বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মাছখোলা বাজারে উৎসবমুখর ঈদ আনন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মাছখোলা বাজারে উৎসবমুখর ঈদ আনন্দ

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাছখোলা বাজারে বসেছিল জমজমাট মিলনমেলা। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন খেলাধুলা।

 

স্থানীয় যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে পুরো মাছখোলা বাজার এলাকা এক টুকরো আনন্দ দ্বীপে পরিণত হয়। ঈদ পরবর্তী এই আনন্দ আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ঢল নামে খেলাঙ্গনে।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী সব খেলাধুলার সমাহার ঘটানো হয়। প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুরুষদের ‘মোরগ লড়াই’, ‘হাঁড়িভাঙা’ এবং শক্তির পরীক্ষা ‘দড়ি টানাটানি’।

 

এছাড়া নদীমাতৃক বাংলার রূপ তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় ‘নদীতে হাঁস ধরা’ ও ‘সাঁতার প্রতিযোগিতা’। ডাঙ্গায় চোখ বেঁধে হাঁস ধরার অভিনব ও কৌতুকপূর্ণ খেলাটি উপস্থিত দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। নারীদের জন্য ছিল ‘বালিশ বদল’ এবং শিশুদের জন্য ‘চেয়ার সিটিং’ সহ আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও মজার খেলা। খেলা চলাকালীন সময়ে দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সাংবাদিক মাসুদ রানা। খেলা চলাকালীন সময়ে দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

Ads small one

আশাশুনিতে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, এক দিনে তৈরি ব্লকে আগের অর্থবছরের তারিখ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, এক দিনে তৈরি ব্লকে আগের অর্থবছরের তারিখ

এসএম বিপ্লব হোসেন: আশাশুনিতে জাইকার অর্থায়নে টেকসই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে সিডিউলবহির্ভূত কাজ ও সিসি ব্লকের মানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একাংশের বিরুদ্ধে সরকারি নথিপত্রে অসঙ্গতি এবং বাতিল হওয়া প্যাকেজের কাজ অন্য স্থানে হস্তান্তরের গুঞ্জন রয়েছে।

সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২-এর আওতায় হাজরাখালী এলাকার ২ নম্বর প্যাকেজের কাজ বাতিল হলেও, সেই কাজ অনুমোদন ছাড়াই ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজের কোলা এলাকায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ সম্পর্কিত কোনো দাপ্তরিক আদেশ দেখাতে পারেননি।

পরিদর্শনের সময় সিসি ব্লক তৈরিতেও মানহীনতার প্রমাণ মিলেছে। ঢালাইয়ের মাত্র ১২-১৪ ঘণ্টার মধ্যে ফর্মা খুলে নেওয়া হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত কিউরিং ছাড়াই ব্লক স্তূপ করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় অনিয়ম দেখা গেছে ব্লকের তারিখ তৈরিতে; ২৭ আগস্ট সরেজমিনে তৈরি করা ব্লকে দেখা গেছে জুন ২০২৬-এর তারিখ। এতে পূর্ববর্তী অর্থবছরের বিল সমন্বয় বা অগ্রগতি জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ২ নম্বর প্যাকেজ বাতিল করা হয়েছে এবং এর কাজ ভিন্নভাবে করার দায়ভার তাদের নয়। তবে অন্য প্যাকেজে কোনো অনিয়ম হলে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

উপকূলীয় এই দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নি¤œমানের বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় তারা উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মেজারমেন্ট বুক ও বিল-ভাউচার যাচাইসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টা ৭ মিনিটে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

বিল উত্থাপনের আগে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলের দাবির কথা তুলে ধরেন। বক্তব্য শেষে বিল উত্থাপনের পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে বিরোধী জোটের অন্য সদস্যরাও ওয়াকআউট করেন।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি দিবসে (বৃহস্পতিবার) তিনটি সরকারি বিল উত্থাপন করার কার্যক্রম শুরু করলে সংসদে দাঁড়িয়ে যান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শেষ পার্যায়ে বিল, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এটাই জানতাম যে, বেসরকারি দিবসটা বেসরকারি সদস্যদের জন্য। কিন্তু সবকিছুতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাজের মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হবে। আমরা সেই চাপা দেওয়ার পক্ষে নই।’

সংস্কারের দাবিতে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থানে আছি। আমরা এখান থেকে সরিনি—অফিশিয়ালি, নন-অফিশিয়ালি।’

সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে আপত্তি

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই পার্লামেন্টের ভেতরে এবং বাইরে অনেকবারই অনুরোধ করা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের কমিটিতে আসেন। একটা কমিটি এখানে পাস হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদ ছিল। আমরা অংশগ্রহণ করিনি। ’

তিনি বলেন, ‘পরে আমরা যখন বললাম, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনও কমিটি হওয়ার কোনও বিধান নেই, তখন আমরা শুনলাম যে, এর আগে একটা বিশেষ শব্দ বসানো হয়েছে। সেই বিশেষটা এখানে পাস করা হয়েছে কি না, আমি জানি না।’

কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘একটা কমিটি যদি আসলে এই হাউস থেকে পাস করানো হয়, তাহলে তার প্রত্যেকটি অক্ষরও এখান থেকে পাস করাতে হবে। সেটা তো হয়নি। ওইটার পক্ষে আমরা ছিলাম না। বড় কথা এটা নয়। আমি বলছি, এখানে প্রসিডিউরটা মেইনটেইন করা হয়নি।’

‘আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই’

স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এখন যে বিষয়টা আপনি উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন, আমরা যেহেতু বৃহত্তর স্বার্থে পুরো সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এভাবে কোনও প্রসেসের অংশ হতে চাই না।’

এর পরই সংসদ অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো না। এ পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আবার ওয়াকআউট করছি। আমরা আবার যখন উপযুক্ত মনে করবো, তখন ইনশাআল্লাহ আমরা আসবো, অংশগ্রহণ করবো, জনগণের পক্ষে কথা বলবো।’

‘ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে’

ওয়াকআউট ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে। বাট সংসদের ভেতরে সবকিছু আলোচনা করা দরকার। না হলে জাতি কী পাবে?’

বিরোধীদলীয় নেতাকে অধিবেশনে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো, আপনারা বসেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক থাকবে। বিতর্কের মধ্য দিয়েই তো জাতি পরিচালিত হবে আপনাদের নেতৃত্বে।’

এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

সাতক্ষীরায় অসুস্থ গরু কেনায় আটক ৬, আদালতে প্রেরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অসুস্থ গরু কেনায় আটক ৬, আদালতে প্রেরণ

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় রোগাক্রান্ত ও মৃতপ্রায় গরু কিনে নেওয়ার অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার ছয় ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ২৬ আগস্ট ভোররাত চারটার দিকে সদর উপজেলার মাগুরা বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল ও অসুস্থ গরুটি জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবতলা মাছখোলা গ্রামের আবুল বাসার কারিগর (৩০), তৈয়েবুর রহমান (১৯) ও মো. শাহিন ইসলাম (২০); খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার মো. ইব্রাহিম শেখ (২৫) ও রাব্বি হোসেন আকাশ (২৫) এবং যশোর জেলার কেশবপুর থানার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা বউবাজার সংলগ্ন একটি খামার থেকে অসুস্থ ফ্রিজিয়ান জাতের গরু নামমাত্র দামে কিনে পিকআপে খুলনার গল্লামারি এলাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা পিকআপসহ ৬ জনকে আটক করে মিল বাজারে নিয়ে যান। পরে সকালে তাঁদের সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে গরু, পিকআপ ও মোটরসাইকেলসহ ৬ জনকে উদ্ধার করে আটক করে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা থানায় গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গরুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, রোগাক্রান্ত গরু সংগ্রহ ও জবাই করে মাংস বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাঁদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠালে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।