প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি
অনলাইন ডেস্ক: প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রয়াত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, বাবার শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের জন্য শনিবার দুপুরে দিনাজপুর কারাগার থেকে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজনকে। তিনি বাড়িতে পৌঁছালে এক নজর তাকে এবং প্রয়াত দবিরুল ইসলামকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ঢল নামে।
বিকেল ৪টায় জানাজার আগে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস এবং বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম।
জানাজায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈল উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলামের অবদান স্মরণ করে অনেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন। আমার বাবার দুটি ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হলো না। একটি ছিল চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নেওয়া, আরেকটি পবিত্র হজ পালন করা। আমার বাবার কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। আমি মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছি। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমাকে আবার দিনাজপুর কারাগারে ফিরে যেতে হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ঈদের দিন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর ২০২৬ সালের মে মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। অসুস্থতার কারণে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।












