বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

সভায় বক্তৃতা করেন, সরকারি পাইকগাছা কলেজের অধ্যক্ষ সমরেশ রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, পাইকগাছা টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান, থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) উৎপল কুমার বাইন, খুলনা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক মুহিদুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম সিদ্দিকী, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, জামাত নেতা, মোঃ আব্দুল মোমিন সানা, অ্যাডভোকেট মোর্তুজা জামান রুলু, রাড়ুলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক, তুষার কান্তি মন্ডল, সাংবাদিক আহম্মদ আলী বাচা, পূর্ণ চন্দ্র মন্ডলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় আগামী ২ আগস্ট আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঐদিন সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মস্থান পরিদর্শন, তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, পিসি রায়ের জীবন ও কর্মের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ।

 

Ads small one

ঘরে ঘরে সাংবাদিক, কোথায় সাংবাদিকতা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ঘরে ঘরে সাংবাদিক, কোথায় সাংবাদিকতা?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একসময় সাংবাদিকতা ছিল একটি কঠিন, দায়িত্বশীল এবং জন স্বার্থনির্ভর পেশা। সংবাদ সংগ্রহ করতে একজন প্রতিবেদককে দিনের পর দিন মাঠে থাকতে হতো, তথ্য যাচাই করতে হতো, একাধিক পক্ষের বক্তব্য নিতে হতো, তারপর সংবাদ প্রকাশিত হতো। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। আজ একটি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থাকলেই মুহূর্তের মধ্যে যে কেউ ছবি, ভিডিও বা লেখা প্রকাশ করতে পারেন। ফলে একটি বহুল প্রচলিত কথা এখন প্রায়ই শোনা যায়-“ঘরে ঘরে সাংবাদিক।”প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি ঘরে ঘরে সাংবাদিক তৈরি হয়েছে? নাকি ঘরে ঘরে তৈরি হয়েছে তথ্য প্রকাশের মাধ্যম? এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সাংবাদিকতা কখনোই শুধু ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ করা বা ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার নাম নয়। সাংবাদিকতা হলো সত্য অনুসন্ধানের শিল্প, দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশনের অঙ্গীকার এবং জনস্বার্থ রক্ষার এক নিরন্তর সংগ্রাম। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের প্রথম পরিচয় তাঁর সততা, দ্বিতীয় পরিচয় তাঁর নিরপেক্ষতা এবং তৃতীয় পরিচয় তাঁর জবাবদিহি। তিনি জানেন, একটি ভুল সংবাদ শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, একটি প্রতিষ্ঠান এমনকি একটি রাষ্ট্রেরও অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে দেন। কেউ ভাইরাল হওয়ার আশায়, কেউ ব্যক্তিগত প্রতিশোধের কারণে, আবার কেউ না বুঝেই গুজব প্রচারে অংশ নেন। একটি পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা, একটি সম্পাদিত ছবি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কিংবা একটি অসম্পূর্ণ তথ্যকে পূর্ণ সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মিথ্যা তথ্যের গতি সত্যের চেয়ে অনেক বেশি।ডিজিটাল যুগ নাগরিক সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে-এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। দুর্ঘটনা, অগ্নিকা-, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য অনেক সময় সাধারণ মানুষের মাধ্যমেই প্রথম সামনে আসে। এতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায় এবং সংবাদ মাধ্যমও দ্রুত ঘটনাস্থলের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। অর্থাৎ নাগরিকের অংশগ্রহণ সংবাদকে আরও প্রাণবন্ত ও গতিশীল করেছে।কিন্তু নাগরিক সাংবাদিকতা এবং পেশাদার সাংবাদিকতা এক জিনিস নয়। একজন নাগরিক একটি ঘটনার সাক্ষী হতে পারেন, কিন্তু সেই ঘটনার সত্যতা যাচাই, কারণ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ, আইনগত ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ এবং জনস্বার্থের আলোকে সংবাদ উপস্থাপন করাই পেশাদার সাংবাদিকের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা, অভিজ্ঞতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। আজ আরেকটি ভয়াবহ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়কে পেশা নয়, প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। একটি অনলাইন পোর্টাল খুলে, একটি পরিচয়পত্র বানিয়ে কিংবা একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এরপর সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ সুবিধা আদায় কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। কয়েকজনের এই অনৈতিক কর্মকা-ের দায় শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় প্রকৃত সাংবাদিকদের। ফলে সমাজে সাংবাদিকতার প্রতি এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। মানুষ যখন দেখেন একজন কথিত সাংবাদিক কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অযৌক্তিক দাবি করছেন, তখন তাঁরা পুরো সাংবাদিক সমাজকেই একই চোখে দেখতে শুরু করেন। অথচ প্রকৃত সাংবাদিকরা দিনের পর দিন ঝুঁকি নিয়ে, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে থেকেও সত্য প্রকাশের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাঁদের সঙ্গে অসাধু ব্যক্তিদের এক কাতারে দাঁড় করানো অন্যায়। এই পরিস্থিতির জন্য শুধু ভুয়া সাংবাদিকদের দায়ী করলে হবে না। সংবাদ মাধ্যমকেও আত্মসমালোচনা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি দেখা যায়। কখনো কখনো শিরোনামকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে মূল তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়। আবার রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রভাবের অভিযোগও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। তাই গণমাধ্যমের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করা।রাষ্ট্রের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি, প্রতারণা কিংবা ভুয়া পরিচয়ের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত সাংবাদিকরা ভয়ভীতি বা হয়রানি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম কোনো বিলাসিতা নয়; এটি রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবারেও ডিজিটাল সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। শিশু-কিশোরদের শেখাতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া প্রতিটি তথ্য সত্য নয়। কোনো সংবাদ শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করতে হবে। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক কখনো গুজব ছড়াতে পারেন না। তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি মানুষের হাতে অভূতপূর্ব শক্তি তুলে দিয়েছে। কিন্তু শক্তির সঠিক ব্যবহার না হলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। ক্যামেরা হাতে থাকলেই যেমন সবাই আলোকচিত্রী হন না, তেমনি মোবাইল ফোন হাতে থাকলেই সবাই সাংবাদিক হয়ে যান না। সাংবাদিকতা একটি নৈতিক অঙ্গীকার, একটি পেশাগত শৃঙ্খলা এবং সর্বোপরি সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতার নাম।আজ আমাদের প্রয়োজন সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ানো নয়; প্রয়োজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বৃদ্ধি করা। প্রয়োজন এমন গণমাধ্যম, যা ক্ষমতার নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে; জনপ্রিয়তার নয়, জনস্বার্থের কথা বলবে; গুজবের নয়, তথ্যের ওপর আস্থা রাখবে।’ঘরে ঘরে সাংবাদিক’-এই কথাটি যদি সচেতন নাগরিকের অংশগ্রহণকে বোঝায়, তবে তা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু যদি এর অর্থ হয় যাচাইহীন তথ্যের বন্যা, ভুয়া পরিচয়ের বিস্তার এবং পেশাগত নৈতিকতার অবক্ষয়, তবে তা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। প্রযুক্তি আমাদের হাতে তথ্য পৌঁছে দিয়েছে, কিন্তু সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব এখনো সৎ, দক্ষ ও নীতিবান সাংবাদিকদের কাঁধেই রয়ে গেছে।তাই সময়ের দাবি একটাই-ঘরে ঘরে মোবাইল থাকুক, তথ্যপ্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়ুক, নাগরিকের অংশগ্রহণ বাড়ুক; কিন্তু সাংবাদিকতার মান, মর্যাদা ও নৈতিকতা যেন কোনোভাবেই বিসর্জন না যায়। কারণ একটি দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যমই পারে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে, দুর্নীতিকে উন্মোচন করতে এবং সমাজকে সত্যের পথে পরিচালিত করতে। ঘরে ঘরে তথ্যপ্রেরক তৈরি হতে পারে, কিন্তু ঘরে ঘরে সাংবাদিক তৈরি হয় না; সাংবাদিক তৈরি হয় সততা, দক্ষতা, ত্যাগ ও সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার মাধ্যমে। লেখক: সংবাদকর্মী

বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস ২০২৬ : প্রতারণার ফাঁদে বন্দী, মানব পাচার রোধে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস ২০২৬ : প্রতারণার ফাঁদে বন্দী, মানব পাচার রোধে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

সাকিবুর রহমান বাবলা
মানব পাচার একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ সংগঠিত অপরাধ এবং মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগেই, কিন্তু আধুনিক বিশ্বে মানব পাচার সেই দাসত্বেরই নতুন ও আরও জটিল রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘের ভাষায়; মানব পাচার হলো প্রতারণা, প্রলোভন, জবরদস্তি, বলপ্রয়োগ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ, পরিবহন, আশ্রয়দান বা স্থানান্তর করা। এই শোষণ হতে পারে জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, গৃহদাসত্ব, অঙ্গপাচার, ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকা-ে ব্যবহার করার মাধ্যমে।
মানব পাচারের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সামনে আনতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৩ সালে ৩০ জুলাইকে বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যÑ ঞৎধঢ়ঢ়বফ ইবযরহফ ঃযব ঝপধস বা “প্রতারণার ফাঁদে বন্দী”Ñ মানব পাচারের একটি নতুন ও দ্রুত বিস্তারমান রূপের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যেখানে আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্র চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধে জোরপূর্বক সম্পৃক্ত করছে।
বর্তমানে এ অপরাধ কেবল সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষ স্থানান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত “সাইবার স্ক্যাম কমপাউন্ড”-এ অসংখ্য মানুষকে আটকে রেখে অনলাইন প্রতারণা পরিচালনা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংঘটিত প্রতারণামূলক কর্মকা-ের কারণে ২০২৩ সালে আনুমানিক ১৮ থেকে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় উল্লেখ করেছে।
বর্তমানে বিশ্বেজুড়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ২৮ কোটিরও বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ওখঙ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ওঙগ-এর বহুল উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি মানুষ আধুনিক দাসত্বের বিভিন্ন রূপের শিকার। নারী, শিশু, অভিবাসী শ্রমিক এবং সংঘাতপীড়িত অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরুষদের জোরপূর্বক শ্রম এবং অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকা-ে ব্যবহারের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ তার ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্র ও অবৈধ দালাল নেটওয়ার্ক বহু মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে শোষণ, নির্যাতন, আইনি জটিলতা, জীবনের ঝুঁকি এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একসময় নারী ও শিশুরা এ অপরাধের প্রধান শিকার হলেও বর্তমানে বিদেশগামী তরুণ শ্রমশক্তিও আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশি অভিবাসী বা প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ১.৩-১.৫ কোটি। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানব পাচার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো জাতিসংঘের পালের্মো প্রোটোকল। এই প্রোটোকল মানব পাচারের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা নির্ধারণ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের বিচারের জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রদান করেছে। টঘঙউঈ, ওঙগ, ওখঙ এবং টঘওঈঊঋ বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ, উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মানব পাচার একটি অনৈতিক ও অমানবিক কার্যক্রম, যা মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণœ করে। এটি রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজ জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক উন্মোচনে সহায়তা করে। সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জালিয়াতির ফাঁদ এড়াতে তরুণ প্রজন্মসহ বিদেশগামীদের মাঝে ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিসচেতনতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
একই সঙ্গে পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের দীর্ঘমেয়াদী ট্রমা কাটাতে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং এবং নিবিড় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। কার্যকর প্রতিরোধ ও সুরক্ষার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি, নিরাপদ অভিবাসন, কর্মসংস্থান এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক দালালদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা একান্ত প্রয়োজন।
২০২৬ সালের বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রতারণার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানব পাচারের নতুন রূপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জটিল ও বিপজ্জনক। প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা ও আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের বিস্তারের এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সীমান্ত-অতিক্রমী বিচারিক সমন্বয়, আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ অপরাধ মোকাবিলা করতে। প্রতারণার ফাঁদে বন্দী প্রতিটি মানুষের মুক্তি, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই হোক বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস ২০২৬-এর অঙ্গীকার।

বন্ধুত্ব টিকে থাকুক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
বন্ধুত্ব টিকে থাকুক

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বন্ধুত্ব অদৃশ্য এক অটুট বন্ধনের নাম। বন্ধু ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু এর ব্যাপ্তি সীমাহীন, এর গভীরতা অনেক। জীবনে চলার পথে বন্ধু খুব প্রয়োজন। বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মাঝে বন্ধু অন্যতম।
বন্ধুত্ব হলো দুজন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ভরসা ও বিশ্বাসের এক বিশেষ সম্পর্ক। এটি মনের মিলের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের কোনো বয়স বা সীমানা নেই। বন্ধুত্বের মূল কথা ভরসা। বিপদে পাশে থাকা এবং গোপন কথা নিরাপদে রাখা। একে অপরের প্রতি সৎ ও বিশ্বস্ত থাকা। একসাথে সময় কাটানো এবং সুখে-দুঃখে ভাগাভাগি করা।
বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের অন্যতম সুন্দর একটি উপহার। বন্ধুত্ব হলো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশেষ সম্পর্ক। বন্ধু মানে আস্থা, নির্ভরতা। আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হল বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের সম্পর্ক এক মানুষকে আরেকজনের সঙ্গে মনের বন্ধনে আবদ্ধ করে। বন্ধু হলো এমন একজন বিশেষ মানুষ, যার সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করা যায়, মনের সব কথা খুলে বলা যায় এবং বিপদে ভরসা পাওয়া যায়।
জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস প্রতি বছর ৩০ জুলাই পালিত হয়। তবে বাংলাদেশ, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। ১৯৫৮ সালের ৩০ জুলাই প্যারাগুয়েতে এই দিবসটি উদযাপনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০১১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। দিবসটির উদেশ্য জাতি, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।
আমাদের জীবনে সুখ-দুঃখ মিলে মিশে আছে। বন্ধু আমাদের সুখের সময় আনন্দ দ্বিগুণ করে দেয় এবং দুঃখের সময় পাশে দাঁড়িয়ে সাহস যোগায়। বন্ধু মানেই হলো ভরসা এবং কোনো শর্ত ছাড়া ভালোবাসার এক অনন্য আশ্রয়। এক সাথে কাটানো স্কুলের দিন, আড্ডা, হাসি-কান্না আর দুষ্টুমিগুলো সারাজীবন মনে গেঁথে থাকে। ভালো বন্ধু কখনো বিপদে একা ফেলে যায় না, বরং অন্ধকার কাটিয়ে আলোতে ফেরার পথ দেখায়।
বন্ধুত্ব হলো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং মূল্যবান সম্পর্ক। একটি সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং একে অপরের ব্যক্তিগত সীমানাকে গুরুত্ব দেওয়া। ভালো সময়ে পাশে থাকার পাশাপাশি কঠিন মুহূর্তেও একে অপরকে ছেড়ে না যাওয়ার মানসিকতাই সম্পর্ককে চিরদিন অটুট রাখে। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখাতে নিয়মিত বন্ধুর খোঁজ নেওয়া এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানো। বন্ধুর ব্যক্তিগত মতামত ও সিদ্ধান্তকে মূল্য দেওয়া। ছোটখাটো ভুল বা রাগ জমিয়ে না রেখে সহজে ক্ষমা করা।
বন্ধুত্ব কখনো হারায় না, বন্ধুত্ব বদলায় না। কখনো মলিন হয় না, বন্ধুত্ব থাকে চিরসবুজ। বিশ্বের সকল বন্ধুত্ব বেঁচে থাকুক। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট