বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিদ্যুতের সংকটে আশাশুনিতে হাতপাখার কদর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের সংকটে আশাশুনিতে হাতপাখার কদর

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: “শীতের কাঁথা, বর্ষার ছাতা আর গরমের পাখা”-বাঙালির চিরচেনা এই প্রবাদ যেন নতুন করে বাস্তব হয়ে উঠেছে আশাশুনিতে। বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনে আবারও ফিরে এসেছে সেই পুরোনো দিনের নির্ভরতা-হাতপাখা। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই উপকরণ এখন গরম থেকে বাঁচার প্রধান ভরসা। উপজেলার বুধহাটা, আশাশুনি সদর, খাজরা ও আনুলিয়া, বড়দল, কাদাকাটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাতা, বাঁশ ও রঙিন কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় এসব পাখার চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে নি¤œআয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে সহজলভ্য স্বস্তির উপায়।

আশাশুনি বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “আগে গরমের সময় কিছু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।” বুধহাটার এক গৃহিণী জানান, “দিনে কোনোভাবে সময় কাটে, কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। তাই কয়েকটা হাতপাখা কিনেছি, অন্তত একটু স্বস্তি পাওয়া যায়।” খাজরার এক দিনমজুর রহমত আলী বলেন, “বিদ্যুৎ থাকে না, ফ্যান কিনেও লাভ নেই। তাই কম দামের হাতপাখাই এখন ভরসা।” আনুলিয়ার এক শিক্ষার্থী জানায়, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না, গরমে পড়াশোনাও কঠিন হয়ে যায়।” প্রবীণ এক শিক্ষক সাধন কুমার দে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের সময় তো হাতপাখাই ছিল সব। এখন আবার সেই দিন ফিরে আসছে। তবে এখন গরমের তীব্রতা বেশি, কষ্টও বেশি।” এই হাতপাখা কেবল একটি ব্যবহারিক উপকরণ নয়, বরং বাঙালির দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাস বলে, গ্রিক ও রোমান সভ্যতার সময় থেকেই হাতপাখার ব্যবহার ছিল। প্রথমদিকে পাখার নকশা ছিল সরল ও ভাঁজহীন। পরে চীন ও জাপানের প্রভাবে ইউরোপে ভাঁজ করা পাখার প্রচলন শুরু হয়। আঠারো শতকে ইউরোপে পাখা তৈরির শিল্প গড়ে উঠলেও তা ছিল অভিজাতদের বিলাসপণ্য। পাখার গায়ে কারুকার্য, অলংকার ও সমকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হতো। আজও এসব পাখার নিদর্শন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলার প্রেক্ষাপটে তালপাখা এক অনন্য আবেগের নাম। লোকগাঁথায় শোনা যায়-“আমার নাম তালের পাখা, শীতকালে দেই না দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা।” এক বৃদ্ধা বলেন, “আমার বউ হওয়ার পর থেকেই এই কাজ করি। তালপাখা বানিয়ে ছেলেমেয়েদের মানুষ করেছি। এখন তারাও বানায়। আমরা যেন তালপাখার যুগে বাঁচি।এক বৃদ্ধ কারিগর বলেন, “তালপাখা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে আত্মনির্ভর হতে হয়। কিন্তু ঋণ পেলে হয়তো আরেকটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।” স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী অসিম দত্ত বলেন, “হাতপাখা শুধু গরম থেকে স্বস্তি দেয় না, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।” তালপাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশবান্ধবতা। তালগাছ মাটির ক্ষয় রোধ, পানি ধারণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তালপাখার ব্যবহার একদিকে যেমন ঐতিহ্যকে ধরে রাখে, অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করে। সব মিলিয়ে, আশাশুনিতে বিদ্যুৎ সংকট হাতপাখাকে আবারও জীবনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। মানুষের অভিজ্ঞতা, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশবান্ধবতার মেলবন্ধনে হাতপাখা হয়ে উঠেছে সময়ের বাস্তবতায় এক অনিবার্য সঙ্গী।

Ads small one

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে প্রায় অর্ধেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে প্রায় অর্ধেক

অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কাঁচা তুলা আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

 

মূলত দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে আমদানির এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

ভোমরা কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ৮১৩ টন কাঁচা তুলা আমদানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৫৬ টন, যার মূল্য ছিল ৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৭৪৩ টন।

বন্দরের তুলা আমদা‌নিকা‌রক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজে‌ন্সির স্বত্বা‌ধিকারী প‌রি‌তোষ কুমার জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় মিলগুলোয় চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

 

অন‌্যদি‌কে ভার‌তেও গত অর্থবছরের তুলনায় চল‌তি অর্থবছর তুলার দাম কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গত বছর ভার‌তে যে কাঁচা তুলা প্রতি পাউন্ড ১১৪ টাকা দ‌রে বি‌ক্রি হয়েছে, তা এ বছর বি‌ক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি পাউন্ডে দাম কমেছে ১৯-২০ টাকা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক-দেড় বছর দেশের পোশাক ও সুতা উৎপাদনকারী খাতগুলো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণেই কাঁচামাল হিসেবে তুলা আমদানির পরিমাণ কমে গেছে।

হজ পালনে যা জানা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
হজ পালনে যা জানা জরুরি

হজ একটি ফরজ ইবাদত। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। তাই প্রত্যেক শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা আবশ্যক। এই মহান ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে, যা জানা অত্যন্ত জরুরি।
এই আলোচনায় সংক্ষিপ্তভাবে হজের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে তাওয়াফ, সাঈ, আরাফাতে অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি রীতিনীতি ধারাবাহিকভাবে সহজ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
একই সফরে ভিন্ন ইহরামে হজ ও উমরাহ পালন করাকে হজে তামাত্তু বলে। বাংলাদেশ থেকে যারা হজে যান তারা সাধারণত তামাত্তু হজ পালন করেন। হজ তামাত্তুর নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ইহরাম পরিধান: মিকাতে বা মিকাতের পূর্বে ইহরাম পরিধান করা (যাত্রার প্রথমে মক্কায় গেলে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে ইহরাম পরিধান করে নেয়া।

কাবায় গমন: মক্কা পৌঁছে হোটেলে লাগেজ রেখে সামান্য বিশ্রাম নেয়া। এরপর অজু করে মুআল্লিমের সঙ্গে কাবায় যাওয়া।

তাওয়াফ: সাতবার কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করা। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা।

সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে হাতে চুম্বন করা।
রমল ও ইজতিবা করা: তাওয়াফের সময় দ্রুত হাঁটা (রমল করা) এবং ইহরামের চাদর ডান হাতের নিচে এনে বাম কাঁধে রাখা যাতে ডান কাঁধ ও বাহু খোলা থাকে (ইজতিবা করা)। এগুলো তাওয়াফের সুন্নত।

সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার সাঈ করা, সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে শেষ করা।

হলক বা কসর করা: মাথা মুণ্ডানো (হলক) বা চুল কাটা (কসর)।

বি: দ্র: এই রীতিগুলো সম্পন্ন করার পর, হজের পূর্বে সময় থাকলে হাজিরা ইহরাম খুলে মদিনায় যেতে পারেন।

নোট:
হজে কিরান: একই সফরে একই ইহরামে হজ ও উমরাহ পালন করাকে হজে কিরান বলে। হজে কিরানের ক্ষেত্রে উপরের সব রীতি মানতে হয়। কেবল ইহরাম খুলে হালাল হওয়া যায় না।

হজে ইফরাদ: এক সফরে শুধু হজ করা এবং উমরাহ না করা। এমন হজের ক্ষেত্রে উপরের রীতিগুলো প্রযোজ্য নয়।

হজের মূল কাজসমূহ
হজের মূল কাজগুলো ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পালন করতে হয়। এ সময়ের কাজগুলো হলো-

৮ জিলহজ:
হোটেল বা কাবা শরিফে ইহরাম পরিধান করা এবং মক্কা থেকে মিনায় গমন করা। এখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরের দিন ফজর, মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
৯ জিলহজ:
এদিন সকালে মিনা থেকে আরাফার ময়দানে চলে যাওয়া। সেখানে জোহর ও আসর একত্রে আদায় করে নেয়া। মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত তালবিয়া, তাহমিদ, দোয়া-দরুদ ও ইস্তেগফার পাঠ করা। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় চলে এসে মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করা। ফজরের পর ফের মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাওয়া।

১০ জিলহজ:
মুজদালিফা থেকে মিনায় চলে যাওয়া এবং বড় শয়তান অর্থাৎ জামরাতে আকাবায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা। পাথর নিক্ষেপের পর কোরবানি সম্পন্ন করে মাথা মুণ্ডন অথবা চুল খাটো করা। মাথা মুণ্ডন শেষ হলে তাওয়াফে জিয়ারত করা।
১১ জিলহজ:
শয়তানের তিনটি স্তম্ভে ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা।

১২ জিলহজ:
শয়তানের তিনটি স্তম্ভে পুনরায় ৭টি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করা। ১২ তারিখের পর থেকে হাজিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

হরমুজে বাংলাদেশী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেবে ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
হরমুজে বাংলাদেশী জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেবে ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকার ইরান দূতাবাস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইরান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। একইসঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতিও ইরান তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চলতি সপ্তাহে তুরস্কের আন্তালিয়া ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ-এর বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে দূতাবাস জানায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় দেশের গঠনমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। দূতাবাস জানায়, আজারবাইজান হয়ে ১৮৬ বাংলাদেশিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে ইরান।

এছাড়া, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করে ইরান। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে অসন্তোষ জানিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।