শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সপ্তাহের ৬ দিন বন্ধ ওটি, নামে তালপুকুর-ঘটি ডোবেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সপ্তাহের ৬ দিন বন্ধ ওটি, নামে তালপুকুর-ঘটি ডোবেনা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় সপ্তাহের ছয় দিনই বন্ধ থাকছে অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা। জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে খুলনা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও ঝুঁকি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম। তবে তিনি সংযুক্তিতে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ৪ দিন এবং কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ দিন দায়িত্ব পালন করেন। পাইকগাছায় তিনি সপ্তাহে মাত্র ১ দিন দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই দিন ছাড়া অন্য ৬ দিন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকে। প্রতিদিনই অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী আসেন। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে।

গত জুলাই মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রসূতি বিভাগে ১৫৫ জন রোগী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ১১ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত ১২৫ জন প্রসূতি ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ৮ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে। জুলাই মাসে জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৬৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৬৮ জন। আগস্টের ২৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫৯ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগে এই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০টি অস্ত্রোপচার হতো। অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকটে বর্তমানে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সাকিলা আফরোজ বলেন, এখানে প্রতিদিন অপারেশনের জন্য অনেক রোগী আসেন। কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় আমাদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ। এ কারণে খুলনা শহরের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এরপরও তাঁকে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ১ দিন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম এই হাসপাতালে পদায়িত থাকলেও সংযুক্তিতে ফুলতলা হাসপাতালে ৪ দিন কাজ করছেন। তিনি পাইকগাছায় ১ দিন ও কয়রায় ১ দিন দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু এ উপজেলার মানুষ নয়, আশপাশের কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও তালা উপজেলার অনেক মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই দ্রুত একজন নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক পদায়ন করে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় নিখোঁজের দুই মাসেও ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের সন্ধান মেলেনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের দুই মাসেও ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের সন্ধান মেলেনি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে মোঃ ইফাজউদ্দীন (৯৬) নামের এক বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন। গত ৮ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় তিনি পরিবারের সকলের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।

নিখোঁজ বৃদ্ধের সন্ধান না পেয়ে তাঁর ছেলে মোঃ আব্দুল আলীম গত ১২ জুলাই ২০২৬ সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ৭৪৪) করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ইফাজউদ্দীন বাকপ্রতিবন্ধী। তাঁর উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, শারীরিক গঠন মাঝারি এবং গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। নিখোঁজের সময় তাঁর পরনে ছিল সবুজ রঙের জামা ও সাদা লুঙ্গি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিনেও আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তির সন্ধান পেয়ে থাকেন, তবে নিকটস্থ থানা অথবা পরিবারের সাথে ০১৭৬৭৪০৫৭৭৯ বা ০১৭২৯৬৬৮১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কয়রায় শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের এক মাসের মাথায় যুবকের আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কয়রায় শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের এক মাসের মাথায় যুবকের আত্মহত্যা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সংসার জীবনের এক মাস পার হতে না হতেই খুলনার কয়রায় শ্বশুরবাড়িতে শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মো. খালিদ হাসান (২৫) নামের এক যুবক। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক স ড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত খালিদ কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নং কয়রা গ্রামের মো. রহিম সরদারের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক মাস এক দিন আগে গোবরা গ্রামের তৈয়ব আলীর মেয়ে সানজিদা খাতুনের সঙ্গে খালিদ হাসানের বিয়ে হয়। শুক্রবার রাতে তিনি স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিদের স্ত্রী সানজিদা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পরে তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে খালিদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কয়রা থানা-পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের বাবা বাদী হয়ে কয়রা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করেছেন। ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

 

সাতক্ষীরায় চন্দনা গুম মামলার প্রধান আসামি ভেন্ডার রবিকে আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চন্দনা গুম মামলার প্রধান আসামি ভেন্ডার রবিকে আটক

পত্রদূত ডেস্ক: শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার গৃহবধূ ইনা পারভীন চন্দনা (৩৫) গুমের মামলার প্রধান আসামি তার স্বামী রবিউল ইসলাম রবি ওরফে ভেন্ডার রবিকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে পাঠায়। গুমের শিকার গৃহবধু চন্দনা রবিউল ইসলাম রবির দ্বিতীয় স্ত্রী ও তালার শিবপুর গ্রামের মহিউদ্দীন শেখের কন্যা।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন তারিখে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন গৃহবধূ চন্দনা। চন্দনার স্বজনদের দাবি তাকে স্বামী রবিউল ইসলাম রবি গুম করেছে।
এবিষয়ে গুম হওয়া গৃহবধূর পিতা মহিউদ্দীন শেখ ওই সময় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। পরবর্তীতে ভেন্ডার রবিকে প্রধান ও আরও কয়েকজনকে আসামি করে সাতক্ষীরা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন চন্দনার পিতা।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে গৃহবধূ চন্দনা গুম মামলার প্রধান আসামি আলোচিত রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করাহয়। পরবর্তীতে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চন্দনা গুমের সাথে তার স্বামী রবিউল ইসলাম রবি জড়িত কিনা সেটা জানা যাবে।