বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাহিদের ৫ উইকেট, মিরপুর টেস্টে জিতলো বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
নাহিদের ৫ উইকেট, মিরপুর টেস্টে জিতলো বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে: ৫২.৫ ওভারে ১৬৩/১০, লক্ষ্য ২৬৮ (, আব্বাস ৫*; ইমাম ২; আওয়াইজ ১৫, শান ২, ফজল ৬৬, সালমান ২৬, সৌদ ১৫, রিজওয়ান ১৫, হাসান ১, নোমান ৪, শাহীন ০)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০.৩ ওভারে ২৪০/৯ ডি., লিড ২৬৭ ( এবাদত ৩*; মাহমুদুল ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, মুশফিক ২২, লিটন ১১, শান্ত ৮৭, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩, তাসকিন ১১)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬/১০ (আব্বাস ৬*; ইমাম ৪৫, আজান ১০৩, শান ৯, সৌদ ০, ফজল ৬০, রিজওয়ান ৫৯, সালমান ৫৮, নোমান ২, শাহীন ১৩, হাসান ৬)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১১৭.১ ওভারে ৪১৩/১০ (নাহিদ ৪*; মাহমুদুল ৮, সাদমান ১৩, শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১, লিটন ৩৩, মিরাজ ১০, তাইজুল ১৭, মুশফিক ৭১, এবাদত ০, তাসকিন ২৮)

মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইতিহাস গড়তে হতো পাকিস্তানকে। চতুর্থ ইনিংসে কঠিন সেই চ্যালেঞ্জে সফল হতে পারেনি তারা। নাহিদ রানার গতি ঝড়ে ১৬৩ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস। ১০৪ রানের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ লিড নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির নেই কারও। পাকিস্তানও পারেনি। তবে তৃতীয় সেশনে নাহিদ রানার ঘূর্ণিতেই ম্যাচের দৃশ্যপটে বদলে এসেছে।

তবে তিনটি জুটিতে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। আজান আওয়াইজ-আব্দুল্লাহ ফজলের ৫৪, সালমান আগা ও আব্দুল্লাহ ফজলের ৫১ রানের জুটি ভাঙার পর তৃতীয় সেশনে দলকে ম্যাচে ফেরানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান-সৌদ শাকিল। এই দুজনকে ফিরিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রানা। তার গতিতে লেজ ছেঁটে যেতে বেশি সময়ও লাগেনি। শেষ পর্যন্ত ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। শেষ উইকেটে শাহীনকে ফিরিয়ে আরেকটি পঞ্চম উইকেটও তুলে নেন নাহিদ রানা। টেস্টে এটি তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট শিকারের নজির।

দ্বিতীয় ইনিংসে নাহিদের ৫ উইকেট ছাড়াও দুটি করে নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। একটি নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

নাহিদের চতুর্থ উইকেট

৪৯তম ওভারে এসে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। তার আঘাতে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন নোমান আলী। শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়াতেই মিলেছে সাফল্য।

তাইজুলের শিকার হাসান

রিজওয়ানের আউটের পর লেজ ছেঁটে ফেলতে বেশিক্ষণ সময় নিচ্ছে না বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে পড়েছে পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট। ১ রানে ফিরেছেন হাসান আলী। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন আর ২ উইকেট।

শাকিল-রিজওয়ানকে ফেরালেন রানা

পঞ্চম উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। ৭৩ বলে ৩১ রান যোগ করেন তারা। তাদের প্রতিরোধ স্থায়ী হতে দেননি পেসার নাহিদ রানা। দুজনকেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন তিনি। ৪৪.৩ ওভারে তার গতিতে পুরোপুরি পরাস্ত হন সৌদ শাকিল। ১৫ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। এক ওভার পর রিজওয়ানকে দুর্দান্ত এক সুইং ডেলিভারিতে বোল্ড করে তুলে নেন ইনিংসে নিজের তৃতীয় উইকেট। সপ্তম উইকেটের পতনে জয়ের পথে রয়েছে স্বাগতিকরা।

তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার সালমান, ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের

দ্বিতীয় সেশনে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আলী। তৃতীয় সেশনে ফিরতেই তাদের সাজঘরে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তাইজুল ফজলকে ফেরানোর পরের ওভারে সালমান আলীকে (২৬) দুর্দান্ত স্লিপ ক্যাচে ফেরান তাসকিন। দ্রুত দুই উইকেট তুলে তাদের চেপে ধরেছে স্বাগতিক দল। অবশ্য একই ওভারে তাসকিন রিজওয়ানকেও ফিরিয়েছিলেন। লেগবিফোরের আবেদনে রিজওয়ানকে আউট দিয়েছিলেন অনফিল্ড আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন রিজওয়ান।

ফজলের প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল

শুরু থেকে প্রান্ত আগলে বাংলাদেশকে হতাশ করছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল। ফিফটি তুলে আশার সঞ্চার করছিলেন তিনি। সালমান আগাকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারে তাকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়াতে মিলেছে সাফল্য। ফজল ১১৩ বলে ৬৬ রানে আউট হয়েছেন। তাতে পড়েছে পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেট।

চা বিরতি, শেষ সেশনে ৭ উইকেট প্রয়োজন বাংলাদেশের

মিরপুরে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে জমে উঠেছে খেলা। পাকিস্তান ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে। বাংলাদেশও তাদের চাপে রেখেছে। দ্বিতীয় সেশনে এসেছে ১১০ রান, পড়েছে ২ উইকেট। তবে জয়ের জন্য এখনও পাকিস্তানের দরকার ১৫২ রান। আর বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট। সেই আশায় চা বিরতিতে গেছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১৬ রান। ক্রিজে আছেন আব্দুল্লাহ ফজল (৬৬) ও সালমান আগা (২১)। দুজনে অবিচ্ছিন্ন আছেন ৪৮ রানে।

নাহিদের গতি ঝড়ে এলো তৃতীয় উইকেট

৫৪ রানের জুটি ভাঙার পর নতুন ব্যাটার শান মাসুদকে টিকতে দেননি নাহিদ রানা। তার গতি ঝড়ে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছেন শান। লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ২ রানে ফিরেছেন। বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট।

৫৪ রানের জুটি ভাঙলেন মিরাজ

প্রথম ওভারে উইকেট হারানোর পর লড়াই করার চেষ্টা করছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইজ। ৫৪ রানের জুটি গড়েন তারা। সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী ছিলেন ফজল। সতর্ক ছিলেন আওয়াইজ। কিন্তু ১২.১ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ভেঙেছে এই জুটি। ১৫ রানে বোল্ড হয়েছেন আওয়াইজ। তার ৩৩ বলের ইনিংসে ছিল ১টি চার।

শুরুতে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে শুরুতে উইকেট তুলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৪ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৬ রান। প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তুলে নেন ওপেনার ইমাম উল হকের উইকেট।

প্রথম ওভারেই তাসকিনের আঘাত

পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছে পাকিস্তানের উইকেট। তাসকিন আহমেদের বলে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন ওপেনার ইমাম উল হক (২)।

বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা, পাকিস্তানের লক্ষ্য ২৬৮ রান

শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৯ বলে পড়েছে ৩ উইকেট। ৭১তম ওভারে হাসান আলীর বলে তাসকিন আহমেদ আউট হতেই নবম উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসও ঘোষণা করে তারা। তখন স্কোর ছিল ৯ উইকেটে ২৪০। লিড ছিল ২৬৭ রান। তাই পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬৮ রানের।

এক ওভারে নোমান আলীর শিকার মিরাজ-তাইজুল

শেষ দিকে রান বাড়িয়ে নেওয়ার তাড়ায় উইকেট বিলিয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৯.১ ওভারে ক্যাচ তুলে ২৪ রানে থেমেছেন। তার পর তাসকিন আহমেদ ছক্কা মারলেও এক বল পর তাইজুল ইসলাম বোল্ড হয়ে ফিরলে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই তুলে নেন বামহাতি স্পিনার নোমান আলী।

৮৭ রানে থামলেন শান্ত

গতকাল থেকে বাংলাদেশকে দিশা দেখাচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্য ৮৭ রানে থামতে হয়েছে তাকে। তাকে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়েছেন নোমান আলী। শান্ত রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। তার ১৫০ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।

শাহীনের শিকার লিটন

মুশফিকুর রহিমের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাসও। ২৮ বল স্থায়ী হয়েছে তার ইনিংস। শাহীন আফ্রিদির বাউন্সারে প্রলুব্ধ হয়ে হুক করতে গিয়েছিলেন। ফলাফল বাউন্ডারি লাইনে তার ক্যাচ নেন হাসান আলী। তাতে ১১ রানে আউট হয়েছেন লিটন।

মেরে খেলার চেষ্টায় আউট মুশফিক

শেষ দিনে দ্রুত রান বাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সফল হননি মুশফিকুর রহিম। দিনের খেলা শুরুর পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ইনিংস। ইন্টেন্ট দেখাতে গিয়ে শান মাসুদের কাছে ২২ রানে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার।

শেষ দিনে ব্যাট করতে নেমেছে বাংলাদেশ

ঢাকা টেস্টে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে খেলা শেষ করেছে। আলোর স্বল্পতায় চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৫২ রান। পঞ্চম ও সর্বশেষ দিন বড় স্কোরবোর্ডের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।

২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা। মুমিনুল ৫৬ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। তার পর বাকি পথটা সামাল দেন নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম। শেষ দিন এই দুজন বড় লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে ব্যাট করতে নেমেছে। এখন পঞ্চম দিন বাংলাদেশ পাকিস্তানকে কত রানের লক্ষ্য দেয় সেটাই দেখার।

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।