শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো

 

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেছে সরকার।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদীয় দায়িত্ব বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগপ্রাপ্ত নেই, সেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদবিষয়ক কার্যাবলি নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা সম্পাদন করবেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদ বিষয়ক দায়িত্ব পালন করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

ড. আব্দুল মঈন খানের অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চলতি বছরের ১৭ মার্চ, ৬ এপ্রিল, ১৬ জুলাই ও ২০ আগস্ট জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।

সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

Ads small one

প্লাস্টিকের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের তৈরি পণ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের তৈরি পণ্য

ইব্রাহিম খলিল: একসময় সাতক্ষীরার গ্রামীণ জীবনে বাঁশ-বেতের তৈরি হাতপাখা, কুলা, ডালি, ঝুড়ি, চালুনি কিংবা মাছ ধরার সরঞ্জাম ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ঘর-গৃহস্থালি থেকে কৃষিকাজ, এমনকি মাছ ধরার কাজেও এসব পণ্যের ছিল ব্যাপক ব্যবহার। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের চাহিদাও। সস্তা ও সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে সেই জায়গা এখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কারিগরদের জীবন-জীবিকা।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোরাপাক্রাতলা গ্রামের সড়কের পাশে বসে বাঁশের চিকন শলা দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করছিলেন ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বিশ্বনাথ দাস। অভিজ্ঞ হাতে একের পর এক বাঁশের ফালি বুনে তৈরি করছেন ঝুড়ি।

বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেইক্যা এই কাম কইরা আসতেছি। এইডাই আমাগের ব্যবসা।’ তিনি আরও বলেন, একটা ঝুড়ি তৈরি করে ১৫০ টাকায় বিক্রি করি। এতে বাঁশ ও অন্যান্য খরচ পড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে সর্বোচ্চ দুটি ঝুড়ি তৈরি করা যায়। আয় কম হলেও সংসারের কথা ভেবে পেশাটি ধরে রেখেছি। কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও করে যাচ্ছি।

দেবহাটা এলাকার আরেক কারিগর পঞ্চরঞ্জন দাসের জীবনেও একই গল্প। প্রায় ৭০ বছর ধরে তাদের পরিবার বাঁশের এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখলেও এখন আর এতে আগের মতো লাভ নেই। কোনোরকমে সংসার চালিয়ে নিতে হচ্ছে তাকে।

পঞ্চরঞ্জন দাস বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এই কাজ করে আসছি। প্রায় ৭০ বছর হবে। এখন আর আমাদের এই কাজের তেমন একটা লাভ নেই। কোনো রকমে সংসার চলে। মাঝে মাঝে ঋণী হয়ে আবার কাজ করি। এভাবেই আমাদের জীবনযাপন।

তিনি জানান, বাঁশের কাজের সামান্য আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে এক ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।

পঞ্চরঞ্জন বলেন, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাব কীভাবে? একটা ছেলে পড়াশোনা করতে চেয়েছিল, টাকার কারণে পড়াতে পারিনি। সেই ছেলে এখন কাজকাম করে।

তার এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বাঁশের শিল্পে সংকট শুধু একটি পেশার সংকট নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের শিক্ষা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জীবন।

কোরাপাক্রাতলা গ্রামের কারিগর অরবিন্দ দাস তৈরি করেন কাঁকড়া ধরার আটন, ঢাকনা, চিংড়ি ধরার খোলুই, মাটির ঝুড়ি, কাবড়া ও কুলাসহ বিভিন্ন পণ্য। তার ভাষ্য, গ্রামে প্রায় ৫০ জন মানুষ বাঁশের কাজের সঙ্গে যুক্ত।

তবে কাজ থাকলেও আগের মতো বাজার নেই। প্লাস্টিকের তৈরি ঝুড়ি, কুলা, ডালি ও অন্যান্য সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় বাঁশের পণ্যের চাহিদা কমেছে। একই সময়ে বেড়েছে বাঁশ ও উৎপাদন খরচ।

কারিগর স্বপন দাস জানান, বর্তমানে একটি বাঁশ কিনতেই ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু তৈরি পণ্যের দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। তার দাবি, স্বল্প সুদে বা সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি সহায়তা পেলে এই পেশার মানুষগুলো টিকে থাকতে পারবেন।

দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ভ্যানে করে বাঁশের পণ্য বিক্রি করেন ৬০ বছরের বেশি বয়সী রবিন দাস। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার ভ্যানে থাকে টাবরা, কুলা, ডালি, টোকা, ধামা-পালিসহ বিভিন্ন পণ্য।

রবিন দাস বলেন, একটা টাবরা ১৮০ টাকায় কিনে ২০০ টাকায় বেচি। এই ব্যবসা দিয়েই সংসার চালাই।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারে বাঁশের পণ্য বিক্রি করেন কানাই কুমার। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরুর সময় প্লাস্টিকের ব্যবহার এতটা ছিল না। গত পাঁচ বছরে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের পণ্যের বাজার অনেকটাই কমেছে।

কানাই কুমার বলেন, প্রথম যখন এই ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তখন তেমন একটা প্লাস্টিক ছিল না। পাঁচ বছর ধরে প্লাস্টিক বেশি ব্যবহার হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রায় ২ লাখ টাকার মতো লস খেয়েছি। এই ব্যবসা আগের মতো ভালো নেই। না করলে তো কিছু করার নেই।

বাজারে পণ্য বিক্রি না হওয়ায় কারিগর ও বিক্রেতা দুই পক্ষই পড়েছেন সংকটে। অনেকেই সমিতি ও সুদের টাকা নিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

কানাই বলেন, আমরা যদি হাটে-বাজারে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে টাকা কোথা থেকে দেব? এখন আমাদের দিন আনা-দিন খাওয়া চলছে। সমিতির টাকা, সুদের টাকা নিয়ে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে আছি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চিংড়ি, ফয়জুল্লাহপুর, দেবহাটার কাজীরহাট, বিষ্ণুপুর, পারুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাঁশের পণ্য তৈরি হয়। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কারিগর বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

কানাই কুমার বলেন, যারা তৈরি করছেন, তাদেরও দুরবস্থা। এখন তাদের দিন চলে না। তারা এখন এসব কাজ ছেড়ে দিয়ে ভ্যান চালাচ্ছেন। আমিও তো ভ্যান চালাই। সকালে-বিকেলে এসব মালামাল বিক্রি করি, অন্যরকম বাজার-ঘাট করার মতো।

প্লাস্টিক এমনিতেই ক্ষতিকর। প্লাস্টিক যদি না উঠত, তাহলে আমাদের কারিগর যারা রয়েছে, তারাও ভালোভাবে চলতে পারত।

বাঁশের পণ্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়াতেই রয়েছে শ্রম ও সময়ের ব্যাপার। বাঁশ কেটে দা বা ছুরি দিয়ে চিকন ফালি তৈরি করা হয়। পরে রোদে শুকিয়ে সেই ফালি বুনে তৈরি করা হয় ঝুড়ি, কুলা, ডালি, চালুনিসহ নানা পণ্য। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা এই কাজ এখনো ধরে রেখেছেন অনেকে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ পেশার প্রতি আগ্রহ কমছে।

কালীগঞ্জের কারিগর মো. হোসাইন আলী বলেন, বাপ-দাদার পেশা, তাই ধরে আছি। কিন্তু ছেলে-মেয়েরা আর এই কাজ করতে চায় না। পরিশ্রম বেশি, লাভ কম। চাহিদাও আগের মতো নেই।

সাতক্ষীরা বিসিকের প্রচার কর্মকর্তা পীযূষ ঘোষ বলেন, জেলার অনেক মানুষ বাঁশ ও বেতের কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণের সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবী জামিনদারের শর্ত থাকায় অনেক কারিগর ঋণ নিতে পারেন না। ‘একটি পণ্য, একটি গ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং বাঁশের পণ্যের বাজার বাড়ানোর উদ্যোগ না নিলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

বাঁশের শলায় বোনা প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাতক্ষীরার গ্রামীণ জীবনের পুরোনো ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। একদিকে কমছে পণ্যের চাহিদা, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও ঋণের চাপ। ফলে শুধু একটি শিল্পই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু পরিবারের স্বপ্নও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি সচেতনতায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি সচেতনতায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ, কোথাও জমে থাকা পানি আছে কি না, তা দেখছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সাতক্ষীরায় ডেঙ্গর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর, কামালনগর, মুনজিতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি যান তারা। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাড়ির আশপাশে পানি জমে আছে কি না, ফুলের টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো জায়গায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ আছে কি না, তা দেখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবকেরা বাসিন্দাদের বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধের বড় একটি কাজ শুরু করতে হবে নিজের বাড়ি থেকেই। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত ফেলে দিতে হবে। যেসব পাত্রে পানি রাখা হয়, সেগুলো ঢেকে রাখতে হবে। ছাদ, বারান্দা, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের জায়গাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত পাত্র বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।

ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি এস এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক পরিবার যদি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে, তাহলে সংক্রমণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমেছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য ভিবিডির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কারও জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গণর অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে রোগী হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ খুলনা ডিভিশন বোর্ডের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্টের হিউম্যান রিসোর্স অফিসার তানজিল আলম, ট্রেজারার নাজমুল হাসান, সদর উপজেলা কমিটির করিমুন্নেসা শান্তা, কমিটি মেম্বার গোলাম হোসেন, তানভীর আঞ্জুম খান, সামির চৌধুরী, শিশু সদস্য ফালাকসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকেরা।

সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গণর বিস্তার রোধ করতে এমন বার্তা নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে ভিবিডি সাতক্ষীরা।

 

বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে জেলা বিএসপির বর্ধিত সভা শুক্রবার সকাল ১০ টায় সদস্য তপন কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সভা পবিত্র গীতা পাঠ দিয়ে শুরু হয়। কারাবন্দি চিন্ময় প্রভুর মাতা সন্ধ্যা রানী ধর বৃহস্পতিবার মারা যাওয়ায় তারসহ সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সনাতনীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সকল উপজেলা কমিটি গঠণ করে কিভাবে জেলা কমিটিকে শক্তিশালী করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের জমি উদ্ধার, জবরদখলমুক্তকরণ, জোড়া শিবমন্দিরের ৬৬ বিঘা জমি উদ্ধার, ঝাউডাঙা জগন্নাথদেবের মন্দিরের জায়গা উদ্ধার, দেবহাটার পাইকপাড়ার রাধা গোবিন্দ মন্দিরের জমি উদ্ধার, সদস্য সমীরণ চক্রবর্তী, চম্পাফুলের মাধবী মন্ডলের জবরদখলকৃত জমিসহ জেলা জুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জবরদখলকৃত জমি প্রশাসনের সহযোগিতায় ও আইনি প্রক্রিয়ায় কিভাবে উদ্ধার করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

আসন্ন দুর্গা পুজা উপলক্ষে করণীয়, হিন্দু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়, ধর্মান্তর প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এছাড়া সংগঠন মজবুত করতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিএসপির জেলা কমিটির সদস্য মিহির কান্তি সরকার, পরিতোষ কুমার গাইন,প্রতিমা রানী হালদার, সমীর কুমার দাস, প্রশান্ত কুমার পাল, ধীমান সরকার, প্রশান্ত সরকার প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএসপির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচীব মনোদ্বীপ কুমার মন্ডল।