মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

পাইকগাছার হাড়িয়া পাখির কলকাকলিতে মুখর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার হাড়িয়া পাখির কলকাকলিতে মুখর

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার হাড়িয়া গ্রাম এখন নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ধ্বনিতে মুখর। গাছে গাছে পাখির বিচরণ ও কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

উপজেলার লতা ইউনিয়নটি জলাভূমি শ্রেণীর জমি বেশী। ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে জলাভূমি, খাল ও বিলে ভরা। তাছাড়া পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। জলাভূমির লবনাক্ত মাটি ও পানিতে সুন্দরবনের বাইন, কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির জন্মে। এসব গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রায় নিয়েছে, বাসা তৈরি করেছে।

পাখিদের কলতান আর খুনসুটি দেখলে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমী মন আনন্দে নেচে উঠবে। জলাশয়ের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ডানা মেলে পাখিদের উড়ে বেড়ানো আর খাবার সংগ্রহের দৃশ্য যেন মুগ্ধ করে দেয় দর্শনার্থীদের। দূর থেকে ভেসে আসে পাখিদের কিচির-মিচির শব্দ।

হাড়িয়া গ্রামের নারান রায়ের বাড়ির আঙিনায় থাকা সুন্দরবনের বাইন গাছে পানকৌড়ি, বক, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া পাশের রশিদ মিয়ার বাড়ির তেঁতুল, নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছেও পাখিদের নিরাপদ অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের অবাধ বিচরণে এলাকাটি যেন এক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোর হলে পাখিগুলো খাদ্যের সন্ধানে আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ের দিকে উড়ে যায়। দিনশেষে আবার দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিরাপদ আবাসস্থলে ফিরে আসে। পাখিদের এই নিয়মিত আনাগোনা এলাকাবাসীর কাছে এক পরিচিত ও আনন্দদায়ক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

তারা আরও জানান, এলাকায় পাখি শিকার, হত্যা কিংবা ধরার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ফলে পাখিগুলো এখানে নির্বিঘেœ বসবাস করতে পারছে এবং নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।

বর্তমানে গ্রীষ্মকাল হওয়ায় উপজেলার অন্যান্য এলাকায় পাখির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও হাড়িয়া গ্রামে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাখির বিচরণ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই পাখিদের কলতানে মুখর থাকে পুরো গ্রাম।

শীত মৌসুমে এ এলাকায় পরিযয়ী পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তখন সরালি হাঁস, চখাচখি, বালিহাঁস, সুচিপুচ্ছ হাঁস, গাঙচিল, জলপিপি ও কাদাখোঁচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীতকালে পুরো এলাকা যেন পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণভূমিতে পরিণত হয়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবি’র সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন, পাখি সংরক্ষণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে পাখির বাসা স্থাপন করা হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের পাশাপাশি পাখিরাও এ অঞ্চলে নিরাপদ আবাসস্থল পেয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকুক।

তিনি আরও বলেন, পাখি শিকার আইনত দন্ডণীয় অপরাধ। পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Ads small one

মাগুরার নতুন ডিসিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
মাগুরার নতুন ডিসিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হলো

হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাগুরার নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মোতাকাব্বীর আহমেদকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল রয়েছেন।

জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে হঠাৎ করেই তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ। এরপর মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবিরের নেতৃত্বে এবং ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকিরের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

 


মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির বলেন, জেলা প্রশাসক শ্বাসকষ্ট, গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা এবং পেটের স্নায়ুজনিত কিছু জটিলতায় ভুগছেন। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা ঢাকায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিই।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরেই তিনি কিছুটা অসুস্থবোধ করছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন আফরোজা আব্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন আফরোজা আব্বাস

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮(২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে নিম্নবর্ণিত শর্তে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। তবে উক্ত মেয়াদ শেষের আগে সরকার ইচ্ছা করলে যেকোনও সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। তিনিও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে যেকোনও সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।

বেনজীরকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুদকের নথি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
বেনজীরকে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুদকের নথি

দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

তিনি জানান, পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর দুই কর্মকর্তার সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো মঙ্গলবারই (১৬ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

দুবাইয়ে গত ১২ জুন গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার (মানি লন্ডারিং) ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ এবং আইনি নথি সংযুক্ত করে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হবে।

গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হন। পরে দেশটির সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে বিধি ৩০০-এর অধীনে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংসদকে অবহিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত নথিপত্র পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন। পরে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বাহিনীটির সাতজন সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন।