বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: সমতার গণতন্ত্র গড়তে নেতৃত্বে সমঅংশগ্রহণের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: সমতার গণতন্ত্র গড়তে নেতৃত্বে সমঅংশগ্রহণের বিকল্প নেই

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সকল নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ। কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন স্তরে তাদের অংশগ্রহণ এখনও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। সংবিধান নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করলেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলের বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব সীমিত। ফলে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে নারীর অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগ বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই নিশ্চিত হয়, যখন নারীরা রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারণ, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। নেতৃত্বের অবস্থানে নারীর উপস্থিতি শুধু লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠাই করে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আরও অগ্রাধিকার দেয়।

 

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ইতিবাচক দিক হলেও দলীয় কাঠামোর মূল নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। অনেক ক্ষেত্রেই তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে থেকে যান অথবা প্রতীকী প্রতিনিধিত্বেই সীমাবদ্ধ থাকেন। একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা জরুরি।

রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর অগ্রযাত্রার পথে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সামাজিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক দায়িত্বের অসম বণ্টন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং দলীয় কাঠামোর বৈষম্য-এসব কারণে অনেক যোগ্য নারী নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পান না। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে দক্ষ ও সম্ভাবনাময় নারী নেতৃত্বের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

দলীয় কমিটিতে নারীদের শুধু সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পদগুলোতেও যোগ্য ও দক্ষ নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্ব বিকাশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক পরামর্শদান, নিরাপদ অংশগ্রহণের পরিবেশ এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। নেতৃত্বের বিকাশ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া; তাই পরিকল্পিতভাবে নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বেশি, সেখানে সুশাসন, জবাবদিহিতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানব উন্নয়নের সূচকও তুলনামূলকভাবে উন্নত। নারীর অংশগ্রহণ নীতিনির্ধারণকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনমুখী করে তোলে। ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে কোনো বিশেষ সুবিধা বা অনুগ্রহ হিসেবে নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নারীর সক্ষমতার বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, কূটনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে নারীরা দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের দেশে ৬৪ জেলার মধ্যে ২১ জেলায় নারী জেলা প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৪৯৯টি উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে রাজনৈতিক নেতৃত্বেও নারীরা সমান দক্ষতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।

সাতক্ষীরার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বাড়লেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত। এর প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক মানসিকতা, দলীয় নেতৃত্বে নারীদের কম সুযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কের অভাব।

রাজনৈতিক দলে নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা প্রদান, এবং পরিবার ও সমাজে নারীর নেতৃত্বকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাতক্ষীরার রাজনীতিতে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার। বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড-প্রতিটি স্তরের কমিটিতে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মেধা ও লিঙ্গসমতার নীতি অনুসরণ করতে হবে, যাতে নারীরা কেবল উপস্থিতিই নয়, কার্যকর নেতৃত্বও দিতে পারেন।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কোনো একক গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের পূর্বশর্ত। নারী ও পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব ছাড়া উন্নয়নের সুফল সর্বস্তরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের গন্ডি পেরিয়ে নারীদের প্রকৃত নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে স্থান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র এবং সমাজ যদি এ বিষয়ে আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনগণমুখী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সংবাদিক, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী

Ads small one

অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অসময়ে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার কৃষকেরা

মীর মোস্তফা আলী: প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চিংড়ি ঘেরের আইল ও পতিত জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে অসময়ের বা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ। সবজির পাশাপাশি এখন ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ। চলতি মৌসুমে জেলার ১০৮ হেক্টর জমিতে এই তরমুজের সফল আবাদ হয়েছে।
উপকূলীয় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতেই এখন ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো এই ফল। বিশেষ করে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় বাংলালিংক ও হলুদ তরমুজের ফলন বেশি হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথম এই হলুদ তরমুজের আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৬৫ দিনে ফলন আসায় অল্প খরচে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার কৃষক ইকবাল, শিপন ও হান্নান জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জাল বাবদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও এই ফল বিক্রি করে বিঘা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুইবার তরমুজ চাষ করা সম্ভব।
উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেনের মতে, সাতক্ষীরার মাটি অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। চাকরির পেছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুণরা কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বড় অবদান রাখতে পারবেন।

বইয়ের বিকল্প কেবল বই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বইয়ের বিকল্প কেবল বই

 

‎তারিক ইসলাম
‎সভ্যতার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা এবং উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বাহন হলো বই। প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের অভূতপূর্ব বিপ্লবের যুগে আজ চারদিকে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দানা বাঁধছে—ডিজিটাল স্ক্রিন, ই-বুক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়েও কি বইয়ের আবেদন অপরিবর্তিত থাকবে? নাকি এর কোনো বিকল্প চলে এসেছে? গভীর ও সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে একটি সত্যই সামনে ভেসে ওঠে—তা হলো, বইয়ের বিকল্প কেবল আরেকটি বই-ই হতে পারে, অন্য কিছু নয়।
‎আজকের দিনে তথ্য প্রাপ্তির পথ অত্যন্ত সহজলভ্য। ইন্টারনেটের এক ক্লিকেই হাজারো তথ্য, নিবন্ধ ও সারসংক্ষেপ চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু তথ্য আর জ্ঞান এক জিনিস নয়। তথ্য আমাদের সাময়িক কৌতূহল মেটায় বা কাজের সুবিধা করে দেয়, আর জ্ঞান আমাদের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং জীবনদর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়। এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানলাভের একমাত্র এবং প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পাতায় পাতার সঙ্গে যখন একজন পাঠকের চোখ ও মনের সংযোগ ঘটে, তখন সেখানে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা শুরু হয়, যা কোনো টুকরো তথ্য বা ডিজিটাল স্ক্রিনের ক্ষণস্থায়ী স্ক্রোলিংয়ে পাওয়া অসম্ভব।
‎বই পড়ার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গভীর ও ইন্দ্রিয়গ্রাহী। কাগজের ঘ্রাণ, পাতা উল্টানোর শব্দ এবং একটি আস্ত কাহিনীর ভেতরে ডুবে যাওয়ার অনুভূতি কেবল একটি বস্তুগত বইই দিতে পারে। এর বিপরীতে, ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেশি থাকে। নোটিফিকেশন, পপ-আপ বিজ্ঞাপন বা ইন্টারনেটের নানা প্রলোভন পাঠকের মনোযোগকে বারবার ছিন্ন করে। ফলে লেখকের মূল ভাবনার গভীরে পৌঁছানো বা তার সাথে মানসিক ঐক্য স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বই আমাদের এক ধরনের একাগ্রতা শেখায়, যা আজকের দ্রুতগতির বিক্ষিপ্ত যুগে বড় বেশি দুর্লভ।
‎অনেকে মনে করেন, ই-বুক বা অডিওবুক বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নিঃসন্দেহে এগুলো প্রযুক্তির চমৎকার উপহার এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী। কিন্তু এগুলোকে বইয়ের পরিপূরক বলা চলে, বিকল্প নয়। অডিওবুক শোনার সময় আমাদের কল্পনাশক্তির ওপর শ্রোতা হিসেবে একধরনের সীমাবদ্বতা তৈরি হয়, কারণ কথক বা কণ্ঠশিল্পীর উচ্চারণের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। অথচ নিজে বই পড়ার সময় পাঠক নিজেই তার কল্পনার রঙে চরিত্র ও দৃশ্যপটকে জীবন্ত করে তোলেন। বই পড়ার এই সৃজনশীল প্রক্রিয়াটি একান্তই পাঠকের নিজস্ব।
‎সবশেষে বলা যায়, সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তির রূপ বদলায়, বিনোদনের মাধ্যমও নতুন থেকে নতুনতর হয়; কিন্তু মানুষের মননশীলতার খোরাক জোগাতে বইয়ের আসন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে। একটি ভালো বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সুসময়ের আনন্দ এবং দুর্দিনের সান্ত¡না। তাই যত আধুনিকতাই আসুক না কেন, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও আবেগের সঠিক বিকাশ ঘটাতে বইয়ের স্থান কেউ দখল করতে পারবে না। বইয়ের বিকল্প কেবল বই-ই। লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

 

কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় হাজী কল্যাণ সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য হাজী সম্মেলন উপলক্ষে কলারোয়ায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কলারোয়ার মরহুম ডাক্তার আনিসুর রহমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলারোয়া উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও কলারোয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু নসরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলহাজ মো. দ্বীন আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ গোলাম মোস্তফা। উপজেলা হাজী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামসুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী, শাহীনুর রহমান ও আব্দুর রউফ উপস্থিত ছিলেন।