বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বর্ষার জলে ভাসে স্বপ্ন-আশাশুনির নৌকার কারিগরের ঘামে লেখা বেঁচে থাকার গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
বর্ষার জলে ভাসে স্বপ্ন-আশাশুনির নৌকার কারিগরের ঘামে লেখা বেঁচে থাকার গল্প

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: দিগন্তজোড়া আকাশ কালো হতে শুরু করলেই আশাশুনির মানুষ বুঝে যায়-বর্ষা আর দূরে নয়। নদীর পানি ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে, খাল-বিল ভরে যায়, আর একসময় সেই পানি ছাপিয়ে ঢুকে পড়ে গ্রামগঞ্জে। চারপাশ তখন যেন এক জলমগ্ন পৃথিবী। এই জলজ বাস্তবতায় মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে একটি প্রাচীন সঙ্গী-নৌকা। আর সেই নৌকার প্রাণ সঞ্চার করেন যেসব কারিগর, তাদের হাতেই এখন ব্যস্ততার ছোঁয়া।

 

উপজেলার কুল্যা, দরগাপুর, রামনগর, প্রতাপনগর ও খাজরাসহ, কুন্দুডিয়া নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়-কোথাও পুরোনো নৌকার গায়ে নতুন করে আলকাতরা লাগানো হচ্ছে, কোথাও কাঠের গন্ধে ভরে উঠেছে উঠান, আবার কোথাও হাতুড়ির শব্দে তৈরি হচ্ছে নতুন জীবিকার বাহন। বর্ষা আসার আগমুহূর্তে এ যেন এক নীরব উৎসব-কিন্তু এই উৎসব আনন্দের চেয়ে বেশি প্রয়োজনের, টিকে থাকার।

 

স্থানীয় অনেকেই জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে নৌকার ব্যবহার কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু বর্ষা এলেই এর অপরিহার্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যখন কাঁচা-পাকা রাস্তা ডুবে যায়, ক্ষেত-খামার পানির নিচে চলে যায়, তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। কৃষক তার জমিতে যেতে, জেলে নদীতে জাল ফেলতে, গৃহস্থ তার গরুর খাদ্য আনতে কিংবা অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে-সব ক্ষেত্রেই নৌকার বিকল্প নেই।

 

এমনকি অনেক স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য নৌকাই প্রতিদিনের স্কুলবাস। খরিয়াটি গ্রামের প্রবীণ নৌকা কারিগর বলাই মন্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ছোটবেলায় বাবার পাশে বসে কাঠ ঘষতাম, তখন বুঝিনি এই কাজটাই একদিন জীবনের ভরসা হবে। এখন সেই কাজই করছি। তবে আগের মতো ভালো কাঠ আর পাই না।”

 

তাঁর কথায় এক ধরনের আক্ষেপ ফুটে ওঠে। তিনি জানান, আগে উন্নতমানের কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করা হতো, যা বছরের পর বছর টিকে থাকত। এখন কড়ই, চাম্বল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “একটা নৌকা বানানো শুধু কাঠ জোড়া লাগানো নয়-এটা একটা শিল্প। কাঠের সঙ্গে মাটিয়া তেল, আলকাতরা, তারকাটা, গজাল-সবকিছু মিলিয়ে একটা নৌকাকে টেকসই করতে হয়।

 

১২ হাত লম্বা একটা নৌকা বানাতে ১৫-২০ দিন লাগে, মজুরি প্রায় ৩০/৪০ হাজার টাকা। কিন্তু সব সময় কাজ থাকে না, অর্ডার না পেলে বসে থাকতে হয়।” কারিগরদের এই জীবনে অনিশ্চয়তাও কম নয়। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়েই কাজের চাপ বাড়ে, বাকি সময় অনেকেই অন্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হন। তবুও তারা এই পেশা ছাড়তে পারেন না-কারণ এটি শুধু জীবিকা নয়, এটি তাদের পরিচয়, তাদের শিকড়।

 

আশাশুনির নদীভাঙন ও নিয়মিত প্লাবন এখানকার মানুষের জীবনকে করে তুলেছে কঠিন। কিন্তু এই কঠিন বাস্তবতায়ও তারা হার মানেনি। বরং নৌকাকে সঙ্গী করে তারা খুঁজে নিয়েছে বেঁচে থাকার উপায়। বর্ষা এলেই সেই সংগ্রাম আরও দৃশ্যমান হয়-আর তারই নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে গ্রামের উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা আধা-তৈরি নৌকাগুলো। এই জনপদে নৌকা শুধু একটি বাহন নয়, এটি জীবনের গল্প-যেখানে প্রতিটি পাটাতনে লেগে থাকে কারিগরের ঘাম, প্রতিটি কাঠের গাঁটে গাঁটে জড়িয়ে থাকে সংগ্রামের ইতিহাস। বর্ষা এলেই সেই গল্পগুলো আবার নতুন করে লেখা হয়-নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে, মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে।

 

Ads small one

দেবহাটায় আটককৃত ৪৮ ক্যারেট আমে ক্যামিকেল, পরে বিনষ্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় আটককৃত ৪৮ ক্যারেট আমে ক্যামিকেল, পরে বিনষ্ট

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ৪৮ ক্যারেট আম আটক করে বিনষ্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে দেবহাটা ফুটবল মাঠে জব্দকৃত এসব আম ধ্বংস করা হয়।

জানা যায়, গত ৫-৬ দিন আগে উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের গাজীরহাট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ৪৮ ক্যারেট আম জব্দ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান। আমগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে সেগুলো উপজেলা গুদামে সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করা হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরীক্ষার মাধ্যমে আমগুলোতে ক্যামিক্যাল মিশ্রণের প্রমাণ পান। এর ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার নির্দেশনায় জব্দকৃত আম বিনষ্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসময় দেবহাটার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে ফুটবল মাঠে আমগুলো ধ্বংস করা হয়।

বিনষ্ট কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সাতক্ষীরায় ভ্যান চুরির অভিযোগে ধরা দুই যুবক, পুলিশে সোপর্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভ্যান চুরির অভিযোগে ধরা দুই যুবক, পুলিশে সোপর্দ

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরা পৌরসভার রইচপুর রাজ্জাকের মোড় এলাকায় নকল চাবি ব্যবহার করে ভ্যান চুরির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন-যশোর স্টেশন এলাকার জনাব আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন তুহিন (২৫) এবং চুকনগর গ্রামের আজিজ সরদারের ছেলে রাসেল সরদার (২৮)।

ভুক্তভোগী ভ্যানচালক আজগার আলী (২৮) জানান, তিনি তার ভ্যানটি রাস্তার পাশে রেখে প্রাকৃতিক কাজে গেলে ফিরে এসে দেখেন এক ব্যক্তি তার ভ্যান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরেকজন পেছনে বসে আছে।

তিনি বলেন, আমার পকেটে ভ্যানের চাবি থাকা সত্ত্বেও দেখি ভ্যানে অন্য একটি তালা লাগানো। আমি দৌড়ে গিয়ে ভ্যানের পেছন ধরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের আটক করে।

পরে তল্লাশি চালিয়ে আটককৃতদের কাছ থেকে একটি নকল চাবি উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে তারা ভ্যানটি চালু করেছিল বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সোহাগ হোসেন তুহিন দাবি করেন, তাকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে ভ্যানটি চালিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। তাকে জানানো হয়েছিল, ভ্যানটি তার খালাতো ভাইয়ের এবং সেই হিসেবে তাকে চাবি দেওয়া হয়। তবে অপর আটক রাসেল সরদারের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে হেফাজতে নেয়।
এলাকাবাসী জানান, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অভিযুক্তদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে তারা সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গ্রামবাসীরা আমাদের বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির আনুলিয়ায় বজ্রাঘাতে এক ঘের ব্যবসায়ীর মৃত হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ী এমডি সুমন হোসেন (২৮)। তিনি আনুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ একসরা গ্রামের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে।

পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, সুমন প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়ি থেকে দক্ষিণ একসরা বিলে তার মৎস্য ঘেরে যান। রাতে ঘেরের বাসায় বজ্রপাত হলে তার মৃত্যু হয়। সকালে আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি কাঁকড়া কিনতে ঘেরে গিয়ে সুমন বলে ডাকাডাকি করে সাড়া-শব্দ না পেয়ে বাসার ভিতরে গিয়ে দেখেন মৃতাবস্থায় পড়ে আছে। এসময় জলিল তার পরিবারের লোকদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

 

বৃহস্পতিবার আছর নামাজ বাদ দক্ষিণ একসরা জামে মসজিদ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে সে পিতা-মাতা, স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।