বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই দিয়ে বিধবা জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই দিয়ে বিধবা জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন পর ডেকে নিয়ে একটি কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়। এরপর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে তিনি কোনও বিয়েতে সম্মতি দেননি বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকও করেছেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার। সেই টিপসই ব্যবহার করেই জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ১৩ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। তার নাতি-নাতনিও আছে। গতকাল বুধবার তার বাড়িতে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোথাও বিয়ে করতে যাইনি। কোনও কাজিকেও দেখিনি।’

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার কসমেটিকসের দোকান আছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনও টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোনও নেতা নন; বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি করতেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।’

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম আছে। তিনি আগেও বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনও প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনি আছে।

বাড়িতে কুদ্দুসকে না পাওয়া গেলেও স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনও কিছু জানাননি। ঘটনা জানাজানি হলে দাবি করেন, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি।

কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ আছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম আছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনও বিয়ের সাক্ষী হননি।

কাজি গোলাম মোস্তফা এই বিয়ের কিছু সম্পন্ন করেননি বলে জানান। তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন।

গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ বসেছে। তবে সালিশে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিশে নেতৃত্বে দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ঘটনাটি তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। কিন্তু এখনও থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

Ads small one

রাতে হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেলেন থানার ওসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
রাতে হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেলেন থানার ওসি

বাগেরহাটের রামপাল থানার ওসি শেখ রাজীব আল রশিদ মারা গেছেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত পাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজীব আল রশিদকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরহুম রাজীব আল রশিদের জানাজা বাদ জোহর খুলনার আইচগাতিতে তার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১০ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৬ বছর বয়সী এক মেয়ে রেখে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, চাইলেন বিনিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, চাইলেন বিনিয়োগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এসা কাজিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল এবং এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে টার্মিনালটির আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সক্ষমতা আরও বাড়বে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন এবং রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো স্থাপনসহ নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিদলের আগ্রহের কথা জানতে চান।

জবাবে প্রতিনিধিদল এসব খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয় বলেও জানান সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক।

সাজা শুনে আদালত থেকে পালালেন আসামি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
সাজা শুনে আদালত থেকে পালালেন আসামি

সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন আব্দুর জলিল নামে এক আসামি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার আরবিট্রেশন আদালতের বিচারক ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যুক্তিতর্কের সময়ও আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। পরে কোনও একসময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি আদালত থেকে বেরিয়ে যান।

আইনজীবী জানান, সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২০ সালে আব্দুর জলিলের বন্ধু আক্তার হোসেন মামলা করেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দীন ইসলামের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আব্দুর জলিলের হ্যান্ডরাইটিং সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকার সপ্তম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রিভিশন করা হয়েছিল। সেটি নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় চাওয়া হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি আদালত থেকে চলে যান।

দীন ইসলাম বলেন, পরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল কাদের ফোন করে তাকে জানান, তার আসামি আদালত থেকে চলে গেছেন এবং বিচারক তাকে ডেকেছেন। পরে কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিচারকের সঙ্গে দেখা করেন।

তার ভাষ্য, পরে আসামির সঙ্গে ফোনে কথা হলে আব্দুর জলিল জানান, সময়ের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত থেকে চলে গেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামির আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খায়রুল কবীর বলেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ উদ্ধার; সাজা দেওয়া মামলার অন্যতম বিষয় হলেও অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিই মুখ্য। এ কারণে এ ঘটনায় নতুন মামলা হবে না বলেও তিনি জানান।

মামলার নথি সম্পর্কে জানতে চাইলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইসমাইল বলেন, নথি বিচারকের কাছে রয়েছে। রবিবার আসতে হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দীন ইসলাম জানান, দুই বন্ধু ধামরাইয়ে একটি অ্যাগ্রো ফার্ম করার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করেই মামলা হয়। তবে মামলায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি মো. শরিফুল ইসলাম নামে হত্যা মামলার আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শরীফুল এ নিয়ে দুইবার পালিয়েছে।