মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

নীলডুমুরে প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
নীলডুমুরে প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন ১৭ বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মালিকবিহীন ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন ১৭ বিজিবি এর প্রশিক্ষণ মাঠে ‘আটককৃত মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মাসুদুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ লায়েকুজ্জামান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ-সাতক্ষীরার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিশির চন্দ্র দাস, পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মশিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার-ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি চিফ পেটি অফিসার শেখ মোঃ জাকারিয়া এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।

উল্লেখ্য, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, দেবহাটা এবং কালীগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্যমান বিওপিসমূহ এবং ব্যাটালিয়ন সদর কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জন আসামীসহ ৫১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৭৯৭ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের মধ্যে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রকার মদ ৪০৬ বোতল, ফেন্সিডিল ও সমগোত্রীয় নেশাজাতীয় মাদক ১৫০৭৮ বোতল, ইয়াবা ১৮৬৫৪ পিস, ভারতীয় পাতার বিড়ি ৭৫৭৬৬ প্যাকেট, গাঁজা ৩.৮১ কেজি, বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ঔষধ ২১৭৬২৫৭ পিস, সুখি বড়ি ১৪৭০ পাতা, বিভিন্ন প্রকার মাদক জাতীয় ট্যাবলেট ১৫৭৪৬ পিস, হেরোইন ০১ কেজি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও অতি মূল্যবান মাদকের মধ্যে ছিল, এলএসডি (১০০ এমএল) ০৮ বোতল, এলএসডি (৫০ এমএল) ০৬ বোতল, ক্রিস্টাল মেথ আইস/আইস মেথ ২.৪০০ কেজি।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রধান অতিথি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং নিজ হাতে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপস্থিত বক্তিগণ সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় হস্তে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

 

Ads small one

উপকূলের জীবন, দেশের ভবিষ্যৎ/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
উপকূলের জীবন, দেশের ভবিষ্যৎ/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়, এই দেশ নদীর দেশ, বদ্বীপের দেশ এবং একই সঙ্গে উপকূলের দেশ। দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নদী, খাল, মোহনা ও সমুদ্রের যে মিলনভূমি, সেখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য জীবনব্যবস্থা। সুন্দরবনঘেরা উপকূলের মানুষের জীবন যেন জোয়ার-ভাটার ছন্দে বাঁধা। এখানে প্রকৃতি শুধু পরিবেশ নয়, জীবিকার উৎস; আবার সেই প্রকৃতিই অনেক সময় হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।সুন্দরবন উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আলোচনা মানে কেবল দারিদ্র্য বা দুর্যোগের কথা বলা নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা। কারণ এই উপকূল বেঁচে থাকলে দেশের একটি বড় অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভিত্তি বেঁচে থাকবে।

 

একসময় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জীবন ছিল নদীনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণ এক অর্থনীতির উদাহরণ। নদী ছিল মাছের ভা-ার, খাল ছিল পানির আধার, পলি ছিল কৃষির প্রাণ। কৃষক বর্ষায় নদীর আশীর্বাদ পেতেন, শুষ্ক মৌসুমে জমিতে ধান ফলাতেন। জেলে নদীতে মাছ ধরতেন, মৌয়াল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতেন, বাওয়ালিরা বনজ সম্পদ আহরণ করতেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে।

 

নদীর নাব্যতা কমেছে, খাল ভরাট হয়েছে, জলাবদ্ধতা বেড়েছে এবং লবণাক্ততা ভেতরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ফলে ঐতিহ্যগত জীবনব্যবস্থার ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে। সুন্দরবনকে অনেকেই শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল হিসেবে দেখেন। বাস্তবে এটি উপকূলীয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ঘূর্ণিঝড়ের গতি কমানো, জলোচ্ছ্বাসের আঘাত প্রশমিত করা, নদীর তীর রক্ষা করা এবং জীববৈচিত্র্েযর ভারসাম্য বজায় রাখতে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।

 

মধু, গোলপাতা, মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির পোনাÑএসব শুধু বনজ সম্পদ নয়; এগুলো অসংখ্য পরিবারের দৈনন্দিন আয়ের উৎস। কিন্তু বনও সীমাহীন সম্পদের আধার নয়। অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ, নদী দখল, অবৈধ কর্মকা- এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সুন্দরবনের ক্ষতি মানে উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়া। উপকূলের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটগুলোর একটি হলো লবণাক্ততা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী লোনা পানির অনুপ্রবেশের কারণে অনেক এলাকায় কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ কিংবা খুলনার কয়রা ও দাকোপ অঞ্চলে এখন সুপেয় পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়।

 

পুকুরের পানি লবণাক্ত, নলকূপে লবণ, জমিতে লবণÑএই বাস্তবতা শুধু কৃষিকে নয়, মানুষের স্বাস্থ্যকেও হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে নারীদের ওপর এর প্রভাব বেশি। অনেক এলাকায় প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এটি সময়ের অপচয় নয়; এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নও। উপকূলীয় কৃষি এখন গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় যেখানে ধান ছিল প্রধান ফসল, সেখানে এখন চিংড়িঘেরের বিস্তার ঘটেছে। চিংড়ি রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও এর পরিবেশগত মূল্য কম নয়।

 

চিংড়ী চাষের ফলে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়,মিঠাপানির উৎস নষ্ট হয়,
কৃষিজমি কমে যায়, ক্ষুদ্র কৃষক জমি হারান, কৃষিশ্রমিকদের কর্মসংস্থান কমে যায়। ফলে উপকূলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়ছে। কিছু মানুষ লাভবান হলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। উপকূলের অর্থনীতির আরেকটি বড় ভিত্তি মৎস্যসম্পদ। কিন্তু নদীর পরিবর্তিত পরিবেশ, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অতিরিক্ত আহরণ এবং দূষণের কারণে দেশীয় মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে।

জেলেদের আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। মাছ কমে গেলে শুধু জেলের ক্ষতি হয় না; স্থানীয় বাজার, পরিবহন, বরফকল, আড়তÑসমগ্র অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূলের মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করতে শিখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সহনশীলতার সীমা কোথায়?সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস কিংবা সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়গুলো দেখিয়েছে, একটি দুর্যোগ কয়েক দশকের উন্নয়নকে মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে। ঘরবাড়ি ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়, মাছের ঘের ভেসে যায়, পানির উৎস দূষিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবার দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা পুনর্গঠন খুব কম ক্ষেত্রেই নিশ্চিত হয়। উপকূলের আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো নদীভাঙন। বেতনা, কপোতাক্ষ, শিবসা, পশুরসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী মানুষ প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় থাকেন।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল বেড়িবাঁধ। অনেক বাঁধ বছরের পর বছর মেরামতের অপেক্ষায় থাকে। কোথাও সামান্য ফাটল বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেয়। বাঁধ ভেঙে লোনা পানি ঢুকে পড়লে শুধু একটি মৌসুম নয়, বহু বছরের জন্য জমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এখানেই উন্নয়ন পরিকল্পনার বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়। একই বাঁধ বারবার মেরামত করা হয়, কিন্তু নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উপকূল ব্যবস্থাপনার প্রশ্নগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। উপকূলের সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করেন নারীরা।

 

পানি সংগ্রহ, পরিবার রক্ষা, দুর্যোগের পর ঘর পুনর্গঠন, হাঁস-মুরগি পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসাÑসবক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ সদস্যরা অনেক সময় কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে গেলে নারীদেরই পরিবার টিকিয়ে রাখতে হয়। অথচ নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তাদের অভিজ্ঞতা খুব কমই গুরুত্ব পায়। সংকটের মধ্যেও উপকূলের মানুষ অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। তারাÑলবণসহিষ্ণু ধানের জাত ব্যবহার করছে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছে,ভাসমান কৃষি করছে, কাঁকড়া ও হাঁস পালন বাড়াচ্ছে, ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলছে। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, উপকূলের মানুষ শুধু সাহায্যপ্রার্থী নয়; তারা পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হতে সক্ষম।

 

উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। প্রথমত, নদী ও খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তৃতীয়ত, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, কৃষি ও মৎস্যখাতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চমত, সুন্দরবন সংরক্ষণকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অংশ করতে হবে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্থানীয় জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উপকূলের বাস্তবতা বোঝার সবচেয়ে বড় উৎস সেখানকার মানুষ। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আমরা যখন বড় বড় পরিসংখ্যানের কথা বলি, তখন মনে রাখতে হবেÑউপকূলের মানুষের নিরাপত্তা ছাড়া সেই উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। উপকূল শুধু একটি ভৌগোলিক প্রান্ত নয়; এটি দেশের খাদ্য, মৎস্য, পরিবেশ ও জলবায়ু নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।

 

সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, উপকূল বাঁচলে নদী বাঁচবে, আর নদী বাঁচলে বাংলাদেশ তার প্রকৃত নদীমাতৃক পরিচয় ধরে রাখতে পারবে। তাই উপকূলের জীবন-জীবিকার প্রশ্নকে আর প্রান্তিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আজ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্ন। উন্নয়ন, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কেবল উপকূলের মানুষ নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারবে, আর সেই ভবিষ্যৎই হবে বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।

লেখক: সংবাদকর্মী

পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী।

সভায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, সাধারণ সম্পাদক এম. জালাল উদ্দীন,পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি জিএম মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আব্দুস সালাম কেরু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী, দিলীপ কুমার, আজিজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা, প্রভাষক আবু সাবাহ প্রমুখ।

 

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

 

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশানর (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান, শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে থাকা রাশেদ হোসাইন জানান মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী দু’টি প্রতিষ্টানকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ডাঃ ফার্নান্দো মা ও শিশু হাসপাতাল এবং প্রযুক্তি ক্লিনিক দু’টির সরকারি অনুমোদন না থাকাসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত চিকিৎসক না থাকার কারনে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র নবায়নপুর্বক তা পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছে।