মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সফল উদ্যোক্তা জিয়া বিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সফল উদ্যোক্তা জিয়া বিশ্বাস

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় মাল্টা চাষে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে জিয়া বিশ্বাসের অবদান স্থানীয় কৃষিতে এক দারুণ অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল লবণাক্ত আবহাওয়া ও মাটিকে জয় করে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা আবাদ করে সাফল্য লাভ করেছেন।

সাধারণত পাইকগাছা অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার কারণে ঐতিহ্যগত ফসলের বাইরে ভিন্ন কিছু চাষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করে তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ানের মটবাটি গ্রামের সভ্রান্ত ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি সাবেক ব্যাংকার, সৌখিন ও রুচিশীল মানুষ হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি সখের বসে মালটা বাগান করলেও পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে রুপ নিয়েছে।

জানাগেছে, মটবাটি বাড়ির পাশে নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে মালটা বাগান তৈরি করেছেনে। বাগানে ৭শত একটি মালটা গাছ রয়েছে। মালটা বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন আর এক সফল কৃষক লুৎফর রহমান সানা (লুতু)। প্রথম দিকে বিপনন ব্যাবস্থা ভালো থাকায় আশানারুপ লাভ হয়নি। তবে বিগত বছর থেকে বাগানের মালটা বিক্রি করে আশানারুপ লাভ হচ্ছে। বাগানের প্রতিটা গাছে মালটায় ভরে আছে। মালটার ভরে গাছের ডাল মাটিতে নুয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে মালটা বাগানের ফল প্রায় ৭লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এবছর মালটার ব্যাপক চাহিদা ও মূল্য বেশি থাকায় ব্যাবসায়ীরা ক্রয়কৃত বাগানের মালটা প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে তার জানিয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী উচ্চ ফলনশীল ও খরাসহিষ্ণু বারি মাল্টা-১ জাতটি চাষের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এই জাতের মাল্টা আকারে বড়, রসালো এবং অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা এড়াতে উঁচু জমি বা নিপুণভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করে বেলে-দোআঁশ মাটিতে মাল্টা চাষ করা হয়। সঠিক পরিমাণে গোবর সার, ইউরিয়া, টিএসপি এবং পটাশ সার ব্যবহার করে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়।

মাল্টা চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। একবার গাছ বড় হয়ে ফল দেওয়া শুরু করলে দীর্ঘ কয়েক বছর পর্যন্ত সেখান থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়, যা স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণে ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

জিয়া বিশ্বাসের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন পাইকগাছার আরও অনেক তরুণ ও কৃষক ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদের পাশাপাশি মালটা ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব ও জলাতঙ্ক ঝুঁকি: কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব ও জলাতঙ্ক ঝুঁকি: কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

খুলনার পাইকগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মাত্র দুই মাসে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নিতে বাধ্য হয়েছেন ৭৩৯ জন লোক। প্রতিদিন গড়ে বেশ কয়েকজন মানুষÑবিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা বেওয়ারিশ প্রাণীর আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাভাবিক চলাচলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি কেবল আতঙ্কজনকই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকির ইঙ্গিত বহন করে। জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মারণব্যাধি, যা সময়মতো প্রতিরোধ বা চিকিৎসা না করালে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদান এবং জলাতঙ্কের প্রতিষেধক সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও মূল সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং এদের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ানো রোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেওয়ারিশ প্রাণীদের বন্ধ্যাত্বকরণ কিংবা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমন্বিত কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতে, সরকারি পর্যায়ে প্রাণীদের প্রয়োগের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা তৈরির সুযোগ না থাকায় পোষা প্রাণীর দায়িত্ব মালিকদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সড়ক বা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়ানো হাজার হাজার বেওয়ারিশ প্রাণীর টিকার ব্যবস্থা কে করবেÑসেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় এনে বেওয়ারিশ কুকুরদের গণ-টিকা প্রদান এবং বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে গৃহপালিত ও পোষা প্রাণীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

যেকোনো প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে অবহেলা না করে ক্ষতের স্থান অন্তত ১৫ মিনিট সাবান ও পানি দিয়ে ধোয়া এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ মেয়াদের ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাইকগাছার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পদক্ষেপে এগিয়ে আসবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অসুস্থ জামায়াতনেতার ছেলের পাশে স্থানীয় নেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
অসুস্থ জামায়াতনেতার ছেলের পাশে স্থানীয় নেতারা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হাফিজুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে হুজাইফা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেস, সদর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুর রহমান, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা জাকির হুসাইন, ইউনিয়ন সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা শাহিনুর রহমান এবং জামায়াত নেতা হাফেজ শাহিনুজ্জামান।

নেতৃবৃন্দ অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে শিশুটির দ্রুত সুস্থতা ও আশু আরোগ্য কামনায় শয্যাপাশে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আশাশুনি সরকারি কলেজে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনি সরকারি কলেজে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আশাশুনি সরকারি কলেজে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার আয়োজক কমিটির উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে শিক্ষক, বিএনসিসি সদস্য ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

অনুষ্ঠান আহ্বায়ক কমিটির প্রধান প্রভাষক মো. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রভাষক মো. রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রভাষক সজল আঢ্য, মাহমুদুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান।