বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

 

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন।
গাইবান্ধা

গাইবান্ধা জেলায় রোববার বিকেলে বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি গ্রামে একজন ও সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের একজন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।

বোনারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বলেন, বজ্রপাতে একজন কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে।

ধামোর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কুদ্দুস বলেন, সকালে সোনাপাতিলা এলাকায় শের আলী নামের এক চাষির চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে চা-বাগানের পাশেই ঘটনাস্থলে সোহরাওয়ার্দী মারা যান। ঘটনার সময় তার সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন। মারা যাওয়া শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী আট দিন আগে বিয়ে করেছেন।

আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

জামালপুর

জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)।

আহতরা হলেন মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। আহত ব্যক্তিদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে হঠাৎ জামালপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকায় বাড়ির ওঠানে থাকা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অপর দিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একটি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান মৃত্যু ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Ads small one

জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে। এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় সচেতন হচ্ছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় সচেতন হচ্ছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর ও আশাশুনি। যা বারবার জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সেখানে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দুর্যোগের পূর্বমুহূর্তে কেবল ত্রাণের জন্য অপেক্ষা না করে, নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এবার সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন স্থানীয় নারীরা।

এর সর্বশেষ উদাহরণ দেখা গেল গভীর নিম্নচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে সাগর উত্তাল থাকার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আশাশুনির আনুলিয়া, প্রতাপনগর ও শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের সদস্যরা সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন-এর কাছে উপকূলের বেড়িবাঁধ সম্পর্কিত সরেজমিন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের নেতৃবৃন্দ বেড়িবাঁধ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদ্বয়ের কাছে জমা দেন। নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কোনো গতানুগতিক আবেদনপত্র নয়, বরং একটি পেশাদার ও তথ্যসমৃদ্ধ পর্যবেক্ষণ।

গভীর নিম্নচাপের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নারী বাঁধ সুরক্ষা দলগুলো মাঠে নামে। তারা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর, হাওলাদারবাড়ি, মাদারবাড়ি, আদর্শগ্রাম, কল্যাণপুর ও আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, একসরা, কাকবাসিয়া এবং শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা, ডুমুরিয়া, চকবারা, ৯নং সোরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাঠি, খুটিকাটা, পাখিমারা, ঝাঁপা, পদ্মপুকুর গ্রামের বেড়িবাঁধের অতি-ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কেবল পরিদর্শনই নয়, তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে জরুরি বৈঠক করে মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

নারী বাঁধ সুরক্ষা দলগুলোর বেড়িবাঁধ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি গ্রহনকালে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ‘উপকূলের নারীরা এখন দুর্যোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করতে এবং তা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে। এটি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘স্থানীয় নারীরা নিজেদের এলাকার বেড়িবাঁধের দুর্বল জায়গা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। তাদের দেওয়া তথ্য নির্ভুল হলে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে আমাদের সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ মূলত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান বা প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। তবে, সুইডেন দূতাবাস ঢাকা এবং ইউএন উইমেন এর সহায়তায় ‘বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন’-এর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প এই ধারায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রকল্পের আওতায় গঠিত নারী বাঁধ সুরক্ষা দল বা (ইপিজি) এখন উপকূলের বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে বসতভিটার কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায়, গাবুরা লক্ষীখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসীরা জানায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আলামিন গাজী, মোছা. ফিরোজা ও মোছা. ফাহিমাসহ অনেকের কাছ থেকে কাগজপত্র সংশোধনের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের বিভিন্ন জটিল কাজ দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাবুরা চকবারা এলাকার হযরত আলীর ছেলে। এভাবে এলাকাটির প্রায় ৫০ জন বাসিন্দার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

মিথ্যা আশ্বাসে টাকা আদায়ের এ ঘটনায় গাবুরা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের কোনো লিখিত রসিদ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনি উপস্থিত ছিলেন। আমি কোনোভাবেই কারও কাছ থেকে টাকা আদায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমার জানামতে সে কোথাও থেকে কোনো টাকা আদায় করেনি।”

অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসের মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা উদঘাটনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।