সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার

অনলাইন ডেস্ক: দেশের পরিবেশ রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, “শুধু ইটভাটা উচ্ছেদই নয়, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বায়ু দূষণ রোধে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১১টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলা এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শব্দ দূষণ রোধে ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পানি দূষণ রোধে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পক্ষে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া, তাই এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ)’ এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)’ প্রস্তুত করা হয়েছে।”

মন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং এক কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)’ গঠন করা হয়েছে।

জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে’ (সিসিটিএফ) মোট চার হাজার ১৫১ দশমিক ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৮৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮২৮টি প্রকল্প ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।”

Ads small one

ফিংড়ীর জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
ফিংড়ীর জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সরকারি বাজেট বরাদ্দের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজ সংস্কার, রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় জোড়দিয়া পশ্চিম পাড়ায় মৌলভী জালাল উদ্দিনের বাড়ি সংলগ্ন ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফিংড়ী ইউনিয়ন জামাায়াতের আমির শাহীনুজ্জামান শাহিন, ৭ নং ওয়ার্ড জামাায়াতের সভাপতি জুলফিকার আলী, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর সাংবাদিক মোঃ আবু ছালেক, আব্দুল আহাদ, আবুল হোসেন,আব্দুস সাত্তার, শাহিনুর রহমান, মমতাজ আলী, আব্দুস সালাম, সাইদুর রহমান, হাবিবুল্লাহ গাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উদ্বোধনকালে আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক বেহাল, খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক বেহাল, খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে মানুষ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার অতিগুরুত্বপূর্ণ গদাইপুরে বোয়ালিয়া মোড় থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত ২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও সুড়কি উঠে গিয়ে সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন রীতিমতো ভোগান্তির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

জানা যায়, সড়কটি পাইকগাছা সদর থেকে রাড়–লী, দরগাহপুর এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাছাড়া রাড়ুলী ও আশাশুনি এলাকার মানুষের খুলনা বিভাগীয় শহরের সাথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ সড়কটির ওপর নির্ভর করতে হয়। সড়কটির কোল ঘেঁষেই অবস্থিত বিএডিসি বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামার। যার ফলে কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত এই ভাঙা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন এই সড়কে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বহু যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী রবিউল ইসলাম মল্লিক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে থাকা কাঁদা-পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।” মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অলি গাজী জানান, “আমাদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। খানাখন্দের কারণে ভ্যান উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, অনেকে আহত হন।

 

পরীক্ষার দিনেও ভয়ে ভয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হয়।” অন্যদিকে একাধিক ভ্যান চালক আক্ষেপ করে জানান, রাস্তার ঝাঁকুনিতে গাড়ির পার্টস ভেঙে প্রতিদিনের আয় করা টাকা মেকানিকের পেছনেই চলে যায়। এমনকি আশঙ্কাজনক কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও এখন চরম চ্যালেঞ্জের বিষয়।

সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জনস্বার্থে অতি দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব জানান, “সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।” স্থানীয়দের আকুল আকুতি কাগজে-কলমে নয়, দ্রুততম সময়ে বাস্তবে যেন সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটিকে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কলমের দাগ থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে জুতা পেটা, পাইকগাছার স্কুলে তোলপাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
কলমের দাগ থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে জুতা পেটা, পাইকগাছার স্কুলে তোলপাড়

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির এক শিশুশিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে জুতা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর মায়ের বিরুদ্ধে। গত ১৫ জুলাই বিদ্যালয় চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ও খড়িয়া বিনাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর খাতায় দাগ দেওয়া নিয়ে দুই শিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিশু ও অপর শিশুর শার্টে কলম দিয়ে দাগ দেয়। পরে ওই শিশু বিষয়টি তার মাকে জানায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রেণিশিক্ষক ওয়াশরুমে যাওয়ার সুযোগে ওই শিক্ষার্থীর মা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর পায়ের জুতা খুলে ভুক্তভোগী শিশুকে মারধর করেন। এতে শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রতেœশ্বরের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর স্ত্রী প্রতিদিন নিজের সন্তানকে প্রথম বেঞ্চে বসান। এ ছাড়া তাঁর দুর্ব্যবহারে অন্য অভিভাবকেরাও অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর সিরাজুল ইসলাম প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এরপর গত ২২ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ চারজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান লিটু বলেন, তদন্তের সময় অভিযুক্ত নারী শিক্ষার্থীকে জুতা দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে। একজন অভিভাবকের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়ে গেছে। এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার ক্ষমা করবেন, নাকি শাস্তির আওতায় আনবেন, সেটি তিনি জানেন।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।