শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি

অনলাইন ডেস্ক: প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

জানা গেছে, বাবার শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের জন্য শনিবার দুপুরে দিনাজপুর কারাগার থেকে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজনকে। তিনি বাড়িতে পৌঁছালে এক নজর তাকে এবং প্রয়াত দবিরুল ইসলামকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ঢল নামে।

বিকেল ৪টায় জানাজার আগে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস এবং বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম।

জানাজায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈল উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলামের অবদান স্মরণ করে অনেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

 

বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন। আমার বাবার দুটি ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হলো না। একটি ছিল চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নেওয়া, আরেকটি পবিত্র হজ পালন করা। আমার বাবার কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমি মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছি। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমাকে আবার দিনাজপুর কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ঈদের দিন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর ২০২৬ সালের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। অসুস্থতার কারণে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ একজন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ একজন আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শনিবার (৩০ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ পদ্মশাখরা, কাকডাঙ্গা, মাদরা, হিজলদী ও চান্দুরিয়া বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় শাড়ি, চিংড়ি মাছের রেনুপোনা, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ১ জন আসামীসহ ৬০৩ বোতল এসকুফ কাশির সিরাপ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, পদ্মশাখরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার জোড়াতাল গাছ নামক স্থান হতে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেনুপোনা আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার রাজ্জাকের মোড় হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার শ্মশান ঘাট হতে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি আমবাগান হতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, চান্দুরিয়া বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার গোয়ালপাড়া হতে ২ লাখ ৪১ হাজার ২০০ টাকার ভারতীয় এসকুফ কাশির সিরাপ আটক করে।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ১৬ হাজার ২০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

বল্লীতে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
বল্লীতে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের এক যুবক গাছ থেকে পড়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। নিহত আবু রায়হান (২৮) আমতলা গ্রামের বাসিন্দা রিজাউল সরদারের মেজো ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ মে) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে বাড়ির সামনে একটি জাম গাছে ওঠেন আবু রায়হান। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গাছে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মৃগী রোগের খিঁচুনি (ফিট) শুরু হলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান।

গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হযে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্থানীয়রা জানান, আবু রায়হান একজন শান্ত-স্বভাবের ও সবার কাছে পরিচিত যুবক ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে আমতলা গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের পরিবার তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মাছখোলা বাজারে উৎসবমুখর ঈদ আনন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মাছখোলা বাজারে উৎসবমুখর ঈদ আনন্দ

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাছখোলা বাজারে বসেছিল জমজমাট মিলনমেলা। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলাধুলা।

 

স্থানীয় যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে পুরো মাছখোলা বাজার এলাকা এক টুকরো আনন্দ দ্বীপে পরিণত হয়। ঈদ পরবর্তী এই আনন্দ আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ঢল নামে খেলাঙ্গনে।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী সব খেলাধুলার সমাহার ঘটানো হয়। প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুরুষদের ‘মোরগ লড়াই’, ‘হাঁড়িভাঙা’ এবং শক্তির পরীক্ষা ‘দড়ি টানাটানি’।

 

এছাড়া নদীমাতৃক বাংলার রূপ তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় ‘নদীতে হাঁস ধরা’ ও ‘সাঁতার প্রতিযোগিতা’। ডাঙ্গায় চোখ বেঁধে হাঁস ধরার অভিনব ও কৌতুকপূর্ণ খেলাটি উপস্থিত দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। নারীদের জন্য ছিল ‘বালিশ বদল’ এবং শিশুদের জন্য ‘চেয়ার সিটিং’ সহ আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও মজার খেলা। খেলা চলাকালীন সময়ে দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সাংবাদিক মাসুদ রানা। খেলা চলাকালীন সময়ে দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।