বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিদ্যুতের সংকটে আশাশুনিতে হাতপাখার কদর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের সংকটে আশাশুনিতে হাতপাখার কদর

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: “শীতের কাঁথা, বর্ষার ছাতা আর গরমের পাখা”-বাঙালির চিরচেনা এই প্রবাদ যেন নতুন করে বাস্তব হয়ে উঠেছে আশাশুনিতে। বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনে আবারও ফিরে এসেছে সেই পুরোনো দিনের নির্ভরতা-হাতপাখা। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই উপকরণ এখন গরম থেকে বাঁচার প্রধান ভরসা। উপজেলার বুধহাটা, আশাশুনি সদর, খাজরা ও আনুলিয়া, বড়দল, কাদাকাটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাতা, বাঁশ ও রঙিন কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় এসব পাখার চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে নি¤œআয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে সহজলভ্য স্বস্তির উপায়।

আশাশুনি বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “আগে গরমের সময় কিছু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।” বুধহাটার এক গৃহিণী জানান, “দিনে কোনোভাবে সময় কাটে, কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। তাই কয়েকটা হাতপাখা কিনেছি, অন্তত একটু স্বস্তি পাওয়া যায়।” খাজরার এক দিনমজুর রহমত আলী বলেন, “বিদ্যুৎ থাকে না, ফ্যান কিনেও লাভ নেই। তাই কম দামের হাতপাখাই এখন ভরসা।” আনুলিয়ার এক শিক্ষার্থী জানায়, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না, গরমে পড়াশোনাও কঠিন হয়ে যায়।” প্রবীণ এক শিক্ষক সাধন কুমার দে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের সময় তো হাতপাখাই ছিল সব। এখন আবার সেই দিন ফিরে আসছে। তবে এখন গরমের তীব্রতা বেশি, কষ্টও বেশি।” এই হাতপাখা কেবল একটি ব্যবহারিক উপকরণ নয়, বরং বাঙালির দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাস বলে, গ্রিক ও রোমান সভ্যতার সময় থেকেই হাতপাখার ব্যবহার ছিল। প্রথমদিকে পাখার নকশা ছিল সরল ও ভাঁজহীন। পরে চীন ও জাপানের প্রভাবে ইউরোপে ভাঁজ করা পাখার প্রচলন শুরু হয়। আঠারো শতকে ইউরোপে পাখা তৈরির শিল্প গড়ে উঠলেও তা ছিল অভিজাতদের বিলাসপণ্য। পাখার গায়ে কারুকার্য, অলংকার ও সমকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হতো। আজও এসব পাখার নিদর্শন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলার প্রেক্ষাপটে তালপাখা এক অনন্য আবেগের নাম। লোকগাঁথায় শোনা যায়-“আমার নাম তালের পাখা, শীতকালে দেই না দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা।” এক বৃদ্ধা বলেন, “আমার বউ হওয়ার পর থেকেই এই কাজ করি। তালপাখা বানিয়ে ছেলেমেয়েদের মানুষ করেছি। এখন তারাও বানায়। আমরা যেন তালপাখার যুগে বাঁচি।এক বৃদ্ধ কারিগর বলেন, “তালপাখা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে আত্মনির্ভর হতে হয়। কিন্তু ঋণ পেলে হয়তো আরেকটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।” স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী অসিম দত্ত বলেন, “হাতপাখা শুধু গরম থেকে স্বস্তি দেয় না, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।” তালপাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশবান্ধবতা। তালগাছ মাটির ক্ষয় রোধ, পানি ধারণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তালপাখার ব্যবহার একদিকে যেমন ঐতিহ্যকে ধরে রাখে, অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করে। সব মিলিয়ে, আশাশুনিতে বিদ্যুৎ সংকট হাতপাখাকে আবারও জীবনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। মানুষের অভিজ্ঞতা, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশবান্ধবতার মেলবন্ধনে হাতপাখা হয়ে উঠেছে সময়ের বাস্তবতায় এক অনিবার্য সঙ্গী।

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।