শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্লাস্টিকের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের তৈরি পণ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের তৈরি পণ্য

ইব্রাহিম খলিল: একসময় সাতক্ষীরার গ্রামীণ জীবনে বাঁশ-বেতের তৈরি হাতপাখা, কুলা, ডালি, ঝুড়ি, চালুনি কিংবা মাছ ধরার সরঞ্জাম ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ঘর-গৃহস্থালি থেকে কৃষিকাজ, এমনকি মাছ ধরার কাজেও এসব পণ্যের ছিল ব্যাপক ব্যবহার। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের চাহিদাও। সস্তা ও সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে সেই জায়গা এখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কারিগরদের জীবন-জীবিকা।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোরাপাক্রাতলা গ্রামের সড়কের পাশে বসে বাঁশের চিকন শলা দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করছিলেন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বিশ্বনাথ দাস। অভিজ্ঞ হাতে একের পর এক বাঁশের ফালি বুনে তৈরি করছেন ঝুড়ি।

বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেইক্যা এই কাম কইরা আসতেছি। এইডাই আমাগের ব্যবসা।’ তিনি আরও বলেন, একটা ঝুড়ি তৈরি করে ১৫০ টাকায় বিক্রি করি। এতে বাঁশ ও অন্যান্য খরচ পড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে সর্বোচ্চ দুটি ঝুড়ি তৈরি করা যায়। আয় কম হলেও সংসারের কথা ভেবে পেশাটি ধরে রেখেছি। কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও করে যাচ্ছি।

দেবহাটা এলাকার আরেক কারিগর পঞ্চরঞ্জন দাসের জীবনেও একই গল্প। প্রায় ৭০ বছর ধরে তাদের পরিবার বাঁশের এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখলেও এখন আর এতে আগের মতো লাভ নেই। কোনোরকমে সংসার চালিয়ে নিতে হচ্ছে তাকে।

পঞ্চরঞ্জন দাস বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এই কাজ করে আসছি। প্রায় ৭০ বছর হবে। এখন আর আমাদের এই কাজের তেমন একটা লাভ নেই। কোনো রকমে সংসার চলে। মাঝে মাঝে ঋণী হয়ে আবার কাজ করি। এভাবেই আমাদের জীবনযাপন।

তিনি জানান, বাঁশের কাজের সামান্য আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে এক ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।

পঞ্চরঞ্জন বলেন, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাব কীভাবে? একটা ছেলে পড়াশোনা করতে চেয়েছিল, টাকার কারণে পড়াতে পারিনি। সেই ছেলে এখন কাজকাম করে।

তার এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বাঁশের শিল্পে সংকট শুধু একটি পেশার সংকট নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের শিক্ষা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জীবন।

কোরাপাক্রাতলা গ্রামের কারিগর অরবিন্দ দাস তৈরি করেন কাঁকড়া ধরার আটন, ঢাকনা, চিংড়ি ধরার খোলুই, মাটির ঝুড়ি, কাবড়া ও কুলাসহ বিভিন্ন পণ্য। তার ভাষ্য, গ্রামে প্রায় ৫০ জন মানুষ বাঁশের কাজের সঙ্গে যুক্ত।

তবে কাজ থাকলেও আগের মতো বাজার নেই। প্লাস্টিকের তৈরি ঝুড়ি, কুলা, ডালি ও অন্যান্য সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় বাঁশের পণ্যের চাহিদা কমেছে। একই সময়ে বেড়েছে বাঁশ ও উৎপাদন খরচ।

কারিগর স্বপন দাস জানান, বর্তমানে একটি বাঁশ কিনতেই ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু তৈরি পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। তার দাবি, স্বল্প সুদে বা সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি সহায়তা পেলে এই পেশার মানুষগুলো টিকে থাকতে পারবেন।

দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ভ্যানে করে বাঁশের পণ্য বিক্রি করেন ৬০ বছরের বেশি বয়সী রবিন দাস। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার ভ্যানে থাকে টাবরা, কুলা, ডালি, টোকা, ধামা-পালিসহ বিভিন্ন পণ্য।

রবিন দাস বলেন, একটা টাবরা ১৮০ টাকায় কিনে ২০০ টাকায় বেচি। এই ব্যবসা দিয়েই সংসার চালাই।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারে বাঁশের পণ্য বিক্রি করেন কানাই কুমার। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরুর সময় প্লাস্টিকের ব্যবহার এতটা ছিল না। গত পাঁচ বছরে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের পণ্যের বাজার অনেকটাই কমেছে।

কানাই কুমার বলেন, প্রথম যখন এই ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তখন তেমন একটা প্লাস্টিক ছিল না। পাঁচ বছর ধরে প্লাস্টিক বেশি ব্যবহার হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো লস খেয়েছি। এই ব্যবসা আগের মতো ভালো নেই। না করলে তো কিছু করার নেই।

বাজারে পণ্য বিক্রি না হওয়ায় কারিগর ও বিক্রেতা দুই পক্ষই পড়েছেন সংকটে। অনেকেই সমিতি ও সুদের টাকা নিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

কানাই বলেন, আমরা যদি হাটে-বাজারে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে টাকা কোথা থেকে দেব? এখন আমাদের দিন আনা-দিন খাওয়া চলছে। সমিতির টাকা, সুদের টাকা নিয়ে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে আছি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চিংড়ি, ফয়জুল্লাহপুর, দেবহাটার কাজীরহাট, বিষ্ণুপুর, পারুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাঁশের পণ্য তৈরি হয়। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কারিগর বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

কানাই কুমার বলেন, যারা তৈরি করছেন, তাদেরও দুরবস্থা। এখন তাদের দিন চলে না। তারা এখন এসব কাজ ছেড়ে দিয়ে ভ্যান চালাচ্ছেন। আমিও তো ভ্যান চালাই। সকালে-বিকেলে এসব মালামাল বিক্রি করি, অন্যরকম বাজার-ঘাট করার মতো।

প্লাস্টিক এমনিতেই ক্ষতিকর। প্লাস্টিক যদি না উঠত, তাহলে আমাদের কারিগর যারা রয়েছে, তারাও ভালোভাবে চলতে পারত।

বাঁশের পণ্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়াতেই রয়েছে শ্রম ও সময়ের ব্যাপার। বাঁশ কেটে দা বা ছুরি দিয়ে চিকন ফালি তৈরি করা হয়। পরে রোদে শুকিয়ে সেই ফালি বুনে তৈরি করা হয় ঝুড়ি, কুলা, ডালি, চালুনিসহ নানা পণ্য। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা এই কাজ এখনো ধরে রেখেছেন অনেকে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ পেশার প্রতি আগ্রহ কমছে।

কালীগঞ্জের কারিগর মো. হোসাইন আলী বলেন, বাপ-দাদার পেশা, তাই ধরে আছি। কিন্তু ছেলে-মেয়েরা আর এই কাজ করতে চায় না। পরিশ্রম বেশি, লাভ কম। চাহিদাও আগের মতো নেই।

সাতক্ষীরা বিসিকের প্রচার কর্মকর্তা পীযূষ ঘোষ বলেন, জেলার অনেক মানুষ বাঁশ ও বেতের কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণের সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবী জামিনদারের শর্ত থাকায় অনেক কারিগর ঋণ নিতে পারেন না। ‘একটি পণ্য, একটি গ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং বাঁশের পণ্যের বাজার বাড়ানোর উদ্যোগ না নিলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

বাঁশের শলায় বোনা প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাতক্ষীরার গ্রামীণ জীবনের পুরোনো ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। একদিকে কমছে পণ্যের চাহিদা, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও ঋণের চাপ। ফলে শুধু একটি শিল্পই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু পরিবারের স্বপ্নও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

Ads small one

চেন্নাইয়ের মালিক হতে চেয়েছিলেন ধোনি? জানুন আসল ঘটনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
চেন্নাইয়ের মালিক হতে চেয়েছিলেন ধোনি? জানুন আসল ঘটনা

চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) মালিকানায় অংশীদারিত্ব কিনতে চেয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি- সম্প্রতি এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের সাবেক অধিনায়ক চেন্নাইয়ের শেয়ার কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তার প্রস্তাবিত শর্তে রাজি হয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

অবশ্য এমন খবর প্রকাশের পর সেসব দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে চেন্নাই। সিএসকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ধোনির সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনাই হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এমএস (ধোনি) কখনো আমাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেননি। আমরা বিষয়টি নিয়ে কখনো আলোচনা করিনি। শ্রীনিবাসনের সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন, এমন কোনো তথ্যও আমাদের কাছে নেই।’

তবে সিএসকের সঙ্গে ধোনির কোনো শেয়ারের সম্পর্ক নেই- বিষয়টি এমন নয়। চেন্নাই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেয়ার কেনার সুযোগ থাকাকালে কিছু শেয়ার কিনেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

সিএসকে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি নয়। ফলে এর শেয়ার সাধারণ শেয়ারবাজারে কেনাবেচা হয় না। তবে ব্যক্তিগতভাবে বা অফ-মার্কেট লেনদেনের মাধ্যমে এসব শেয়ার কেনা সম্ভব।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধোনির হাতে এক লাখের বেশি সিএসকে শেয়ার রয়েছে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মোট শেয়ার কাঠামোর তুলনায় এটি খুবই সামান্য অংশ। জনসাধারণের হাতে রয়েছে ৩০ কোটির বেশি শেয়ার, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মোট শেয়ার মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে ধোনির এক লাখের বেশি শেয়ার পাবলিক শেয়ারহোল্ডিংয়েরও খুব ছোট একটি অংশ।

অন্যদিকে সিএসকের নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা রয়েছে শ্রীনিবাসন পরিবারের হাতে। তাদের হাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ৫৫ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে।

বর্তমান আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির বাজারমূল্য বিবেচনায় ধোনির হাতে থাকা শেয়ারের মূল্যও খুব বেশি নয়। সর্বশেষ একটি আইপিএল দল ১৬ হাজার ৬০০ কোটি রুপির বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সেই মূল্যায়ন ধরে ধোনির শেয়ারের আনুমানিক মূল্য হতে পারে ২ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৩ কোটি রুপি।

অবশ্য ধোনির ২১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও আইপিএল থেকে আয় এবং বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া বিপুল অর্থের তুলনায় এই অঙ্ক বেশ সামান্য। ধোনিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি রুপি।

ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

সারা দেশে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯০ জন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুর বিভাগে ৩৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগের ১৮ জন। তবে এই সময়ে সিলেট বিভাগে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি।

আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজকে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯ হাজার ২২০ জন। এদের মধ্যে ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৩ হাজার ৪৩৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ১৪১ জন।

কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে

কানাডায় ছেলে অনীকের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন চিত্রনায়িকা ববিতা। এর মধ্যে নায়ক রাজ্জাকের ছেলে বাপ্পী ও তার পরিবারের সঙ্গেও বেশ কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে তার।

ঘরোয়া আড্ডার পাশাপাশি বাপ্পীর সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণও করেছেন এই অভিনেত্রী।

ববিতা জানান, বাপ্পী ১৮ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে কুইবেকে যান। সেখানে ঘোরাঘুরির পর তারা যান গেসপারে। একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে পাহাড়—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য মুগ্ধ করেছে তাকে। পরে আরও ১৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা ফিরে আসেন।

এই দীর্ঘ যাত্রায় গল্প, স্মৃতি আর আনন্দে কেটেছে সময়। ববিতা বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ এখনও কানে বাজে। সমুদ্রের কাছে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। তারপরও সবাই মিলে খুব উপভোগ করেছি। যেতে যেতে কত গল্প করেছি, ফেরার সময়ও গল্প করতে করতে ফিরেছি।’

 

বাপ্পীর সঙ্গে ববিতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারিবারিক। প্রতিবছর কানাডায় যাওয়ার আগে বাপ্পী তাকে ফোন করে জানতে চান কবে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাপ্পীর দুই সন্তান দাদাভাই রাজ্জাককে নিয়ে নানা গল্প শুনতে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে আড্ডায় পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন ববিতা। রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় এবং তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন তিনি।

বাপ্পীর বাসায় কয়েক দিন কাটিয়ে আবার ছেলে অনীকের কাছে ফিরবেন ববিতা। নভেম্বরে দেশে ফেরার আশা করছেন এই অভিনেত্রী।