মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোয় ব্যস্ত চাষিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোয় ব্যস্ত চাষিরা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় গাঢ় সবুজ পাট কেটে তা জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কয়েকদিন আগে ভারি বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন জলাশয়ে পানি জমে থই থই করছে। সেই পানিতেই এখন পাট জাগ ও ধোয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার অনেক স্থানে পাট চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও আঁশ ভালো হয়েছে। এতে কৃষকরাও খুশি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা স্থানভেদে পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, পাট ধোয়া এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে।

কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৮৩ হেক্টর জমিতে। উপকূলের লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয়, তোষা ও অন্যান্য জাতের পাট রয়েছে।

 

উপজেলার গদাইপুর গ্রামের পাটচাষী কেসমত সরদার জানান, পাট ও পাটকাটির দাম বেশি হওয়ায় লাভ বেশী হবে। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, সেচ, রাসায়নিক সার প্রয়োগ, পাট কাটা, শুকানোসহ খরচ হবে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এবার পাটের আঁশ ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ পাট পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। আর তাতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। পাটের দাম বেশি পাওয়ায় সোনালী আঁশের সুদিন ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় পাট চাষীরা।

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে প্রতি মন পাট তিন হাজার টাকা থেকে তিন হাজার দুশত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাট ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও পাট কেনা শুরু করেছে। তাই ভালো ফলন ও আশানুরুপ দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠেছে। সোনালী আঁশের রঙে ভরে গেছে কৃষকের মন।

উপজেলার হিতামপুর গ্রামের পাট চাষি আব্দুস সামাদ বলেন, পাট চাষে নানা বিড়ম্বনার শিকার হয়। বড় সমস্যা পাট জাগ দেওয়ার জায়গা পাওয়া যায় না। এতে পাটের আবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ কিছুটা কমে এসেছে। কারণ পাট পচানোর সমস্যা। এখন পুকুর-জলাশয় মাছ চাষের আওতায় এসেছে। ফলে মাছ চাষ করা পুকুর-জলাশয়ে পাট পচানো সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার গোপালপুর গ্রামের পাটচাষী কেরামত সরদার জানান, শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় পাটের আবাদের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে পাটকাঠির দাম বেশি হওয়ায় সেটি পুশিয়ে যাচ্ছে। পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় পাট চাষীদের খরচ অনেকাংশে বেচে যাচ্ছে। ছোট ছোট আটি হিসাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানী হিসাবে গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা খুব বেশি। পাটকাঠি দিয়ে সহজে উনুন জ্বালানো যায় ও সহজে রান্না করা যায়। এইজন্য গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা বেশি।

পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, সরকার পাট চাষীদের সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। পাট চাষিরা গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি পাচ্ছেন। পাটকাঠি থেকেও কৃষকরা আশানারুপ মূল্য পাচ্ছেন। পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাটের সুদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে।

 

 

 

 

Ads small one

ফিংড়ীর ব্যাংদহা বাজারে গণশৌচাগার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
ফিংড়ীর ব্যাংদহা বাজারে গণশৌচাগার উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ব্যাংদহা বাজারে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে একটি গণশৌচাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শৌচাগারটির উদ্বোধন করেন। ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যাংদহা বাজার বণিক সমিতির যৌথ অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান, ইউপি সদস্য মো. আবু ছালেক, সমাজসেবক এসএম নজরুল ইসলাম, প্রভাষক এসএম ফিরোজ আহমেদ, আকবর আলী, ব্যাংদহা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ রেজা, সহসভাপতি শেখ শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খাইবার, কোষাধ্যক্ষ আকতারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. গাউছুল আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মহিবুল্লাহ বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক মো. মাসুদ হোসেন এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

সাতক্ষীরায় সেতুবন্ধনগড়ি নেটওয়ার্কের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সেতুবন্ধনগড়ি নেটওয়ার্কের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় এসিড সার্ভাইভারদের সংগঠন ‘সেতুবন্ধনগড়ি নেটওয়ার্ক’ (এসবিজিএন)-এর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে “ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা রিফ্রেশার্স” প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা ‘স্বদেশ’ ও ‘অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার স্বদেশের মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি শাহানারা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জ্যোৎস্না দত্ত। প্রশিক্ষণে সদস্যদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাজার ব্যবস্থাপনা, বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ চলাকালে এসবিজিএন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছফুরা খাতুনের অকালপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। পুরো কার্যক্রমটি সঞ্চালনা করেন লোকাল রাইটস প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নুরুন নাহার বেগম এবং এসবিজিএন (স্বদেশ)-এর প্রোগ্রাম অফিসার দেবজ্যোতি ঘোষ।

তালায় এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
তালায় এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

তালা প্রতিনিধি: এসো উন্নত তালা গড়ি স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার তালায় তালা সদর উন্নয়নে নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে মোবারকপুরের উত্তরণ ট্রেনিং সেন্টারে তালা উন্নয়ন কমিটির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব তালার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তালায় কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপযুক্ত জায়গা পাওয়া গেলে শিশু পার্ক স্থাপন করা হবে। তালা বাজারের পুকুর ভরাট করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ কপোতাক্ষ নদের পাশ দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে জনস্বার্থে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও বলেন, তালার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালা প্রেসক্লাব ভবনের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো এবং তালায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মধ্যে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড সঠিক ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম। উন্নয়ন প্রচেষ্টা পরিচালক শেখ ইয়াকুব আলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, তালা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মির্জা আতিয়ার রহমান, তালা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রায়হানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সভায় তালা সদরকে পৌরসভায় উন্নীতকরণ, উপজেলা প্রশাসন ও সেবাকেন্দ্রগুলো এককেন্দ্রীককরণ, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি জনস্বার্থে ব্যবহার, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পার্ক স্থাপন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি তুলে ধরা হয়।