মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
প্রতিমাশিল্পের নানা চমমে সেজেছে সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামন্ডপ

মিলন বিশ্বাস: শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে-ঘাটে কাশফুলের দোলা প্রকৃতিতে বেজে উঠেছে দেবী দুর্গার আগমনী সুর। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। আর কয়েক দিন পরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার পূজামন্ডপগুলো। এবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী উপকরণ, পৌরাণিক কাহিনির দৃশ্যায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মন্ডপসজ্জায় থাকছে নানা চমক। কোথাও মুগ ডাল, কোথাও মুক্তা ও দেশলাই কাঠির কারুকাজ, কোথাও ঝরনার পানির মধ্যেও অক্ষত থাকছে ফাইবারের প্রতিমা। আবার কোথাও কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি পথ দিয়ে দেবী দর্শনের আয়োজন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৬১২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১১১টি, তালায় ২০২টি, কলারোয়ায় ৪৬টি, দেবহাটায় ২১টি, আশাশুনিতে ১০৬টি, কালীগঞ্জে ৫৫টি এবং শ্যামনগরে ৭১টি মন্ডপ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। মহালয়া পালিত হয়েছে ১০ অক্টোবর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী কারুকাজ। প্রতিমার সাজসজ্জায় দেশলাই কাঠি ও সুতার সূক্ষ্ম ব্যবহারে এসেছে ভিন্নমাত্রা। গত বছর চিন্নিগুঁড়া চাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবার নতুন উপকরণে শিল্পকর্ম গড়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের এ উদ্যোগ দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারিপাড়া পূজামন্ডপে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি মুগ ডাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। প্রতিটি মুগ ডাল যতœসহকারে বসিয়ে দেবদেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীদের প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে খাদ্যশস্য দিয়ে প্রতিমা তৈরির এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।

আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। শিল্পী প্রকাশ মন্ডল ও তাঁর সহযোগীদের কয়েক মাসের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই নান্দনিক সাজ। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকার বেশি। মুক্তার ব্যবহার প্রতিমাগুলোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির ‘মায়ের বাড়ি’তে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক যুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর লীলা ও কাহিনি। দেবদেবীর নানা রূপ ও পৌরাণিক ঘটনাবলির শৈল্পিক উপস্থাপনায় মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী আবহ। ধর্মীয় আখ্যান ও প্রতিমাশিল্পের সমন্বয়ে এই আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা পূজা মন্ডপে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাটের আঁশ দিয়ে মন্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বাংলার সোনালি আঁশের ঐতিহ্য। পাশাপাশি প্রতিমার সাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ।

কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ার মন্ডপে ১৬টি প্রতিমা সাদা তিল দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ২৫ কেজি তিল ব্যবহার করে চার শিল্পী ১৫ দিনে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই এলাকায় অন্য একটি মন্ডপে চুমকি দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে আনা হয়েছে ঝলমলে নকশা। সেখানে প্রায় ১২ কেজি চুমকি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলার অমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে ককশিট বা সৌর ফোমশিট দিয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি থাকছে ভাসমান সেতু ও বিশেষ আলোকসজ্জা। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে ডিজিটাল আলোক প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো আয়োজনের বাজেট প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা।

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরপাঙ্গাশিয়া রাসমন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি পথ। সেই পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে এমন অভিজ্ঞতা দিতে আয়োজকেরা বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি শুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। প্রতিমাগুলোর গায়ের ওপর দিয়ে ঝরনার পানি পড়ছে, অথচ সেগুলো অক্ষত থাকছে। পানি ও প্রতিমার এই ব্যতিক্রমী সমন্বয় মন্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক উপকরণ ও শৈল্পিক পরিকল্পনায় তৈরি এ আয়োজন দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গাপ্রতিমা। মাটি ও ফাইবারের সমন্বয়ে তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর দৃশ্যপটে তুলে ধরা হচ্ছে দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগ, সতীর নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে শিবের তান্ডব, বীরভদ্রের আবির্ভাব এবং দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসের ঘটনা। গত বছর এই মন্দিরে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার শ্রীবিষ্ণুর বিশ্বরূপ তৈরি করে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। এবারও ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

সাতক্ষীরা সদরের মাগুরা কর্মকারপাড়ার কালীমন্দিরে ‘কৈলাস অনাদি মহাদেব’ ভাবনায় সাজানো হচ্ছে মন্ডপ। সেখানে কৈলাস পর্বতের আবহ, প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ এবং পঞ্চনাগের প্রতিকৃতি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও দৃশ্যপট তৈরিতে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবার বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরায় ৬১২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি সব মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে যথাযথ নিয়মে পূজা আয়োজনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে জেলাবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েক দিনব্যাপী এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে ৬০৯টি মন্ডপের তথ্য রয়েছে; যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা বাড়তে পারে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিয়েছে। মন্ডপগুলোতে টহল, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রতিমাশিল্পের বৈচিত্র্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজন সব মিলিয়ে সাতক্ষীরায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর হবে।

 

Ads small one

শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রি(৬২) মৃত্যুবরণ করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের মৃত তাহের মিস্ত্রি ছেলে।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে গোপালপুর এলাকায় পৌছে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। শুরুতে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলেও রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ভোররাতে মোজাম মিস্ত্রিকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসকরা।

নিহতের ছেলে তোফাজ্জল মিস্ত্রির ভাষ্য প্রতিপক্ষ ই¯্রাফিল হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাবু ও তার সহযোগী হাসান, সাগরসহ ১০/১২ জন অস্ত্রধারী বাড়ি ফেরার পথে তার পিতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় তারা মৃত ভেবে মোজাম মিস্ত্রিকে পাশের খালের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে যাওয়ার পর পথচারীরা গোঙানোর শব্দ শুনে রাত ১০টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌছে দিয়েছিল।

তোফজ্জল মিস্ত্রির দাবি শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ই¯্রাফিল হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে শ্যামনগর থানা পুলি । জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশকে ব্যবহার করে ই¯্রাফিলের গ্রেপ্তারের পিছনে মোজাম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে এসময় অভিযোগ তোলে ই¯্রাফিলের ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা। তোফাজ্জল আরও দাবি করেন তার পিতাকে দেখে নেয়া হবে বলে হুমকি দেয়ার এক-দেড় ঘন্টার মধ্যেই তারা পিতার উপর হামরা হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর তার পিতা হামলায় জড়িতদের নাম পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছিল।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান মোজাম মিস্ত্রির চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকায় হয়তোবা কোন অভিযোগ করেনি। খুলনায় সন্ধ্যায় মোজামের মৃত্যুর খবর তিনি শুনলেও এখনো নিহতের পরিবারের কেউ পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেনি। ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরে মামলা করলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

চেহারার মিলে অনেকেই তিশাকে কনকচাঁপার মেয়ে ভাবেন, যা বললেন সংগীতশিল্পী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
চেহারার মিলে অনেকেই তিশাকে কনকচাঁপার মেয়ে ভাবেন, যা বললেন সংগীতশিল্পী

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পর্ক নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে কৌতূহল। দুজনের চেহারায় কিছুটা মিল থাকায় অনেকেই মনে করেন তিশা কনকচাঁপার মেয়ে। তবে বাস্তবে তাঁদের মধ্যে মা-মেয়ের সম্পর্ক নেই। এবার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন কনকচাঁপা নিজেই। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, তিশাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তিশার সঙ্গে একটি পুরোনো ছবি এবং সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এই সংগীতশিল্পী। কনকচাঁপা জানান, তিশাও তাকে পছন্দ করেন এবং মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেন।

কনকচাঁপা বলেন, ‘তিশা খুবই ভালো একজন অভিনয়শিল্পী এবং আমি তার ভক্ত। আবার তিশাও আমাকে অনেক পছন্দ করে এবং মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করে। ছবিটি অনেক দিন আগে আমেরিকার ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তোলা।’

 

ছবি তোলার মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে মনে ভাবছিলাম তিশার সঙ্গে ছবি তুলি। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিশা বললো, ‘মা, আসো আমরা ছবি তুলি।’ সারা পৃথিবীর মানুষ আমাকে তোমার মেয়ে জানে, সে ক্ষেত্রে তোমাকে মা ছাড়া আর কী ডাকি বলো?’

তবে তিশার সঙ্গে তার প্রকৃত সম্পর্কের বিষয়ে স্পষ্ট করে কনকচাঁপা বলেন, ‘যাই হোক, সত্যি কথা হলো, তিশা আমার কন্যা নয়। আমার চেহারার সঙ্গে তিশার কোথাও কোনও মিল হয়তো আছে, এ জন্যই আপনারা এভাবে ভাবতে ভালোবাসেন। আমার একটাই মেয়ে, যার নাম ফারিয়া ইসলাম খান।’

পাইকগাছায় ৩ ‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ৩ ‘শ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাস!

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাজারে চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডার খুঁজে পেতেও দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দাম দিয়েও কিনতে হচ্ছে রান্নার জ্বালানি।

ভোক্তাদের অভিযোগ, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে পাইকগাছার বিভিন্ন বাজারে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৩ থেকে ৪৬৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাজারে যমুনা, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম ও টোটালের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের ভাষ্য, কোনো কোনো দোকানে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার মিলছে না। এতে পছন্দের ব্র্যান্ডের গ্যাস কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পাইকগাছার গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হলেও চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি কোম্পানির সিলিন্ডার মিললেও খালি সিলিন্ডার বদলে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফলে নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

আসমা বেগমের ভাষ্য, নতুন সিলিন্ডারসহ ১২ কেজি গ্যাস কিনতে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য খরচের সঙ্গে বাড়তি এই ব্যয় সামলাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয় ভোক্তারা জানান, গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে রান্নার খরচ বেড়ে গেছে। অনেকেই একাধিক দোকানে খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

 

সরবরাহের ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা কৃত্রিম সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন কোম্পানির সিলিন্ডার কতটা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বসুন্ধরা এলপিজির উপকূলীয় চার উপজেলার পরিবেশক কপিলমুনির মেসার্স নির্মাণ বিপণির স্বত্বাধিকারী বিপ্লব কুমার সাধু বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাসিক চাহিদা ১২ হাজার সিলিন্ডার। কিন্তু গত মাসে কোম্পানি থেকে মাত্র ২ হাজার ৭০০টি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি মাসে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ কারণে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহের এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। পাইকগাছা বাজারের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আল-মুনসুর বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। যেসব ব্যবসায়ীর কাছে আগে থেকে মজুত ছিল, তাঁদের কেউ কেউ বেশি দামে বিক্রি করেছেন। কপিলমুনি বাজারের শ্রীরামপুর মোড় এলাকার কনক সাহার বিরুদ্ধে বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ২২00 টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলপিজি ডিলারদের নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্দেশনা দেওয়ার পরও বাজারে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ফলে সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়া এবং বেশি দাম দিয়ে কেনার ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে।