বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে র‌্যালি শেষে হলরুমে এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

মেডিকেল অফিসার ডাঃ অর্ণব ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, ডাঃ মো. জহুরুল ইসলাম, ডাঃ সঞ্জয় কুমার মন্ডল, ডাঃ শাকিলা আফরোজ।

সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ, নবোলকের প্রতিনিধি ফারহানা আফরোজ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের মার্শিয়া হাওদার, সিনিয়র স্টাফ নার্স রেহানা পারভীন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক রুহুল কুদ্দুস এবং প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র শিকারীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Ads small one

দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম।

সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশফাক হোসেন, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি উজ্জ্বল, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম. রেজাউল করিম, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এবং আশার আলোর প্রতিনিধি আব্দুল গনি। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

আশাশুনি সংবাদদাতা: একসময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে শাপলা ফুলের বাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই ফুটে উঠতো সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের শাপলা, যা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনের এক আবেগময় অংশ হিসেবেই পরিগণিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আশাশুনির সেই অপরূপ দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, জলাশয় ভরাট, রাসায়নিক বর্জ্য এবং অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ শাপলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় গ্রামের শিশুরা সকাল সকাল শাপলা তুলতে পুকুরে যেত। মায়েরা রান্নার উপকরণ হিসেবে শাপলার ডাটা সংগ্রহ করতেন। শাপলার শিকড় (ঢ্যাঁড়শের মতো অংশ) ছিল গ্রামীণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা পেটের নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামে পুকুরঘাট, বিল বা খালের ধারে বসে শাপলা ফোটা দেখার যে অপার আনন্দ ছিল তা আজ শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। আশাশুনির বড়দল, খাজরা, বুধহাটা, কাদাকাটি, আনুলিয়া, শ্রীউলা, প্রতাপনগরসহ অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো শাপলা দেখা যায় না।উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শাপলা শুধু একটি ফুল নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যবান এলাকার পরিচায়ক।

 

এটি জলাশয়ের স্বাস্থ্যবিধান রক্ষা করে এবং ছোট মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে শাপলা বিলুপ্ত হওয়া মানে শুধু ফুল হারানো নয়, একটি জীববৈচিত্র্যগত ভারসাম্যের বিপর্যয়ও। আশাশুনি সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতি চেনাতে হলে, গ্রামীণ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিল ও খাল পুনরুদ্ধার, রাসায়নিক দূষণ রোধ এবং শাপলা সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।পরিবেশবান্ধব আশাশুনি গড়তে হলে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

কেশবপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিসিআইসি ডিলাররা সিন্ডিকেট করে রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চলতি পাট মওসুমে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাব ডিলারদের অভিযোগ, এসব সার বিসিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে তাদের চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে বলেই তারা কৃষকদের কাছে চড়া মূল্যেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

ডিলারদের অতি মুনাফা লাভের আশায় এ উপজেলায় সম্প্রতি টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পাট ও সবজি চাষীরা পড়েছেন বিপাকে। যে কারণে চলতি মওসুমে কেশবপুরে পাট চাষে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার রয়েছেন ১৩ জন। এসব ডিলারের অধীনে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১০৮ জন খুচরা বিক্রেতা (সাব ডিলার) রয়েছেন। এছাড়া এ উপজেলাই বিএডিসি ডিলার রয়েছে ২৯ জন। চলতি মওসুমে কেশবপুরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে।

 

এছাড়া সবজি চাষ হয়েছে ৬ শত ৮০ হেক্টর জমিতে। পাট ও অন্যান্য সকল প্রকার মওসুমি ফসলের অনুকুলে চলতি জুন মাসের মোট ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ শত ১৮ মেট্রিক টন, ডিএপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ শত ৯২ মেট্রিক টন, এমওপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ শত ১০ মেট্রিক টন, টিএসপি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭২ মেট্রিক টন। গত মে মাসে ১ শত ৩৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১ শত ৩০ মেট্রিক টন ডিএপি, ১ শত ১৫ মেট্রিক টন এমওপি ও ৫৫ মেট্রিক টন টিএসপি সারের বরাদ্দ দেয়া হয়।

 

অথচ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অধিকাংশ বিসিআইসি ডিলার ও সাব ডিলাররা অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশী দামে সার বিক্রি করছেন। এর ফলে ভরা মওসুমে কৃষকরা বাধ্য হয়ে এ সার চড়া মূল্যে কিনে জমিতে প্রয়োগ করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটা দোকানে সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা থাকলেও প্রতি কেজি ইউরিয়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ডিএপি ৩২ থেকে ৩৮ টাকা, টিএসপি ৩৫ থেকে ৪২ টাকা, এমওপি ২২ থেকে ২৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা সার বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, কেশবপুর উপজেলার প্রত্যেক বিসিআইসি ডিলারের রয়েছে গোপন গুদাম ঘর।

 

রাতের আধারেই সেখান থেকেই চড়া মূল্যে এ সার চলে যাচ্ছে মৎস্য ব্যবসায়ীর ঘেরে। যার কারণে বিসিআইসি ডিলাররা বরাদ্দকৃত সার সাব ডিলারদের কাছে বিক্রি করতে অনিহা প্রকাশ করছেন। এভাবে বিসিআইসি ডিলাররা সারের সংকট তৈরী করে তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রি করছেন। বিধায় কৃষকদের চড়া মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, চলতি মাসে তার দোকানে ইউরিয়া সারের চাহিদা ১৫০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ২০ বস্তা, ডিএপি সারের চাহিদা ১৫০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৫ বস্তা, টিএসপি সারের চাহিদা ১০০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৫ বস্তা, এমওপি সারের চাহিদা ১০ বস্তা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৩ বস্তা।

বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের কৃষক মোকাররাম হোসেন বলেন, চলতি বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এ জমিতে সার প্রয়োগ করতে তিনি বাধ্য হয়ে কেশবপুর শহরের এক দোকান থেকে ১৫ শত টাকায় ১বস্তা ইউরিয়া ও ১৫ শত টাকায় ১বস্তা ডিএপি কিনেছেন। দোকানে স্যারের সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা থাকলেও সে দামে তিনি সার কিনতে পরেনি। তার অভিযোগ, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় অধিকাংশ সার ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশী দামে সার বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে বলেন, সারের কোন সংকট নেই। কৃষকরা মাত্রা অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কোন ব্যবসায়ী বেশী দামে সার বিক্রি করলে তার রশিদ থাকলে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।