বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে আতঙ্কে কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে আতঙ্কে কৃষক

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাল বৈশাখী ঝড় ও ধান কাটা শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। সম্প্রতি এ অঞ্চলের উপর দিয়ে ৩/৪ বার ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ায় ক্ষেতের ধানগাছ এলামেলো হয়ে পড়লেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এলাকার প্রায় সব ক্ষেতের ধান এক সাথে পাকার কারণে ধান কাটা শ্রমিক সংকটে মাঠের ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন বিলে ৬ হাজার ১৭ হেক্টর হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো চাষে ডিজেল ও বিদ্যুতের সরবরাহ চাহিদা মত ছিলো না। তারপরও সব মিলিয়ে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপকূলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বৃষ্টি মৌসুম এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কমবেশি এর প্রভাব পড়ছে। এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, এক সপ্তার মধ্যে উপজেলার সর্বত্রই ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। উৎপাদন খরচও গত বারের চেয়ে এ বছর বেশী হয়েছে। এরপরও কৃষি শ্রমিকরা ধান কাটার জন্য মোটা অংকের দাম হাকাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কৃষকরা সীমাহীন ক্ষতির মধ্যে পড়বে। এ বছর ধানের দাম কমের কারণে কষ্টের ধানে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা তা নিয়েও কৃষকরা সংশয়ে রয়েছেন।

উপজেলার হিতামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর সালাম সানা বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে ধান কেটে মাঠে পালা দিয়ে পলিথিত দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে ধান ও বিচুলির ক্ষতি হচ্ছে। ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। গ্রামের লোকজন গার্মেন্ট, ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন কাজে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে কৃষি কাজে দিন দিন শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধান কাটার সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চড়া দামে শ্রমিক আনতে হচ্ছে। এক হেক্টর জমির ধান কেটে বাড়ি আনতে তার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে ধানের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলের এ উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর ৫/৭ দিনের মধ্যে মাঠে ধান পুরাদমে শুরু হবে। চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও ক্ষেত সঠিক ভাবে পরিচর্যা করায় বোরোর ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকরা বিচুলীতে অধিক দাম পাওয়ায় বোরো চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।

Ads small one

দেবহাটায় আটককৃত ৪৮ ক্যারেট আমে ক্যামিকেল, পরে বিনষ্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় আটককৃত ৪৮ ক্যারেট আমে ক্যামিকেল, পরে বিনষ্ট

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ৪৮ ক্যারেট আম আটক করে বিনষ্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে দেবহাটা ফুটবল মাঠে জব্দকৃত এসব আম ধ্বংস করা হয়।

জানা যায়, গত ৫-৬ দিন আগে উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের গাজীরহাট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ৪৮ ক্যারেট আম জব্দ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান। আমগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে সেগুলো উপজেলা গুদামে সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করা হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরীক্ষার মাধ্যমে আমগুলোতে ক্যামিক্যাল মিশ্রণের প্রমাণ পান। এর ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার নির্দেশনায় জব্দকৃত আম বিনষ্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসময় দেবহাটার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে ফুটবল মাঠে আমগুলো ধ্বংস করা হয়।

বিনষ্ট কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সাতক্ষীরায় ভ্যান চুরির অভিযোগে ধরা দুই যুবক, পুলিশে সোপর্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভ্যান চুরির অভিযোগে ধরা দুই যুবক, পুলিশে সোপর্দ

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরা পৌরসভার রইচপুর রাজ্জাকের মোড় এলাকায় নকল চাবি ব্যবহার করে ভ্যান চুরির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন-যশোর স্টেশন এলাকার জনাব আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন তুহিন (২৫) এবং চুকনগর গ্রামের আজিজ সরদারের ছেলে রাসেল সরদার (২৮)।

ভুক্তভোগী ভ্যানচালক আজগার আলী (২৮) জানান, তিনি তার ভ্যানটি রাস্তার পাশে রেখে প্রাকৃতিক কাজে গেলে ফিরে এসে দেখেন এক ব্যক্তি তার ভ্যান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরেকজন পেছনে বসে আছে।

তিনি বলেন, আমার পকেটে ভ্যানের চাবি থাকা সত্ত্বেও দেখি ভ্যানে অন্য একটি তালা লাগানো। আমি দৌড়ে গিয়ে ভ্যানের পেছন ধরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের আটক করে।

পরে তল্লাশি চালিয়ে আটককৃতদের কাছ থেকে একটি নকল চাবি উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে তারা ভ্যানটি চালু করেছিল বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সোহাগ হোসেন তুহিন দাবি করেন, তাকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে ভ্যানটি চালিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। তাকে জানানো হয়েছিল, ভ্যানটি তার খালাতো ভাইয়ের এবং সেই হিসেবে তাকে চাবি দেওয়া হয়। তবে অপর আটক রাসেল সরদারের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
এলাকাবাসী জানান, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অভিযুক্তদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তারা সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গ্রামবাসীরা আমাদের বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির আনুলিয়ায় বজ্রাঘাতে এক ঘের ব্যবসায়ীর মৃত হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী এমডি সুমন হোসেন (২৮)। তিনি আনুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ একসরা গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে।

পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, সুমন প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়ি থেকে দক্ষিণ একসরা বিলে তার মৎস্য ঘেরে যান। রাতে ঘেরের বাসায় বজ্রপাত হলে তার মৃত্যু হয়। সকালে আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি কাঁকড়া কিনতে ঘেরে গিয়ে সুমন বলে ডাকাডাকি করে সাড়া-শব্দ না পেয়ে বাসার ভিতরে গিয়ে দেখেন মৃতাবস্থায় পড়ে আছে। এসময় জলিল তার পরিবারের লোকদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

 

বৃহস্পতিবার আছর নামাজ বাদ দক্ষিণ একসরা জামে মসজিদ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে সে পিতা-মাতা, স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।