মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বিদ্যুতের সংকটে আশাশুনিতে হাতপাখার কদর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের সংকটে আশাশুনিতে হাতপাখার কদর

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: “শীতের কাঁথা, বর্ষার ছাতা আর গরমের পাখা”-বাঙালির চিরচেনা এই প্রবাদ যেন নতুন করে বাস্তব হয়ে উঠেছে আশাশুনিতে। বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনে আবারও ফিরে এসেছে সেই পুরোনো দিনের নির্ভরতা-হাতপাখা। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই উপকরণ এখন গরম থেকে বাঁচার প্রধান ভরসা। উপজেলার বুধহাটা, আশাশুনি সদর, খাজরা ও আনুলিয়া, বড়দল, কাদাকাটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাতা, বাঁশ ও রঙিন কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় এসব পাখার চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে নি¤œআয়ের মানুষ ও গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে সহজলভ্য স্বস্তির উপায়।

আশাশুনি বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “আগে গরমের সময় কিছু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুতের সমস্যার কারণে চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে পাখা আনতে হচ্ছে।” বুধহাটার এক গৃহিণী জানান, “দিনে কোনোভাবে সময় কাটে, কিন্তু রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। তাই কয়েকটা হাতপাখা কিনেছি, অন্তত একটু স্বস্তি পাওয়া যায়।” খাজরার এক দিনমজুর রহমত আলী বলেন, “বিদ্যুৎ থাকে না, ফ্যান কিনেও লাভ নেই। তাই কম দামের হাতপাখাই এখন ভরসা।” আনুলিয়ার এক শিক্ষার্থী জানায়, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না, গরমে পড়াশোনাও কঠিন হয়ে যায়।” প্রবীণ এক শিক্ষক সাধন কুমার দে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের সময় তো হাতপাখাই ছিল সব। এখন আবার সেই দিন ফিরে আসছে। তবে এখন গরমের তীব্রতা বেশি, কষ্টও বেশি।” এই হাতপাখা কেবল একটি ব্যবহারিক উপকরণ নয়, বরং বাঙালির দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাস বলে, গ্রিক ও রোমান সভ্যতার সময় থেকেই হাতপাখার ব্যবহার ছিল। প্রথমদিকে পাখার নকশা ছিল সরল ও ভাঁজহীন। পরে চীন ও জাপানের প্রভাবে ইউরোপে ভাঁজ করা পাখার প্রচলন শুরু হয়। আঠারো শতকে ইউরোপে পাখা তৈরির শিল্প গড়ে উঠলেও তা ছিল অভিজাতদের বিলাসপণ্য। পাখার গায়ে কারুকার্য, অলংকার ও সমকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হতো। আজও এসব পাখার নিদর্শন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলার প্রেক্ষাপটে তালপাখা এক অনন্য আবেগের নাম। লোকগাঁথায় শোনা যায়-“আমার নাম তালের পাখা, শীতকালে দেই না দেখা, গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা।” এক বৃদ্ধা বলেন, “আমার বউ হওয়ার পর থেকেই এই কাজ করি। তালপাখা বানিয়ে ছেলেমেয়েদের মানুষ করেছি। এখন তারাও বানায়। আমরা যেন তালপাখার যুগে বাঁচি।এক বৃদ্ধ কারিগর বলেন, “তালপাখা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে আত্মনির্ভর হতে হয়। কিন্তু ঋণ পেলে হয়তো আরেকটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।” স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী অসিম দত্ত বলেন, “হাতপাখা শুধু গরম থেকে স্বস্তি দেয় না, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।” তালপাখার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশবান্ধবতা। তালগাছ মাটির ক্ষয় রোধ, পানি ধারণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তালপাখার ব্যবহার একদিকে যেমন ঐতিহ্যকে ধরে রাখে, অন্যদিকে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করে। সব মিলিয়ে, আশাশুনিতে বিদ্যুৎ সংকট হাতপাখাকে আবারও জীবনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। মানুষের অভিজ্ঞতা, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশবান্ধবতার মেলবন্ধনে হাতপাখা হয়ে উঠেছে সময়ের বাস্তবতায় এক অনিবার্য সঙ্গী।

Ads small one

পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই বেশ জনপ্রিয়তা পান প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন নায়িকা হিসেবেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমাতে প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দীঘি জানান, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির বায়োপিকে তিনি কাজ করতে চান। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে বলেও মন্তব্য করেন নায়িকা।

কেন পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান সেটিও তিনি জানান। তার কথায়, কোনও একটি অনুষ্ঠানে পরীমণি জানিয়েছেন তার বায়োপিকে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। কারণ অন্য কেউ পারবে না। সে চ্যালেঞ্জ থেকেই দীঘি কাজটি করতে আগ্রহী।

দীঘির ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় তার (পরীমণি) বায়োপিক যদি হয় তাহলে এটি দারুণ একটি এন্টারটেইমেন্ট বায়োপিক হবে।’

নায়িকা হিসেবে দীঘির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো-‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ও ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘বিদায়’ সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়।

আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ নারীদের এশিয়া কাপে বাঁচা মরার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১০৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে । তবে এদিন শুরুতেই বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল।

বিশেষ করে আগে ব্যাট করতে নেমে চাপে থাকা বাংলাদেশ যখন ৫৫ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তার ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।

টাইগ্রেস ওপেনার দিলারা আক্তার রানের খাতা খোলার আগে প্রথম ওভারেই বিদায় নিয়েছেন। ৩ বলে ০ রান করেন দিলারা। তিনে নেমে ব্যর্থ ছিলেন সোবহানা মোস্তারীও। ৬ বলে ৩ রান করেছেন তিনি। টিকে থাকা ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১ রান তোলে বাংলাদেশ।

পাওয়ারপ্লে শেষে ২০ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন জুয়াইরিয়া। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি থেমেছেন ২৮ বলে ২৩ রান করে। স্বর্ণা আক্তার এবং ফাহিমা খাতুন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। আউট হন পরপর দুই বলে। মাত্র ৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ঝড় তোলেন। ৩১ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেন শারমিন। তাতেই একশ পার করার রসদ পায় বাংলাদেশ। এছাড়া নাহিদা আক্তার ২৬ বলে ১৬ রান করে টিকে ছিলেন। ৪ বলে ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাবেয়া খান। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

 

পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

আইসিসি পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে জরিমানা করেছে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে। ফাতিমা আইসিসির খেলোয়াড় এবং সহযোগী স্টাফদের আচরণবিধির ২ দশমিক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। এতে পাকিস্তানি এই অধিনায়ককে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ফাতিমার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। ২৪ মাসের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় অপরাধ, যার ফলে এই ২৪ মাসের সময়সীমার মধ্যে তার মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। ফাতিমা তার আগের ডিমেরিট পয়েন্টটি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে, যখন ফাতিমা ওপেনার শেফালি বর্মাকে আউট করার পর প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা (অঙ্গভঙ্গি) করেছিলেন।

ফাতিমা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এমিরেটস আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানী দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন, যার ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিমালি পেরেরা ও সাথিরা জাকির জেসী, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাবাব আহসান এই অভিযোগটি আনেন।