো বহুজাতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়া ভিন্ন হিসাব-নিকাশের বিষয়।

‎বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা
‎১. অর্থনৈতিক রূপরেখা: মক্কা চুক্তির মতো জোটে যোগ দিলে স্বল্পমেয়াদে সৌদি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললেও, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে জ্বালানি আমদানির খরচ ও শিপিং বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণœ রাখা।

‎২. ত্রিমুখী কৌশলগত ভারসাম্য (ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র): বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সফলভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঢাকার এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
‎৩. জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ভূমিকা: সরাসরি কোনো সামরিক বলয়ে না গিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের মধ্যস্থতাকারী ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী ভাবমূর্তিকে জোরদার করা প্রয়োজন। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা।

 

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

সংবাদদাতা: চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে ফেসবুকে সরব হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত ২৪ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে শ্যামনগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট দেন। চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্যামনগরবাসীকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ‘দুবারের সফল চেয়ারম্যান’ হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মুখরোচক অপপ্রচার’ প্রতিপক্ষের ‘কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল’। তিনি ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

তবে যে মামলায় হাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন, সেই মামলার এজাহারে চাঁদা দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ রয়েছে। হাজী নজরুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর এবং তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডল ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে গত ১০ আগস্ট তাঁরা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই হাজী নজরুলের পক্ষে ফেসবুকে সরব হন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তার বক্তব্যে চেয়ারম্যানের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফলে চাঁদাবাজির মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে যাওয়ার পর এবার তার দায়িত্বে প্রশাসক বসানোর মধ্য দিয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার নতুন ব্যবস্থা করা হলো।

 

 

শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার জসনে জুলুস এর আয়োজনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে শ্যামনগরে উপজেলা জসনে জুলুস এর র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন মাস্টার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (হেলাল)। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা বেলাল হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভাপতি বক্তব্য শুরুতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নবী প্রেমিক মুসল্লীদেরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জসনে জুলুস এর উপর গুরুত্বারোব করে এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বলেন, অত্র সংগঠনটি একটি অ-রাজনৈতিক সংগঠন।

 

হুজুর পাক (সাঃ) এর আবির্ভাবের মূহুর্তে সমগ্র সৃষ্টিকুলের মধ্যে যে জাগরণ, শিহরণ ও উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছিল সেই দিনের অনুসরণে নবী প্রেমিকদের নিয়ে র‌্যালি, যাহা জসনে জুলুস র‌্যালী নামে আখ্যায়িত।

 

এই র‌্যালী অনন্তকাল ব্যাপী জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ। সভায় হায়বাতপুর শেখ পাড়া জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও খায়রিয়া আজিজিয়া ফাউন্ডেশনের সুজগ্য সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোস্তাক আহম্মাদ জসনে জুুলুস উদযাপন সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করার জন্য উপস্থিত সকলকে পরামর্শ পদান করেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলা ব্যাপী বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন থেকে র‌্যালী সহকারে উপজেলা ঈদগাহ ময়দানে আলোচন সভায় মিলিত হয়।