বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

মিলন বিশ্বাস: শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দোলা প্রকৃতিতে বেজে উঠেছে দেবী দুর্গার আগমনী সুর। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার পূজামন্ডপগুলো। এবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী উপকরণ, পৌরাণিক কাহিনির দৃশ্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মন্ডপসজ্জায় থাকছে নানা চমক। কোথাও মুগ ডাল, কোথাও মুক্তা ও দেশলাই কাঠির কারুকাজ, কোথাও ঝরনার পানির মধ্যেও অক্ষত থাকছে ফাইবারের প্রতিমা। আবার কোথাও কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি পথ দিয়ে দেবী দর্শনের আয়োজন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৬১২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১১১টি, তালায় ২০২টি, কলারোয়ায় ৪৬টি, দেবহাটায় ২১টি, আশাশুনিতে ১০৬টি, কালীগঞ্জে ৫৫টি এবং শ্যামনগরে ৭১টি মন্ডপ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। মহালয়া পালিত হয়েছে ১০ অক্টোবর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী কারুকাজ। প্রতিমার সাজসজ্জায় দেশলাই কাঠি ও সুতার সূক্ষ্ম ব্যবহারে এসেছে ভিন্নমাত্রা। গত বছর চিন্নিগুঁড়া চাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবার নতুন উপকরণে শিল্পকর্ম গড়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের এ উদ্যোগ দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারিপাড়া পূজামন্ডপে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি মুগ ডাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। প্রতিটি মুগ ডাল যতœসহকারে বসিয়ে দেবদেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীদের প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে খাদ্যশস্য দিয়ে প্রতিমা তৈরির এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।

আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। শিল্পী প্রকাশ মন্ডল ও তাঁর সহযোগীদের কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই নান্দনিক সাজ। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার বেশি। মুক্তার ব্যবহার প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির ‘মায়ের বাড়ি’তে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক যুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর লীলা ও কাহিনি। দেবদেবীর নানা রূপ ও পৌরাণিক ঘটনাবলির শৈল্পিক উপস্থাপনায় মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী আবহ। ধর্মীয় আখ্যান ও প্রতিমাশিল্পের সমন্বয়ে এই আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা পূজা মন্ডপে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাটের আঁশ দিয়ে মন্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাংলার সোনালি আঁশের ঐতিহ্য। পাশাপাশি প্রতিমার সাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ।

কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ার মন্ডপে ১৬টি প্রতিমা সাদা তিল দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ২৫ কেজি তিল ব্যবহার করে চার শিল্পী ১৫ দিনে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই এলাকায় অন্য একটি মন্ডপে চুমকি দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে আনা হয়েছে ঝলমলে নকশা। সেখানে প্রায় ১২ কেজি চুমকি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলার অমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে ককশিট বা সৌর ফোমশিট দিয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি থাকছে ভাসমান সেতু ও বিশেষ আলোকসজ্জা। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে ডিজিটাল আলোক প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো আয়োজনের বাজেট প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরপাঙ্গাশিয়া রাসমন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি পথ। সেই পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন অভিজ্ঞতা দিতে আয়োজকেরা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি শুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। প্রতিমাগুলোর গায়ের ওপর দিয়ে ঝরনার পানি পড়ছে, অথচ সেগুলো অক্ষত থাকছে। পানি ও প্রতিমার এই ব্যতিক্রমী সমন্বয় মন্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক উপকরণ ও শৈল্পিক পরিকল্পনায় তৈরি এ আয়োজন দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গাপ্রতিমা। মাটি ও ফাইবারের সমন্বয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর দৃশ্যপটে তুলে ধরা হচ্ছে দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগ, সতীর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে শিবের তান্ডব, বীরভদ্রের আবির্ভাব এবং দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসের ঘটনা। গত বছর এই মন্দিরে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার শ্রীবিষ্ণুর বিশ্বরূপ তৈরি করে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবারও ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

সাতক্ষীরা সদরের মাগুরা কর্মকারপাড়ার কালীমন্দিরে ‘কৈলাস অনাদি মহাদেব’ ভাবনায় সাজানো হচ্ছে মন্ডপ। সেখানে কৈলাস পর্বতের আবহ, প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ এবং পঞ্চনাগের প্রতিকৃতি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও দৃশ্যপট তৈরিতে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবার বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরায় ৬১২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি সব মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে যথাযথ নিয়মে পূজা আয়োজনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে জেলাবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক দিনব্যাপী এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে ৬০৯টি মন্ডপের তথ্য রয়েছে; যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ডপগুলোতে টহল, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রতিমাশিল্পের বৈচিত্র্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন সব মিলিয়ে সাতক্ষীরায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর হবে।

 

Ads small one

ধুলিহর ইউনিয়নের বিভিন্ন মন্দিরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহর ইউনিয়নের বিভিন্ন মন্দিরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার ৮ নং ধুলিহর ইউনিয়নের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মালম্বিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৮ নং ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, বিএনপি ৮ নং ধুলিহর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফারুক হোসেন মিঠু, ইউপি সদস্য ও বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

শুধু কেনাকাটা নয়, গুড়পুকুর মেলা মানুষের মিলনেরও উপলক্ষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
শুধু কেনাকাটা নয়, গুড়পুকুর মেলা মানুষের মিলনেরও উপলক্ষ

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সন্তানকে নিয়ে মেলায় ঘুরছেন বাবা-মা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছেন তরুণেরা, আবার বহুদিন পর পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা হওয়ায় গল্পে মেতেছেন কেউ কেউ। কারও কাছে মেলা কেনাকাটার আনন্দ, কারও কাছে শৈশবের স্মৃতি, আবার কারও কাছে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর উপলক্ষ। এমন নানা অনুভূতির সমন্বয়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার ঐতিহাসিক গুড়পুকুর মেলা।

প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ১ অক্টোবর শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয়। জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। ২০ দিনব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। উদ্বোধনের পর থেকেই মেলাকে ঘিরে সাতক্ষীরার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

মেলার প্রাঙ্গণে রয়েছে নানা ধরনের পণ্যের দোকান। পোশাক, প্রসাধনী, কাশ্মীরি চুড়ি, মেলামাইন, ক্রোকারিজসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। শিশুদের বিনোদনের আয়োজন, মুখর পরিবেশ এবং বাহারি পণ্যের সমাহার মেলায় যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ।

তবে গুড়পুকুর মেলার বিশেষত্ব কেবল এসব আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে একই সঙ্গে দেখা মেলে কয়েক প্রজন্মের মানুষের। প্রবীণদের কাছে মেলা পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার জায়গা, আর নতুন প্রজন্মের কাছে এটি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় আসেন, ঘুরে দেখেন বিভিন্ন দোকান, পছন্দের জিনিস কেনেন এবং একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটান।

দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো এসব ছোট ছোট মুহূর্ত মেলাকে মানুষের কাছে আরও আপন করে তোলে। ব্যস্তজীবনে যেখানে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে, সেখানে এমন আয়োজন মানুষের সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।

মেলাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখানে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। কারও বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, কারও আবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। দোকান পরিচালনা ও অন্যান্য খরচ সামলে ব্যবসায়ীরা মেলার বাকি দিনগুলোতে আরও ভালো বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের অংশগ্রহণ মেলার অর্থনৈতিক গুরুত্বও তুলে ধরে।

দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুরুতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চললেও পরে সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করা হয়। পাশাপাশি সকাল ৯টা থেকে মেলা চালুর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে কর্মব্যস্ত মানুষের সন্ধ্যার পর মেলায় আসা ও কেনাকাটার সুযোগ বেড়েছে।

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আয়োজনের পরিসর ও ধরনে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এলেও গুড়পুকুর মেলার প্রতি মানুষের আগ্রহের মূল জায়গাটি রয়ে গেছে। এখানে মানুষ শুধু পণ্য কিনতে আসেন না; আসেন পরিচিত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে, পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেতে এবং পরিবারের ছোটদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার গুড়পুকুর মেলা ঐতিহ্য, বিনোদন, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগের এক সম্মিলিত আয়োজন। মেলার বাকি দিনগুলোতেও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীবান্ধব ব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে এই আয়োজন মানুষের কাছে আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে। তিন শতাব্দীর ঐতিহ্য ধারণ করা গুড়পুকুর মেলা এভাবেই কেনাকাটার গন্ডি ছাড়িয়ে সাতক্ষীরার মানুষের মিলন ও সম্প্রীতির একটি পরিচিত উপলক্ষ হয়ে রয়েছে।

তালার পত্রিকার এজেন্ট অহিদের মায়ের মৃত্যু, তালা প্রেসক্লাবের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
তালার পত্রিকার এজেন্ট অহিদের মায়ের মৃত্যু, তালা প্রেসক্লাবের শোক

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তালার পত্রিকার এজেন্ট অহিদুল বিশ্বাস অহিদের মা জোহরা বেগম (৬৫)। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জোহরা বেগম তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের ফজলুর রহমান বিশ্বাসের স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমার জানাজার নামাজ এশার নামাজের পর হাজরাকাটি গ্রামের নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জোহরা বেগমের মৃত্যুতে তালা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হাসান, সাধারণ সম্পাদক শেখ জলিল আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান প্রমুখ।